বারখার ডায়েরি
আমি আমৃত্যু জামায়াতের বিরোধিতা করে যাব। এটা কোনো আবেগী উচ্চারণ না, এটা আমার আদর্শের অবস্থান। তবু এবারের নির্বাচনে এত হাইপ, এত আত্মবিশ্বাস, এত সোশাল মিডিয়ার ঝড় তোলার পরও জামায়াত কেন তাদের প্রত্যাশামতো ফল করতে পারলো না—এই প্রশ্নটার উত্তর না খুঁজলে বাংলাদেশের রাজনীতিকে বোঝা যাবে না।
এই লেখাটা সেই জায়গা থেকেই। এখানে প্রশংসা নেই, কিন্তু অন্ধ বিদ্বেষও নেই। আছে জনমনের পাঠ, ভয়, লজ্জা, ইতিহাস আর রাষ্ট্রীয় বাস্তবতার ঠান্ডা বিশ্লেষণ।
জামায়াত এবারে দুটো তথাকথিত ইতিবাচক ন্যারেটিভের ওপর দাঁড়িয়ে অতি আত্মবিশ্বাসী হয়ে উঠেছিল।
প্রথম ন্যারেটিভটা ছিল—সীমাহীন দুর্নীতি, নৈরাজ্য আর অপশাসনের বিপরীতে দাড়ি
–টুপি–জোব্বার এক ধরনের ভিজুয়াল পবিত্রতা দাঁড় করানো, আর বলা—“আপনার শেষ ভরসা হিসেবে আমাকে একটা সুযোগ দিন।”
খুব দ্রুতই এই বয়ানটা আরেক ধাপে উঠে গিয়েছিল—জামায়াতকে ভোট দেওয়া মানেই যেন বেহেশতের টিকিট পাওয়া।
কিন্তু বাঙালি এই ‘শেষ ভরসা’ বয়ানে আশ্বস্ত হয়নি, বরং আতঙ্কিত হয়েছে। কারণ দাড়ি–টুপি–জোব্বার এই ভিজুয়াল পবিত্রতার ভেতরে মানুষ বিনয় দেখেনি, দেখেছে নৈতিক উচ্চমন্যতার অহংকার।
এক ধরনের ‘সুপার ইসলাম’ পজিশনিং—যেখানে ইঙ্গিতটা পরিষ্কার: আমরাই খাঁটি, বাকিরা সবাই পথভ্রষ্ট, সন্দেহজনক, অথবা গোনাহগার।
এই অহংকারের চরম প্রকাশ দেখা গেছে জামায়াতের এক নেতার বক্তব্যে—যেখানে তিনি নির্দ্বিধায় বলেন,
“আমাকে যারা চেনে না তারা এখনও মাটির নিচে থাকে, আমার জন্য আল্লাহ আছে, আমার জন্য সূর্য দাঁড়িয়ে থাকবে।”
আশ্চর্যের বিষয় হলো, এই বক্তব্যে সবচেয়ে বেশি বিচলিত হয়েছে ধর্মভীরু মানুষরাই। তারা প্রকাশ্যে না হলেও চুপিচুপি বলতে শুরু করলেন—এইটা তো শিরক। এখানেই জামায়াত মারাত্মক ভুলটা করেছে। তারা বুঝতে পারেনি ধর্ম আর অহংকার এক জিনিস না। ধর্ম মানে বিনয়, ধর্ম মানে সীমা জানা। সেই সীমা না মানার ফলেই ধার্মিক মানুষরাও ধীরে ধীরে সরে দাঁড়িয়েছে।
দ্বিতীয় বড় ন্যারেটিভটা ছিল ১৯৭১ প্রশ্নে। জামায়াত ধরে নিয়েছিল—যেহেতু প্রায় সাড়ে পাঁচ কোটি ভোটার একাত্তর দেখেনি, তাই ইনকিলাব মঞ্চে তৈরি করা একাত্তরের বিকৃত গল্পটাই তারা সহজে গিলবে।
সেখানে বঙ্গবন্ধুকে দেখানো হয়েছে উন্মত্ত, প্রতিহিংসাপরায়ণ, কুটিল এক দানব হিসেবে। ভারতীয় দালাল হিসেবে।
ভারত-বিরোধিতার নামে বাংলাদেশ সৃষ্টির মিনিমাম গ্রহণযোগ্য ইতিহাসটুকুকেও অস্বীকার করা হয়েছে। ইতিহাসের সকল জায়গা থেকে এই মানুষটাকে উচ্ছেদ করার সকল রকম প্রচেষ্টা তারা করেছে। এবং সফলভাবে তারা করেছে কিন্তু ফলের চিন্তা করে নাই।
এখানেই জামায়াত রেডলাইন ক্রস করেছে। এই সীমালঙ্ঘন আরও ভয়াবহ হয়েছে যখন তারা বলতে শুরু করেছে—
১৯৭১ সালে পাকিস্তানিরা কোনো বৈষম্য করেনি, মুক্তিযুদ্ধে নাকি ৩০০ বা ৩০০০ মানুষ মারা গেছে। তারা বলতে শুরু করেছে বুদ্ধিজীবীদেরকে পাকিস্তানিরা হত্যা করে না এই হত্যা করেছে ভারতীয়রা। এবং আমাদের নারী মুক্তিযোদ্ধাদেরকে তারা সরাসরি বেশ্যা ডেকেছে বিভিন্ন অনুষ্ঠানে। এবং তাদের ইউটিউব সাংবাদিক ইলিয়াস তিনি কি তারা তো বলেছে কোথায় ৩ নারী ধর্ষণ হয়েছে তাদের ডিএনএ চেক করা হোক তারা নিজেরাই পাকিস্তানের সৈন্যদেরকে মনোরঞ্জন দিয়েছে। এমন নানা কুৎসিত বক্তব্য প্রদান করেছে এবং জামাতের ফুট সোলজার অনলাইন সোলজার সেগুলা কি দেদারসে প্রচার করেছে এবং মজা নিয়েছে। তারা সোশ্যাল মিডিয়াতে দশ হাজারের বেশি এ ধরনের পিস তৈরি করেছে যেগুলা সরাসরি বাংলাদেশের ইতিহাস মুক্তিযুদ্ধ এগুলাকে সার্বক্ষণিক অপমান করেছে এবং সেইসব নেতারাই এসে বিভিন্ন জায়গায় বক্তব্য দিয়েছে টেলিভিশনে এসে আমাদের মহান স্বাধীনতাকে বারবার হেনস্থা করেছে সে যাতাতে তারা বারবার ৪৭ কে টেনে আনার চেষ্টা করেছে। কিন্তু সাধারন মানুষ এতটা বোকা না তারা জানি ৪৭ আমাদের স্বাধীনতা না সেটা আমাদের আরেকটা পরাধীনতা।
একাত্তরে তাদের নেতাদের যে নিশংস হত্যাকাণ্ডের ভূমিকাতে তারা প্রশংসা করেছে। কখনো গোলাম আযম কখনো নিজামিকে সামনে এনে স্লোগান দিয়েছে, নিজামীর বাংলায় মুজিবের ঠাঁই নাই, গোলাম আযমের বাংলায় মুজিবের ঠাঁই নাই।
তারা এই প্রশ্নে সামান্য ক্ষমা চাওয়া তো দূরের কথা, কোনো reconciliatory ভঙ্গিও তারা দেখায়নি। বরং উত্তরগুলো ছিল দাম্ভিক, আক্রমণাত্মক এবং ইতিহাসবিমুখ।
এই ইতিহাস অস্বীকারের রাজনীতির সঙ্গে যুক্ত হয়েছে ভাষার ভয়াবহ অবনমন। বিশ্ববিদ্যালয়গুলোতে ছাত্ররাজনীতিতে জয়ের পর জামায়াতঘেঁষা রাজনীতির ভাষা হয়ে উঠেছে অশ্রাব্য, অশ্লীল এবং যৌনাঙ্গ-কেন্দ্রিক গালিতে ভরা।
এখানে একটা মৌলিক পার্থক্য আছে—‘শুয়োরের বাচ্চা’ বলা এদেশের সাংস্কৃতিক ইতিহাসে এক জিনিস, আর যৌনাঙ্গ নিয়ে অশ্রাব্য গালি দেওয়া সম্পূর্ণ ভিন্ন জিনিস। দ্বিতীয়টা লজ্জা উৎপাদন করে।
মানুষ ভাবতে শুরু করেছে—আমি কি আমার ছোট মেয়ের সামনে, আমার বউ–শাশুড়ি–বোনের সামনে এই ভাষা শুনতে চাই?
এই লজ্জার মুহূর্তের পরপরই আসে ভয়—সব পর্দা ছিঁড়ে পড়ার ভয়, সভ্যতা ভেঙে পড়ার ভয়। এখান থেকেই মানুষের মনে জন্ম নিয়েছে এই ধারণা যে জামায়াত আদর্শিক রাজনীতি করে না, কারণ আদর্শের ভেতরে শালীনতা, সংযম আর পর্দা থাকে।
এই ভাষার রাজনীতিকে আরও বিষাক্ত করেছে জামায়াতঘেঁষা কিছু ইউটিউবার। তাদের গালাগালি, হম্বিতম্বি আর ধমকের ভাষা মানুষ একদম ভালোভাবে নেয়নি। বিশেষ করে মেয়েরা এবং শিক্ষিত ছেলেগুলো, যারা কম কথা বলে কিন্তু এগুলা সবকিছুই শোনে।
এটা পূর্বের ধমকের রাজনীতিরই আরেক সংস্করণ বলে মনে হয়েছে। অথচ পাঁচই আগস্টের পর আন্দোলনকারী সব জনগণ চেয়েছিল শান্তি, বৈষম্যহীন একটা সমাজ একটা দেশ। কিন্তু আসার সাথে সাথে তারা চারিদিকে বৈষম্য তৈরি করেছে একটা নির্দিষ্ট আদর্শের মানুষকে সারাদিন গালাগালি করেছে কোন কারণ ছাড়া তাদের ব্যবসা প্রতিষ্ঠান তাদের আদর্শিক ঐতিহাসিক ব্যক্তিদের কে নিয়ে কটুক্তি করেছে।
-মানুষ আসলে প্রতিবাদ করে নাই কিন্তু তারা সময় মত জবাব দিয়েছে.
নারী প্রশ্নে জামায়াতের অবস্থান ছিল নিঃসন্দেহে আত্মঘাতী। যে মুহূর্তে তারা ঘোষণা দিল—একটা আসনেও নারীকে মনোনয়ন দেওয়া হবে না—সেই মুহূর্তে নারীরা বুঝে গেছে, জামায়াতের চোখে তারা কেবল রান্নাঘর আর বিছানা।
তাদের ব্যক্তিগত উচ্চাকাঙ্ক্ষা, নেতৃত্ব, ব্যবসা করা কিংবা ‘আমি’ হিসেবে বড় হয়ে ওঠার কোনো মূল্য নেই। দেশের সবচেয়ে বড় রিয়াল ও সিম্বলিক নেতৃত্বের জায়গায় আমাকে না রাখার মানে—আমাকে কোনো নেতৃত্বেই না রাখা। একুশ শতকের পৃথিবীতে, এনজিওরা গ্রামে গ্রামে সামাজিক বিপ্লব ঘটানোর পর, গ্রামবাংলার নারী যখন মোটরসাইকেল চালায়, নারীরায় এখন ক্রিকেট খেলে নারীরা ফুটবল খেলে, নারীরা গান করে ডান্স করে, তারা ভালোবাসা দিবস পালন করে পহেলা বৈশাখ পালন করে, তাদের সামনে হঠাৎ করে মনে হয়েছে এই দরজা সব বন্ধ হয়ে যাবে। কারণ জামাতের আদর্শিক নেতা এবং তাদের সোশ্যাল মিডিয়ার প্রচারণা নারীদের সকল কর্ম কে ইসলাম বিদ্বেষী ধর্ম বিদ্বেষী হিসেবে দেখানো হয়েছে।
কিন্তু জামাতে জানিনা তাদের—এই বয়ান আর চলে না।
এখন দেশ সেই ১৪০০ বছর আগের কোন দেশ না। এখন ২১ শতাব্দি চলতেছে। নারীরা ঘর থেকে বের হয়ে মহাশূন্যে চলে গেছে।
মব রাজনীতির প্রশ্নে জামায়াত ভয়ানক ভুল করেছে। বিভিন্ন জায়গায় মব তৈরির বিরুদ্ধে তারা কোনো স্পষ্ট অবস্থান নেয়নি। কারণ তারা ইনকিলাব মঞ্চ ছাড়তে চায়নি। কেউ তাদের বোঝালো—ফেসবুকই জনতার পালস। কিন্তু তারা বুঝতে পারেনি, সাধারণ মানুষ মবকে ভয় পায়। মানুষ হাসিনার পতন চেয়েছে, কিন্তু বিরোধী শক্তির রক্ত দেখতে চায়নি।
এই দ্বন্দ্ব থেকেই মানুষের মনে ভয় জন্মেছে—জামায়াত এলে মব সমস্যা আরও বাড়বে। বঙ্গবন্ধু স্বাধীনতা কি শ্রদ্ধা করা মানুষজন এতটা কম হয়ে যায়নি এবং তাদের প্রভাব এত ছোট না যে ইনকিলাব মঞ্চ গঠন করে বয়ানবাজী করে তাদেরকে ইতিহাস থেকে মুছে ফেলার যাবে।
ভারত প্রশ্নে জামায়াত দেখিয়েছে চরম দ্বিচারিতা। একদিকে যুক্তরাষ্ট্র সফরে গিয়ে বলা হচ্ছে—ভারত আক্রমণ করলে ৫০ লাখ যুবক যুদ্ধ করবে। অন্যদিকে নির্বাচনী ইশতেহারে লেখা হচ্ছে—ভারতের সঙ্গে বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্ক গড়া হবে। মানুষের চোখে এটা দাঁড়িয়েছে—অনেক কথা, অনেক গালি, অনেক ধমক, আর ভয়াবহ কনফিউশন।
সংখ্যালঘু প্রশ্নে এই দ্বিচারিতা আরও প্রকট। জামায়াত যখন বলে ভিন্ন ধর্মের মানুষ কখনো পার্টির সদস্য হতে পারবে না, তখন মানুষ ব্যাখ্যা করে—এটা ইসলামের নামে মানুষে মানুষে বিভেদ তৈরির রাজনীতি।
অথচ একই সঙ্গে ইনকিলাব মঞ্চের একজন হিন্দু নেতার সোশাল মিডিয়া পপুলারিটিকে ব্যবহার করা হচ্ছে, তাকে disownও করা হচ্ছে না, আবার পার্টির সদস্যও বানানো হচ্ছে না। এই মুনাফিকি মানুষ ধরতে পেরেছে।
ডেইলি স্টার ও প্রথম আলো পোড়ানোর দৃশ্য এদেশের মানুষের মনে দগদগে দাগ কেটে গেছে। সবাই দেখেছে—এটা ইনকিলাবের কাজ, আর জামায়াত সেই মুহূর্তে স্পষ্টভাবে নিজেকে আলাদা করেনি। তাদের সকল ছাত্রদেরকে ঐদিন ওখানে দেখা গেছে। এবং এই দুইটা পত্রিকা কে সরাসরি ভারতের দালাল বলে তাদেরকে বাংলা জমিন থেকে নিশ্চিহ্ন করা হবে এমন স্লোগান তাদের ছাত্ররা দিয়েছে যেটা সবথেকে ভয়ানক ব্লান্ডার ছিল।
যদি তারা সেদিন বলতো—আমরা আগুন চাই না, আমরা মব জাস্টিস চাই না—তাহলে মানুষের বিশ্বাস পাওয়া সম্ভব হতো। এই নীরবতাই তাদের দায়ী বানিয়েছে।
পাঁচই আগস্টের পর জামায়াতের দম্ভ, মাসল ফ্লেক্সিং আর আস্ফালনও মানুষ ভালোভাবে নেয়নি। ৩২ নম্বরের বাড়ি ভাঙা ছিল শতভাগ ফ্যাসিস্ট কাজ—একদম ইয়াহিয়া আইয়ুব খান লেভেলের মত ৭১ বিরোধিতা। মানুষ সেদিন প্রত্যক্ষ করেছিল রাজাকার আলবদর আল শ্যামস আবার জাগ্রত হয়ে গেছে। তারা শক্তি সঞ্চয় করলেই বাংলাদেশের ইতিহাস মুছে দিবে।
এইসব ঘটনার পর ইনকিলাব মঞ্চ আর জামায়াত মানুষের চোখে একাকার হয়ে গেছে। এবং তাদের অসংখ্য নেতা কর্মী যখন বলতে শুরু করেছে ৭১ এ মুক্তিযুদ্ধারা ইসলাম বিভ্রান্ত তার ভাইয়ে ভাইয়ের ঝগড়া করেছে ভারতের চক্রান্ত। তারা সাথে সাথে এটা প্রতিবাদ করে নাই। বরং অসংখ্য নেতা কর্মী শাহারিয়ার কবিরের মত লোকজন স্বাধীনতার যুদ্ধকে সরাসরি কটুক্তি করেছে টেলিভিশনের পর্দায়।। এগুলো মানুষ ভালোভাবে নেয়নি।
এনসিপির সঙ্গে জোট বাঁধাও জামায়াতের আরেক বড় ভুল। আদর্শের রাজনীতির কথা বলে কৌশলের রাজনীতিকে আলিঙ্গন করায় আদর্শবাদী ভোটাররা বিরক্ত হয়েছে। ধরেও নিলে এনসিপির ৫ শতাংশ ভোট আছে, সেই লাভের চেয়ে ৩০টি আসন ছেড়ে দেওয়ার ক্ষতি অনেক বেশি হয়েছে। বরং জামায়াতের কাঁধে ভর করে এনসিপিই লাভবান হয়েছে।
এর সঙ্গে যোগ হয়েছে নেতৃত্ব সংকট। ডা. শফিকের অতিকথন, নারী ও মুক্তিযুদ্ধ নিয়ে দায়িত্বহীন বক্তব্য, অবৈধ টাকায় ভোট কেনার অপচেষ্টা—সবই ব্যাকফায়ার করেছে। বিশ্ববিদ্যালয়ে ছাত্রসংসদ জেতাও উল্টো ক্ষতির কারণ হয়েছে; সাদিক, আম্মারসহ কিছু ছাত্রনেতার আচরণে সাধারণ মানুষ বিরক্ত হয়েছে। তারা যেভাবে শিক্ষকদেরকে হ্যাংস্টার করেছে এগুলো সাধারণ শিক্ষার্থী এবং শিক্ষক সমাজ বুদ্ধিজীবী সমাজ মিডিয়া তারা কেউ ভালোভাবে নেই কিন্তু তারা সেই সম্পত্তিবাদ করেন নাই প্রতিবাদ করার সুযোগ যখন পেয়েছে তারা করে দিয়েছে ভোটের মাধ্যমে।
হাদির মৃত্যুতেও জামায়াত কোনো সুবিধা পায়নি। বরং ভোটারদের বড় একটা অংশ বিশ্বাস করেছে—এই মৃত্যুর পেছনে জামায়াত জড়িত। একই সঙ্গে জামায়াত ভেবেছিল সেনাবাহিনী তাদের আলাদা খাতির দেখাবে। এই ভুল আওয়ামী লীগও করেছিল। বাস্তবে সেনাবাহিনী শেষ পর্যন্ত চেয়ে চেয়ে দেখেছে—না বিশেষ সুবিধা দিয়েছে, না বিশেষ বাধা।
সবশেষে এই নির্বাচন আবারও দেখিয়ে দিয়েছে—বাংলাদেশ এখনো মূলত দুই দলের দেশ। বিএনপি জিতেছে ভোটে, আওয়ামী লীগ টিকে আছে ভোটদানের শতকরা হারে। এত বিপুল সংখ্যক মানুষের নীরব থাকা প্রমাণ করে—আওয়ামী লীগের রাজনৈতিক মৃত্যু হয়নি, আর জামায়াত সেই শূন্যস্থান পূরণ করতে পারেনি।
আমার পর্যবেক্ষণ ভুল হতে পারে। কিন্তু মানুষের নীরবতা ভুল নয়। এই নীরবতা বলছে—বাংলাদেশের মানুষ ধর্মভীরু হতে পারে, কিন্তু ধর্মের নামে অহংকার পছন্দ করে না; তারা পরিবর্তন চায়, কিন্তু অশ্লীলতা চায় না; তারা শাসক সরাতে চায়, কিন্তু স্বাধীনতা বিরোধী শক্তির ট্রেইলার দেখতে চায় না।
এই সূক্ষ্ম সত্যগুলো জামায়াত বুঝতে পারেনি। গত ১৮ মাস বিভিন্ন জায়গায় বলে আসছে মুক্তিযুদ্ধ ৭১ এগুলো বানানো গল্প, এগুলো মানুষ আর খায় না। কিন্তু তারা এই জায়গাতেই বেশি ভুল করেছে এবং ভুল করে বারবার আঘাত করেছেন।
আর না–বোঝাটাই এই নির্বাচনে তাদের সবচেয়ে বড় পরাজয়।
নোট: করা যায় বললাম কারণ হাসিনা পতনের পরে নতুন বাংলাদেশ নামে তারা যে স্লোগান তুলেছিল সেখানে তারা পুরনো বন্দোবস্ত দেখতে চাই না এটা চাইছিল কিন্তু তারা সেটা করতে গিয়ে আমাদের মৌলিক তত্ত্বকে অস্বীকার করেছে। যদিও তারা উল্লেখযোগ্য আসন পেয়েছে। কিন্তু যে হাইপ আমরা দেখেছিলাম সেখানে মনে হয়েছিল যে তারাই মাথায় আসবে এজন্য এটা পরাজয়। আর এই পরাজয় তাদের নিজেদের তৈরি।
✍️______বারখার ডায়েরি (পৃষ্ঠা ২৬৭৫)
