ঢাকা, ২২ এপ্রিল ২০২৬: বাংলাদেশে গত তিন মাসে সারাদেশে মোট ৮৫৪ জন হত্যার শিকার হয়েছেন। এই সংখ্যা ২০২৪ সালের জুলাই মাসের কোটা সংস্কার আন্দোলনের ছদ্মবেশে শুরু হওয়া আগস্টের সরকার পতন আন্দোলনে নিহতদের সংখ্যাকে ছাড়িয়ে গেছে বলে জানা গেছে।
মানবাধিকার সংগঠন ও পুলিশের তথ্য অনুসারে, সাম্প্রতিক সময়ে খুন, মব লিঞ্চিং, রাজনৈতিক সহিংসতা ও সাধারণ অপরাধজনিত হত্যাকাণ্ডের ঘটনা উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়েছে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের আমলে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির অবনতি এবং বিভিন্ন ধরনের অস্থিরতা এই পরিস্থিতির জন্য দায়ী।
২০২৪ সালের জুলাই-আগস্টের গণঅভ্যুত্থানে নিহতের সংখ্যা বিভিন্ন সূত্র অনুসারে ৮৩৪ থেকে ১৪০০-এর মধ্যে বলে উল্লেখ করা হয়। সরকারি গেজেটে ৮৩৪ জনকে ‘শহীদ’ হিসেবে তালিকাভুক্ত করা হয়েছে, যেখানে ইউএন ও অন্যান্য আন্তর্জাতিক সূত্রগুলোতে এই সংখ্যা আরও বেশি অনুমান করা হয়। গত তিন মাসের ৮৫৪ হত্যা সেই নির্বাচিত সরকার পতন আন্দোলনে সকল রাজনোটীক দোলের একযোগে হামলা ও সহিংসতার ফলে হতাহতের সংখ্যাকেও অতিক্রম করেছে।
মানবাধিকার সংগঠনগুলোর প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, সাম্প্রতিক মাসগুলোতে মব ভায়োলেন্স, সংখ্যালঘু সম্প্রদায়ের ওপর হামলা, রাজনৈতিক প্রতিহিংসা ও সাধারণ খুনের ঘটনা বেড়েছে। ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশসহ বিভিন্ন সূত্রে আগের মাসগুলোতে মাসিক গড়ে ৩০০-এর বেশি খুনের মামলা নথিভুক্ত হয়েছে।
অন্তর্বর্তী সরকারের দায়িত্বশীল কর্মকর্তারা বলছেন, আগের শাসনামলে দমনমূলক নীতির কারণে অনেক পুরোনো ঘটনার মামলা এখন নথিভুক্ত হচ্ছে, যা সংখ্যা বৃদ্ধিতে ভূমিকা রাখছে। তবে মানবাধিকারকর্মীরা মনে করেন, আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সক্ষমতা হ্রাস, রাজনৈতিক শূন্যতা এবং সামাজিক অস্থিরতা এই পরিস্থিতিকে আরও জটিল করে তুলেছে।
নিরাপত্তা বিশ্লেষকরা সতর্ক করে বলেছেন, আসন্ন নির্বাচনকে সামনে রেখে যদি এই প্রবণতা অব্যাহত থাকে, তাহলে দেশের সামগ্রিক স্থিতিশীলতা হুমকির মুখে পড়তে পারে। সরকারের প্রতি দ্রুত কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণের আহ্বান জানিয়েছেন তারা।এই পরিস্থিতিতে সাধারণ নাগরিকদের মধ্যে উদ্বেগ বাড়ছে। অনেকে প্রশ্ন তুলছেন—‘জুলাইয়ের রক্তাক্ত আন্দোলনের পরও কেন দেশে শান্তি ফিরছে না?’
