বাংলাদেশ পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয় প্রগতিশীল শিক্ষক সমাজ জামায়াতে ইসলামীর আমির শফিকুর রহমানকে সমগ্র দেশবাসী ও নারী সমাজের কাছে প্রকাশ্যে নিঃশর্ত ক্ষমা চাওয়ার দাবি জানিয়েছে।
১লা ফেব্রুয়ারি, শনিবার প্রকাশিত এক বিবৃতিতে সংগঠনটি জানায়, কর্মজীবী নারীদের ‘পতিতার’ সঙ্গে তুলনা করে দেওয়া শফিকুর রহমানের বক্তব্য চরম কুরুচিপূর্ণ, নারীবিদ্বেষী এবং মানবাধিকারের প্রতি সরাসরি অবমাননাকর।
শিক্ষক সমাজের মতে, এ ধরনের বক্তব্য শুধু নারীদের প্রতি ঘৃণার প্রকাশ নয়; এটি ১৯৭১ সালের মুক্তিযুদ্ধে জামায়াতের স্বাধীনতাবিরোধী অবস্থান ও সাম্প্রদায়িক রাজনীতির ধারাবাহিক বহিঃপ্রকাশ।
বিবৃতিতে আরও বলা হয়, এর আগেও জামায়াতের এক নেতা ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদ (ডাকসু)-কে ‘বেশ্যাখানা’ বলে যে মন্তব্য করেছিলেন, তা প্রমাণ করে—এ ধরনের বক্তব্য বিচ্ছিন্ন নয়; বরং জামায়াতের রাজনৈতিক দর্শনের অংশ।
শিক্ষক সমাজ স্মরণ করিয়ে দেয়, লাখো মা-বোনের ত্যাগ ও রক্তের বিনিময়ে বাংলাদেশ স্বাধীন হয়েছে। অথচ মুক্তিযুদ্ধের সময় জামায়াত-শিবির গোষ্ঠী পাকিস্তানি বাহিনীর হাতে নারী নির্যাতনে সহযোগিতা করেছিল। বর্তমান সময়ে রাষ্ট্র ও সমাজের সর্বস্তরে নারীদের গুরুত্বপূর্ণ অবদানের পরও তাদের বিরুদ্ধে এমন মন্তব্য গ্রহণযোগ্য নয় বলে বিবৃতিতে উল্লেখ করা হয়।
বিবৃতিতে স্পষ্ট করে বলা হয়, দলীয় প্রধান হিসেবে শফিকুর রহমানের এই বক্তব্যের দায় এড়ানোর সুযোগ নেই। তাই তাকে বাঙালি জাতি ও নারী সমাজের কাছে প্রকাশ্যে নিঃশর্ত ক্ষমা চাইতে হবে।
এ ছাড়া নারী বিদ্বেষ, নারী নির্যাতন ও সাম্প্রদায়িক অপশক্তির বিরুদ্ধে ঐক্যবদ্ধ গণতান্ত্রিক প্রতিরোধ গড়ে তোলার আহ্বান জানানো হয়। একই সঙ্গে অবাধ, সুষ্ঠু, নিরপেক্ষ ও অংশগ্রহণমূলক নির্বাচনের মাধ্যমে একটি গণতান্ত্রিক বাংলাদেশ গড়ে তোলার ওপর গুরুত্ব আরোপ করা হয়।
বিবৃতিতে স্বাক্ষর করেন সংগঠনের দপ্তর সম্পাদক ও রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের লোক প্রশাসন বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক ড. মাহবুব আলম প্রদীপ।
