গ্লোবাল বাংলাদেশ ইউনিটি নেটওয়ার্ক (জিবিইউএন) বাংলাদেশজুড়ে সাম্প্রতিক সময়ে সংঘটিত একের পর এক চরমপন্থী সহিংস ঘটনায় গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করে তীব্র নিন্দা জানিয়েছে।
সংগঠনটির মতে, এসব ঘটনা মানবাধিকার, সংখ্যালঘু জনগোষ্ঠীর নিরাপত্তা, সাংস্কৃতিক ও মতপ্রকাশের স্বাধীনতা, সংবাদমাধ্যমের স্বাধীনতা, জাতীয় ঐতিহ্য এবং আন্তর্জাতিক কূটনৈতিক নীতিমালার ওপর সরাসরি আঘাত হেনেছে। একই সঙ্গে এটি দেশে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির মারাত্মক অবনতি ও রাষ্ট্রের দায়িত্ব পালনে ব্যর্থতার প্রতিফলন।
জিবিইউএন ময়মনসিংহের ভালুকায় ধর্ম অবমাননার অভিযোগে হিন্দু যুবক দীপু চন্দ্র দাসকে উগ্রপন্থী জনতার হাতে নৃশংসভাবে পিটিয়ে হত্যা করার ঘটনায় গভীর শোক ও ক্ষোভ প্রকাশ করেছে।
অভিযোগ অনুযায়ী, তাকে গাছে বেঁধে নির্মম নির্যাতনের পর হত্যা করা হয় এবং পরে মরদেহে আগুন দেওয়া হয়। সংগঠনটি বলেছে, এই বর্বর হত্যাকাণ্ড সংখ্যালঘু সুরক্ষা, মানবিক মূল্যবোধ ও আইনের শাসনের ভয়াবহ ব্যর্থতার দৃষ্টান্ত এবং এতে দেশে ধর্মীয় সংখ্যালঘুদের ক্রমবর্ধমান অনিরাপত্তা আরও স্পষ্ট হয়ে উঠেছে।
চট্টগ্রামে ভারতীয় সহকারী হাইকমিশনে হামলা ও পাথর নিক্ষেপের ঘটনাকেও জিবিইউএন কঠোরভাবে নিন্দা করেছে। সংগঠনটির মতে, একটি বিদেশি কূটনৈতিক মিশনে হামলা আন্তর্জাতিক কূটনৈতিক রীতিনীতি ও ভিয়েনা কনভেনশনের সুস্পষ্ট লঙ্ঘন, যা বাংলাদেশের আন্তর্জাতিক ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ন করছে এবং আঞ্চলিক আস্থা ও স্থিতিশীলতাকে প্রশ্নের মুখে ফেলছে।
ধানমন্ডিতে দেশের অন্যতম শীর্ষ সাংস্কৃতিক প্রতিষ্ঠান ছায়ানটে ভাঙচুর, লুটপাট ও অগ্নিসংযোগের ঘটনায়ও গভীর উদ্বেগ জানিয়েছে জিবিইউএন। সংগঠনটি বলেছে, বাদ্যযন্ত্র ও শিল্পকর্ম ধ্বংসের মাধ্যমে বাংলা সংস্কৃতি, ধর্মনিরপেক্ষ চেতনা, মুক্ত চিন্তা ও শিল্পীসত্তার ওপর পরিকল্পিত আঘাত হানা হয়েছে, যা চরমপন্থার বিরুদ্ধে সাংস্কৃতিক প্রতিরোধকে দমন করার প্রচেষ্টা।
একই সঙ্গে ধানমন্ডি ৩২ নম্বরে বঙ্গবন্ধু স্মৃতি জাদুঘরে অগ্নিসংযোগ, ভাঙচুর ও বুলডোজার দিয়ে ধ্বংসের ঘটনাকে জাতীয় ইতিহাস, সংবিধান এবং মুক্তিযুদ্ধের চেতনার ওপর সরাসরি আক্রমণ হিসেবে উল্লেখ করেছে জিবিইউএন। সংগঠনটির মতে, বারবার প্রকাশ্যে এ ধরনের হামলা সংঘটিত হওয়া এবং কার্যকর প্রতিরোধ বা জবাবদিহির অভাব রাষ্ট্রের দায়িত্ব নিয়ে গুরুতর প্রশ্ন তুলছে।
কারওয়ান বাজারে দৈনিক প্রথম আলো ও দ্য ডেইলি স্টারের কার্যালয়ে অগ্নিসংযোগ ও ধ্বংসযজ্ঞের ঘটনাকেও সংবাদমাধ্যমের স্বাধীনতার ওপর ভয়াবহ আঘাত হিসেবে আখ্যা দিয়েছে জিবিইউএন। প্রথম আলোর ভবন সম্পূর্ণ পুড়ে যাওয়া এবং দ্য ডেইলি স্টারের কার্যালয়ের মারাত্মক ক্ষতির পাশাপাশি ভেতরে অবস্থানরত সাংবাদিকদের প্রাণনাশের ঝুঁকিতে পড়ার ঘটনাকে সংগঠনটি গণতন্ত্র ও মুক্ত মতপ্রকাশের জন্য চরম হুমকি বলে উল্লেখ করেছে।
এই প্রেক্ষাপটে জিবিইউএন জাতিসংঘ, আন্তর্জাতিক মানবাধিকার সংস্থা, গণতান্ত্রিক রাষ্ট্রসমূহ, বৈশ্বিক গণমাধ্যম ও আন্তর্জাতিক সুশীল সমাজের প্রতি জরুরি ও দৃশ্যমান পদক্ষেপ নেওয়ার আহ্বান জানিয়েছে।
সংগঠনটি বলেছে, সংখ্যালঘু হত্যা, কূটনৈতিক মিশন, সাংস্কৃতিক প্রতিষ্ঠান ও সংবাদমাধ্যমে হামলার ঘটনাগুলো কোনোভাবেই কেবল অভ্যন্তরীণ বিষয় নয়; এগুলো আন্তর্জাতিক মানবাধিকার, ধর্মীয় স্বাধীনতা, সংবাদমাধ্যমের স্বাধীনতা এবং আইনের শাসনের সঙ্গে সরাসরি সম্পৃক্ত। এসব গুরুতর লঙ্ঘনের বিরুদ্ধে কার্যকর পদক্ষেপ না নিলে চরমপন্থা স্বাভাবিক হয়ে উঠবে এবং আন্তর্জাতিক মানবাধিকার ব্যবস্থা দুর্বল হয়ে পড়বে বলে জিবিইউএন সতর্ক করেছে।
