ইংল্যান্ড ও ওয়েলসের ২ লাখেরও বেশি আইনজীবীর প্রতিনিধিত্বকারী পেশাজীবী সংগঠন দ্য ল’ সোসাইটি অব ইংল্যান্ড অ্যান্ড ওয়েলস বাংলাদেশে আইনজীবীদের ওপর নিপীড়ন ও রাজনৈতিক হয়রানির বিরুদ্ধে তীব্র নিন্দা ও উদ্বেগ প্রকাশ করেছে।
সংগঠনটি বাংলাদেশে বর্তমানে ক্ষমতাসীন ড. ইউনূসের অন্তর্বর্তী সরকারের উদ্দেশে একটি খোলা চিঠি দিয়েছে, যাতে বলা হয়েছে—বাংলাদেশে আইনজীবীদের পেশাগত স্বাধীনতা ক্রমাগত হুমকির মধ্যে রয়েছে, যা দেশের আইনের শাসন প্রতিষ্ঠার জন্য গুরুতর উদ্বেগজনক এক পরিস্থিতি।
চিঠিতে বিশেষভাবে উল্লেখ করা হয়েছে, মানবাধিকার আইনজীবী অ্যাডভোকেট মোহাম্মদ আলমগীরের ওপর সাম্প্রতিক সময়ে অব্যাহত হুমকি, হামলা ও রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিত হয়রানির বিষয়টি।
ল’ সোসাইটি জানায়, গত ৮ই নভেম্বর ভোররাতে ব্রাহ্মণবাড়িয়ার আখাউড়ায় আলমগীরের গ্রামের বাড়িতে পুলিশ ও স্থানীয় বিএনপি নেতাকর্মীরা যৌথভাবে অভিযান চালায়। আলমগীর না থাকায় পুলিশ তার এক প্রতিবেশীকে আটক করে—যা স্থানীয় জনতার মাঝে ব্যাপক আতঙ্ক সৃষ্টি করেছে।
ল’ সোসাইটি জানিয়েছে, এই ঘটনা বাংলাদেশের আইনজীবীদের বিরুদ্ধে চলমান ভয়ভীতি-হুমকি, রাজনৈতিক প্রতিহিংসা, পেশাগত স্বাধীনতায় হস্তক্ষেপ ও হয়রানির ধারাবাহিকতারই অংশ।
অ্যাডভোকেট আলমগীর দীর্ঘদিন ধরে মানবাধিকার লঙ্ঘনের নথিপত্র তৈরি এবং সংখ্যালঘু, সংখ্যালঘু জনগোষ্ঠী ও ভিন্নমতের রাজনৈতিক ব্যক্তিদের আইনি সহায়তা দিয়ে আসছেন। এই কারণেই তাকে হত্যার হুমকি দেওয়ার পাশাপাশি তিনি চাঁদাবাজি ও শারীরিক হামলার শিকার হয়েছেন বলেও চিঠিতে উল্লেখ করা হয়।
সংগঠনটি জানিয়েছে, এসব হামলা ও হুমকি প্রধানত বিএনপি–জামায়াত–সংশ্লিষ্ট গোষ্ঠী ও মৌলবাদী সংগঠনগুলো থেকে এসেছে। আরও উদ্বেগজনক বিষয় হলো—সাম্প্রতিক অভিযানে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর জড়িত থাকার অভিযোগ, যা রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিত নিপীড়নের ইঙ্গিত দিচ্ছে।
চিঠিতে ল’ সোসাইটি উল্লেখ করেছে, আন্তর্জাতিক মানদণ্ড অনুযায়ী (বিশেষ করে ICCPR-আন্তর্জাতিক নাগরিক ও রাজনৈতিক অধিকার সনদ এবং আইনজীবীদের পেশাগত অধিকার ও দায়িত্ব সংক্রান্ত বিষয়ক জাতিসংঘের মৌলিক নীতিমালা) বাংলাদেশ সরকার আইনজীবীদের সুরক্ষা, স্বাধীনতা ও নিরাপদ পরিবেশ নিশ্চিত করতে বাধ্য।
চিঠিতে চার দফা দাবি তুলে ধরে ল’ সোসাইটি বলেছে:
১) অ্যাডভোকেট আলমগীরের বিরুদ্ধে চলমান অভিযানের স্বাধীন তদন্ত ও তার পরিবারের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে হবে,
২) পেশাগত দায়িত্ব পালনের কারণে আইনজীবীদের বিরুদ্ধে দায়ের করা সব মামলা প্রত্যাহার করতে হবে,
৩) আইনজীবীদের স্বাধীনভাবে কাজের পরিবেশ নিশ্চিত করতে হবে,
৪) আইনজীবী সুরক্ষায় নতুন আন্তর্জাতিক কনভেনশন স্বাক্ষরের বিষয়ে বাংলাদেশের বিবেচনা করা উচিত।
ল’ সোসাইটি জানায়, তারা অ্যাডভোকেট মোহাম্মদ আলমগীরসহ বাংলাদেশের অন্যান্য ঝুঁকিপূর্ণ আইনজীবীদের পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ অব্যাহত রাখবে।
সংগঠনটির প্রকাশ্য চিঠির অনুলিপি পাঠানো হয়েছে ঢাকার ব্রিটিশ হাইকমিশনার, লন্ডনে বাংলাদেশের হাইকমিশনার, জেনেভায় বাংলাদেশের স্থায়ী মিশন এবং জাতিসংঘের বিচারক ও আইনজীবীদের স্বাধীনতা বিষয়ক বিশেষ প্রতিবেদকের কাছে।
