ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের দিন যতই ঘনিয়ে আসছে, ততই দেশে সাম্প্রদায়িক সহিংসতা উদ্বেগজনকভাবে বেড়ে চলেছে বলে জানিয়েছে বাংলাদেশ হিন্দু বৌদ্ধ খ্রিস্টান ঐক্য পরিষদ।
সাম্প্রতিক সহিংসতার ধারাবাহিকতায় সারা দেশের সংখ্যালঘু জনগোষ্ঠী ভবিষ্যৎ নিয়ে গভীর শঙ্কা ও আতঙ্কে দিন কাটাচ্ছে বলে জানিয়েছে সংগঠনটি।
ঐক্য পরিষদের তথ্যমতে, গত ডিসেম্বর মাসে সারাদেশে অন্তত ৫১টি সাম্প্রদায়িক সহিংসতার ঘটনা ঘটেছে।
এর মধ্যে হত্যা ১০টি, চুরি ও ডাকাতি ১০টি, বাড়িঘর, ব্যবসা প্রতিষ্ঠান, মন্দির ও জমিজমা দখল, লুটপাট ও অগ্নিসংযোগ ২৩টি, ধর্মীয় অবমাননা ও ‘র’-এর দালাল অভিযোগে আটক ও নির্যাতন ৪টি, ধর্ষণচেষ্টা ১টি এবং দৈহিক নির্যাতনের ঘটনা ৩টি।
মঙ্গলবার বাংলাদেশ হিন্দু বৌদ্ধ খ্রিস্টান ঐক্য পরিষদের ভারপ্রাপ্ত সাধারণ সম্পাদক মনীন্দ্র কুমার নাথ স্বাক্ষরিত এক বিবৃতিতে এসব দাবি জানানো হয়েছে।
চলতি বছরের জানুয়ারি মাসের প্রথম সপ্তাহেও সহিংসতার এই ধারা অব্যাহত রয়েছে বলে জানিয়েছে সংগঠনটি।
সংগঠনটি জানায়, ২ জানুয়ারি লক্ষ্মীপুরের রামগতিতে সত্যরঞ্জন দাসের ৯৬ শতক জমির ধানক্ষেতে আগুন দেওয়া হয়। ৩ জানুয়ারি শরীয়তপুরে কুপিয়ে ও শরীরে আগুন দিয়ে ব্যবসায়ী খোকন চন্দ্র দাসকে হত্যা করা হয়।
একই দিন ভোরে চট্টগ্রামের বোয়ালখালী উপজেলার আমুচিয়া ইউনিয়নের চার নম্বর ওয়ার্ডে মিলন দাসের বাড়ির সবাইকে জিম্মি করে ডাকাতির ঘটনা ঘটে।
একই ধরনের আরেকটি ঘটনা ঘটে কুমিল্লার হোমনায়, যেখানে সানু দাসের বাড়ি থেকে ১০ ভরি স্বর্ণালংকার, ১২ ভরি রূপা ও নগদ ২০ হাজার টাকা লুট করা হয়।
৪ জানুয়ারি শুভ পোদ্দার নামে এক স্বর্ণ ব্যবসায়ীকে মুখ বেঁধে তার দোকান থেকে প্রায় ৩০ ভরি স্বর্ণালংকার লুট করা হয়। একই দিন ঝিনাইদহের কালিগঞ্জে ৪০ বছর বয়সী এক হিন্দু বিধবা নারীকে ধর্ষণ করে গাছের সঙ্গে বেঁধে মাথার চুল কেটে নির্যাতনের অভিযোগ ওঠে।
একই সময়ে কুড়িগ্রামের জেলা প্রশাসক ও রিটার্নিং অফিসার অন্নপূর্ণা দেবনাথকে নির্বাচন সংক্রান্ত দায়িত্ব পালনের কারণে ‘ফ্যাসিস্ট সরকারের দোসর’ ও ‘ইসকনের সদস্য’ আখ্যা দিয়ে তার অপসারণের দাবি তোলে ধর্মান্ধ একটি গোষ্ঠী।
এছাড়া ৪ জানুয়ারি দিনাজপুরের বোচাগঞ্জ উপজেলার বাড়েয়া গ্রামে চাঁদাবাজির ঘটনায় স্থানীয় এনসিপি নেতা এম এ তাফসীর ও তার সহযোগী মঞ্জুরুল আলমকে পুলিশ আটক করে।
গত ৫ জানুয়ারি যশোরের মনিরামপুরে বরফকল ব্যবসায়ী ৩৭ বছর বয়সী রানা প্রতাপ বৈরাগীকে ব্যবসা প্রতিষ্ঠান থেকে ডেকে নিয়ে প্রকাশ্যে গুলি করে ও গলা কেটে হত্যা করা হয়।
একই দিন নরসিংদীর পলাশে মুদিদোকানি মণি চক্রবর্তীকে ছুরিকাঘাতে হত্যা করা হয়। ঐক্য পরিষদের মতে, এ ধরনের আরও বহু লোমহর্ষক ঘটনা ঘটেছে, যার পূর্ণাঙ্গ তথ্য এখনো পাওয়া যায়নি।
বাংলাদেশ হিন্দু বৌদ্ধ খ্রিস্টান ঐক্য পরিষদের কেন্দ্রীয় কমিটি এক বিবৃতিতে এসব ঘটনার তীব্র নিন্দা ও গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেছে।
সংগঠনটির দাবি, চলমান সহিংসতায় সংখ্যালঘু জনগোষ্ঠী নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছে এবং আসন্ন জাতীয় সংসদ নির্বাচনে নির্ভয়ে ও নির্বিঘ্নে ভোট দেওয়ার বিষয়ে তারা শঙ্কিত হয়ে পড়েছে।
ঐক্য পরিষদের মতে, নির্বাচনে সংখ্যালঘুদের পছন্দের প্রার্থীকে ভোট দিতে বাধা দিতেই একটি সাম্প্রদায়িক দুর্বৃত্তচক্র পরিকল্পিতভাবে এসব সহিংসতা চালিয়ে যাচ্ছে। অবিলম্বে এসব সহিংসতা রোধে কার্যকর ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য সরকার ও নির্বাচন কমিশনের প্রতি জোর দাবি জানিয়েছে সংগঠনটি।
