আলী রিয়াজ
মধ্যপ্রাচ্যে যুদ্ধের কারণে দেশের শেয়ারবাজারে আতঙ্ক তৈরি হয়েছে। একদিকে জ্বালানি সংকটে পাম্পগুলোতে দীর্ঘ লাইন অন্যদিকে মূল্যস্ফীতি ৯ শতাংশ ছাড়িয়েছে। এই প্রভাবে গতকাল শেয়ারবাজারে বড় ধরনের ধস হয়েছে। এক দিনে ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জে (ডিএসই) সূচক হারিয়েছে ২৩১ পয়েন্ট। চট্টগ্রাম স্টক এক্সচেঞ্জে সূচক কমেছে ৪১৯ পয়েন্ট। বাজারসংশ্লিষ্টরা বলছেন, বিশ্বব্যাপী যুদ্ধ পরিস্থিতির মধ্যে বিনিয়োগকারীরা চরম হতাশ। গত দেড় বছরে বিনিয়োগকারীদের জন্য কর্তৃপক্ষ ভালো কিছু দিতে পারেনি। এই কারণে বাজারে ধস নেমেছে।
জানতে চাইলে ডিএসইর পরিচালক মিনহাজ মান্নান বাংলাদেশ প্রতিদিনকে বলেন, বিনিয়োগকারীরা বিধ্বস্ত। এই বাজারে কেউ বিনিয়োগ করতে চায় না। গত দেড় বছর বিনিয়োগকারীদের শুধু প্রতিশ্রুতি দেওয়া হয়েছে। বিনিয়োগ নিরাপত্তার জন্য কিছুই করা হয়নি। এই সময়েও তারা কিছু করবে-এমন আলামত কেউ দেখছে না। বিশ্বব্যাপী যে যুদ্ধ উন্মাদনা শুরু হয়েছে তাতে মনে হয় বিনিয়োগকারীদের নিয়তি বিপক্ষে কাজ করছে। সবাই আগ্রহ হারিয়েছে। তেল আতঙ্ক তৈরি করায় শেয়ারবাজারে তার প্রভাব পড়েছে। দেশের অর্থনীতি ঘুরে দাঁড়ানোর আশা কেউ করতে পারছে না। অর্থনীতি ঘুরে দাঁড়াতে না পারলে শেয়ারবাজার দাঁড়াবে কীভাবে? জানা গেছে, ইরানে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের যৌথ হামলার পর গত সপ্তাহে লেনদেন হওয়া পাঁচ কার্যদিবসের মধ্যে চার কার্যদিবসেই দরপতন হয়। এতে এক সপ্তাহেই ডিএসইর প্রধান সূচক ৩৫৯ পয়েন্ট কমেছে। বাজার মূলধন কমেছে ২০ হাজার ৪১৩ কোটি টাকা। গতকাল ডিএসইতে লেনদেন শুরু হয় বেশির ভাগ প্রতিষ্ঠানের শেয়ার ও ইউনিটের দাম কমার মাধ্যমে। লেনদেনের শুরুতে সূচক ঋণাত্মক হয়ে পড়ে। ধস দিয়েই শেয়ারবাজারের লেনদেন শেষ হয়। দিনের লেনদেন শেষে ডিএসইতে সব খাত মিলে দাম বাড়ার তালিকায় নাম লিখিয়েছে মাত্র ১০টি প্রতিষ্ঠানের শেয়ার ও ইউনিটের। বিপরীতে দাম কমেছে ৩৭১টির। ৯টির দাম অপরিবর্তিত রয়েছে। অধিকাংশ প্রতিষ্ঠানের শেয়ার ও ইউনিটের দাম কমায় ডিএসইর প্রধান মূল্যসূচক ডিএসইএক্স আগের দিনের তুলনায় ২৩১ পয়েন্ট কমে ৫ হাজার ৮ পয়েন্টে দাঁড়িয়েছে। ডিএসইতে লেনদেন হয়েছে ৫৩১ কোটি ৮৮ টাকা। আগের কার্যদিবসে লেনদেন হয় ৪৫৯ কোটি ৪২ টাকা। লেনদেনের শীর্ষে ছিল সিটি ব্যাংকের শেয়ার। প্রতিটি ২ টাকা ২০ পয়সা কমে ২৭ টাকা ৯০ পয়সায় কোম্পানিটির ২৫ কোটি ৬৮ লাখ টাকার শেয়ার লেনদেন হয়েছে। দ্বিতীয় স্থানে থাকা ব্র্যাক ব্যাংকের শেয়ার লেনদেন হয়েছে ২২ কোটি ৪৮ লাখ টাকার। ২১ কোটি ৬৫ লাখ টাকার শেয়ার লেনদেনের মাধ্যমে তৃতীয় স্থানে ছিল ওরিয়ন ইনফিউশন। সিএসইর সার্বিক মূল্যসূচক সিএএসপিআই কমেছে ৪১৯ পয়েন্ট। বাজারটিতে লেনদেনে অংশ নেওয়া ১৬৪ প্রতিষ্ঠানের মধ্যে ১৭টির দাম বেড়েছে। বিপরীতে দাম কমেছে ১৪৫টির এবং ২টির দাম অপরিবর্তিত রয়েছে। লেনদেন হয়েছে ১৬ কোটি ৩৭ লাখ টাকা। আগের কার্যদিবসে লেনদেন হয় ৪১ কোটি ৩৫ লাখ টাকা।
