২০২৪ সালের ৫ই আগস্ট থানা পুড়িয়ে, এসআই সন্তোষকে পুলিশ-সেনাবাহিনীর কাছ থেকে ছিনিয়ে নিয়ে হত্যার কথা খোদ পুলিশের সামনেই দম্ভভরে স্বীকার করেছেন বৈছা নেতা মাহদী হাসান।
‘জুলাইযোদ্ধা’কে থানা থেকে ছাড়িয়ে আনতে গিয়ে ওসির সঙ্গে বৈষম্যবিরোধী ছাত্র (বৈছা) আন্দোলনের হবিগঞ্জ জেলা শাখার সাধারণ সম্পাদক মাহদী হাসান পুলিশ হত্যার কথা তুলে ধরে গর্বের সাথে নিজের পরিচয় জানান দেন। এ সংক্রান্ত একটি ভিডিও সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ভাইরাল হয়েছে।
ছড়িয়ে পড়া ভিডিওতে বৈছা নেতা আঙ্গুল তুলে সহকারি পুলিশ সুপার ও ওসিকে শাসাচ্ছিলেন, কেন জুলাইযোদ্ধা এনামুলকে আটক করা হলো।
তিনি ওসিকে বলেন, ‘আন্দোলনের কারণে আজ এই প্রশাসন বসেছে। আমরা বানিয়াচং থানা পুড়িয়েছি, এসআই সন্তোষকে আমরা জ্বালিয়ে দিয়েছি।’
উল্লেখ্য, ৫ই আগস্ট জুলাইযোদ্ধারা বানিয়াচং, আজমিরিগঞ্জ থানায় নারকীয় হামলা চালান। আগুনে থানা পুড়িয়ে অস্ত্র লুট করা হয়। পুলিশকে উদ্ধারে সেনাবাহিনী গেলে সেনাবাহিনীর কাছ থেকেই পুলিশের এসআই সন্তোষকে ছিনিয়ে নিয়ে হত্যা করে গাছে ঝুলিয়ে দিয়ে আগুনে পুড়িয়ে দেন জুলাইযোদ্ধারা। এই নারকীয় ঘটনা নিয়ে সেসময় সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ছাড়া কোনও শীর্ষ গণমাধ্যমে সংবাদ হয়নি।
এখনো আতঙ্কে আছে এসআই সন্তোষের পরিবার। পাননি কোনো ন্যায়বিচার এমনকি দায়িত্ব পালনরত অবস্থায় শহিদ হওয়ায় বাহিনীর পক্ষ থেকে কোনো সুযোগ-সুবিধাও নয়।
জানা যায়, ২রা জানুয়ারি, শুক্রবার ভোরে জুলাইযোদ্ধা এনামুল হাসান নয়নকে নানা অভিযোগের প্রেক্ষিতে আটক করে শায়েস্তাগঞ্জ থানায় নেওয়া হয়। পরে দুপুরে থানা থেকে তাকে ছাড়িয়ে আনতে যান জেলার বৈছা নেতারা। সদর সার্কেলের সহকারী পুলিশ সুপার শহিদুল হক মুন্সীর মধ্যস্থতায় এনামুল হক নয়নকে জোর করে ছাড়িয়ে নিয়ে যান বৈছা নেতারা।
বৈছা নেতা মাহদীর দাবি, নয়ন ইতিপূর্বে ছাত্রলীগের রাজনীতির সঙ্গে জড়িত থাকলেও জুলাইয়ে দল ছেড়ে তাদের সাথে সম্মুখ সারিতে লড়াই করেন। তিনি জুলাইযোদ্ধা।
মাহদী বলেন, নয়নকে ছাড়াতে শুরুতে আমরা থানার ওসিকে বিষয়টি সুরাহা করার জন্য বললেও তিনি পাত্তা দেননি। পরে সহকারী পুলিশ সুপারের মধ্যস্থতায় ছেড়ে দেওয়া হয়েছে। না ছাড়ালে ঘটনা অন্যদিকে মোড় নিতো বলে জানান তিনি।
শায়েস্তাগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. আবুল কালাম জানান, আমরা ছাত্রলীগের ২০২৩ সালের কমিটি অনুসারে এনামুলকে আটক করেছি। পরবর্তীতে বিষয়টি উভয়পক্ষের মধ্যস্থতায় এনামুল হাসান তাকে ছেড়ে দেওয়া হয়েছে।
ইতিমধ্যে একাধিক বৈছা কর্মী নাম প্রকাশ না করার শর্তে নিশ্চিত করেন, এনামুল হাসান নয়ন ছাত্রলীগের কমিটিতে থাকলেও মূলত সে এবং তার পরিবার জামায়াতপন্থী।
