নেত্রকোনা, ২ মে ২০২৬ – নেত্রকোনার হাওরাঞ্চল খালিয়াজুরীতে পানিতে ডুবে যাওয়া কৃষকের ধান কেটে ঘরে তুলে দিয়েছেন বাংলাদেশ ছাত্রলীগের নেতাকর্মীরা। আজ ২রা মে, শনিবার দুপুরে উপজেলার একটি হাওরে ধান কাটার ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়লে বিষয়টি নিয়ে আলোচনা শুরু হয়। সাধারণ মানুষ এ নিয়ে উচ্ছ্বসিত প্রশংসা করেন সংগঠনের নেতাকর্মীদের।
সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে অনেকেই লিখেছেন, আওয়ামী লীগ ও অঙ্গ-সংগঠনের নেতাকর্মীদের- বিশেষ করে ছাত্রলীগের ওপর অকথ্য জুলুম, নিষ্পেষণ, মব সন্ত্রাস, হত্যাযজ্ঞ চলছে ২০২৪-এর ৫ই আগস্টের পর থেকে, তবুও ছাত্রলীগকে দমিয়ে রাখা যায়নি। চরম দুর্যোগের মধ্যেও নেতাকর্মীরা কৃষকদের পাশে এসে দাঁড়িয়েছেন।
আব্দুল হামিদ নামে নেত্রকোনার এক শিক্ষক লিখেছেন, দেশে এত বড় বড় রাজনৈতিক দল আর পাতিনেতায় ভরপুর, কেউ কৃষকদের পাশে এসে দাঁড়ায়নি। কেউ নাটক-সিনেমা নিয়ে ব্যস্ত, কেউ সংসদে হাসিঠাট্টায় মত্ত, অথচ কৃষকদের এই চরম অবস্থা নিয়ে কারো মাথাব্যথা নেই। ধিক্কার জানাই। ছাত্রলীগের ছেলেদের জন্য দোয়া রইল।
ভাইরাল এক ভিডিওতে দেখা যায়, পানিতে ডুবে থাকা ধানখেতে ১৫ থেকে ২০ জন যুবক কর্মী ধান কাটছেন। তাদের নেতৃত্ব দিতে দেখা যায় জেলা ছাত্রলীগের সাবেক উপদপ্তর সম্পাদক শেখ সাহান বাবুকে। এ সময় তারা কৃষকের দুঃসময়ে পাশে থাকার কথা বলেন।
ভিডিওতে একজনকে বলতে শোনা যায়, ‘ড. ইউনূসের অবৈধ নিষেধাজ্ঞা আমরা ছাত্রলীগ মানি না, মানব না ’
একইসঙ্গে নেত্রকোনা-৪ আসনের সাবেক সংসদ সদস্য সাজ্জাদুল হাসান ও ছাত্রলীগের সভাপতি সাদ্দাম হোসেনের নির্দেশনায় কৃষকের ধান কাটতে মাঠে নামার কথাও উল্লেখ করা হয়। পরে “শেখ হাসিনা আসবে, বাংলাদেশ হাসবে, জয় বাংলা, জয় বঙ্গবন্ধু” স্লোগান দিতে দিতে তাদের ধান কাটতে দেখা যায়।
স্থানীয়রা জানান, টানা বৃষ্টি ও উজান থেকে নেমে আসা পাহাড়ি ঢলে খালিয়াজুরীর বিভিন্ন হাওরে পানি বেড়েছে। এতে অনেক কৃষক আগাম ধান ঘরে তুলতে হিমশিম খাচ্ছেন। শ্রমিক সংকটে কৃষকরা ডুবন্ত ধান কাটতে পারছেন না। এমন পরিস্থিতিতে কোনো সামাজিক ও রাজনৈতিক সংগঠনের পক্ষ থেকে এখন পর্যন্ত কৃষকদের ধান কাটায় সহযোগিতা করতে দেখা যায়নি বাংলাদেশ ছাত্রলীগ ছাড়া।
দিনভর অন্তর্জালে এ নিয়ে তুমুল প্রশংসায় ভাসছেন ছাত্রলীগের উদ্যোগ নিয়ে।
এ বিষয়ে জানতে খালিয়াজুরী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. নাসির উদ্দিনের মুঠোফোনে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তার বক্তব্য পাওয়া যায়নি।
