পাবনায় স্কুলশিক্ষার্থীকে ধর্ষণ ও হত্যায় জড়িত মোস্তফার বাড়ি হাতুড়ি-শাবল দিয়ে গুঁড়িয়ে দিচ্ছে বিক্ষুব্ধ জনতা। শুক্রবার সদর উপজেলার কুলুনিয়া গ্রামে -যুগান্তর
পাবনায় ধর্ষণের পর শিশু কামরুন্নাহার কলিকে (১০) হত্যার ঘটনায় গ্রেফতার প্রধান অভিযুক্ত মোস্তফা কামালের (৫৫) বাড়িতে হামলা চালিয়ে ব্যাপক ভাঙচুর করেছে উত্তেজিত গ্রামবাসী। শুক্রবার জুমার নামাজের পর প্রায় ২ ঘণ্টা ধরে সদর উপজেলার দোগাছী ইউনিয়নের কুলুনিয়া গ্রামে তারা এ ভাঙচুর চালান। এসময় ক্ষুব্ধ জনতা মোস্তফার বাড়িতে চড়াও হয়ে হাতুড়ি, শাবল দিয়ে দ্বিতল বাড়ির বিভিন্ন অংশ ভেঙে গুঁড়িয়ে দেয়।
প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, জুমার নামাজ শেষে বেলা ৩টার দিকে আশপাশের বিভিন্ন গ্রাম থেকে শত শত মানুষ এসে মোস্তফার বাড়ির সামনে জড়ো হন। এ সময় অনেকে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুক লাইভে অন্যদেরও হাতুড়ি ও শাবল নিয়ে আসার আহ্বান জানান। পরে বিক্ষুব্ধ জনতা স্লোগান দিতে দিতে হাতুড়ি ও শাবল দিয়ে বাড়ির মূল গেট ও সীমানাপ্রাচীর ভেঙে গুঁড়িয়ে দেয়। ক্ষুব্ধ জনতা ঘরের ভেতরে প্রবেশ করে বিভিন্ন আসবাবপত্র ও অন্যান্য জিনিসপত্র ভেঙে চূর্ণ-বিচূর্ণ করে। এ সময় শত শত নারীও ধর্ষকদের বিরুদ্ধে কঠোর স্লোগান দেন এবং ফাঁসির দাবি জানান। বিক্ষুব্ধ জনতার স্পষ্ট বক্তব্য ছিল, প্রশাসন যদি এ হত্যাকাণ্ডের বিচার করতে না পারে, তবে যেন অপরাধীদের তাদের হাতে ছেড়ে দেওয়া হয়।
পাবনা সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) তরিকুল ইসলাম জানান, ঘটনাস্থলে আগে থেকে পুলিশ মোতায়েন থাকলেও গ্রামবাসীর বিশাল জনস্রোতের তুলনায় সংখ্যায় কম থাকায় তাৎক্ষণিকভাবে তাদের বাধা দেওয়া সম্ভব হয়নি। পরে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে এলাকায় অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়। এদিকে দুই আসামিকে শুক্রবার আদালতে সোপর্দ করে পাঁচ দিনের রিমান্ড আবেদন করে পুলিশ। আদালত রোববার রিমান্ড আবেদনের ওপর শুনানির দিন ধার্য করেন।
