বিশেষ রিপোর্ট
বিভিন্ন সংবাদপ্রত্রের খবরে জানা যায়, রাজধানী ঢাকার উত্তর মুগদা এলাকার বাসা থেকে বাংলাদেশ ব্যাংকের অতিরিক্ত পরিচালক তানভীর হোসেইন শুভর ঝুলন্ত মরদেহ উদ্ধার করেছে পুলিশ।
২রা জুন মঙ্গলবার রাতে দরজা ভেঙে ঘরের ভেতর তার মরদেহ পাওয়া যায়। আইনি প্রক্রিয়া শেষে ময়নাতদন্তের জন্য মরদেহ ঢাকা মেডিকেল কলেজ মর্গে পাঠানো হয়।
ঢাকা মহানগর পুলিশের সবুজবাগ অঞ্চলের অতিরিক্ত উপকমিশনার জাহিদ হাসান গণমাধ্যমকে বলেন, কীভাবে তার মৃত্যু হয় তা নিশ্চিত হওয়া যায়নি। তবে ঘরের দরজা ভেতর থেকে বন্ধ ছিল। ময়নাতদন্ত প্রতিবেদন পেলে তার মৃত্যুর কারণ সম্পর্কে জানা যাবে। ওই বাসায় তিনি একাই ছিলেন। তাৎক্ষণিকভাবে সেখানে ‘সুইসাইড নোট’ জাতীয় কিছু পাওয়া যায়নি।
পুলিশ জানায়, দীর্ঘসময় ধরে শুভর কোনো সাড়া না পেয়ে সন্দেহ হয় প্রতিবেশীদের। পরে তারা পুলিশে খবর দেন। খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে গিয়ে রাত ১০টার দিকে দরজা ভেঙে ভেতরে ঢোকে পুলিশ। তখন গলায় ফাঁস লাগানো অবস্থায় তার নিথর দেহ ঝুলতে দেখা যায়। এ ঘটনায় আপাতত একটি অস্বাভাবিক মৃত্যু (ইউডি) মামলা দায়েরের প্রক্রিয়া চলছে।
অতিরিক্ত উপকমিশনার জাহিদ হাসান বলেন, ময়নাতদন্ত প্রতিবেদনের ওপর ভিত্তি করে পরবর্তী আইনানুগ সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে। পাশাপাশি মৃত্যুর কারণ জানতে নিজেদের মতো করে অনুসন্ধান করবে পুলিশ।
ফেইসবুকে বিভিন্নজন এই মর্মান্তিক ঘটনার পোস্ট দিয়েছেন। এর মধ্যে শাহেদা আক্তার (জার্নালিস্ট) নামে একজনের পোস্ট-ডিভোর্সের পর নিঃসঙ্গ জীবন: ফ্ল্যাট থেকে বাংলাদেশ ব্যাংক কর্মকর্তার অর্ধগলিত মরদেহ উদ্ধার!
রাজধানীর উত্তর মুগদার আহমদবাগের একটি ফ্ল্যাট থেকে বাংলাদেশ ব্যাংকের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা তানভীর হোসাইন শুভ (৪৫)-এর অর্ধগলিত ঝুলন্ত মরদেহ উদ্ধার করেছে পুলিশ। মঙ্গলবার (২ জুন) রাতে ঘরের দরজা ভেঙে তার লাশ উদ্ধার করা হয়।
পারিবারিক ও পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, তানভীরের স্থায়ী বাসা সেগুনবাগিচায় হলেও, সম্প্রতি স্ত্রীর সঙ্গে বিবাহবিচ্ছেদের (ডিভোর্স) পর থেকে তিনি উত্তর মুগদার এই বাসায় সম্পূর্ণ একা বসবাস করছিলেন।
ঈদের পর থেকেই ছিলেন নিখোঁজ…
বাড়ির মালিক জানান, গত ঈদের দিন তানভীরকে শেষবারের মতো জীবিত দেখা গিয়েছিল। এরপর থেকে তার আর কোনো খোঁজ বা সাড়াশব্দ মেলেনি। মঙ্গলবার রাতে ওই ফ্ল্যাট থেকে তীব্র দুর্গন্ধ ছড়াতে শুরু করলে বাড়ির মালিক ও প্রতিবেশীরা পুলিশে খবর দেন।
আইনি প্রক্রিয়া শেষে পুলিশ মরদেহটি ময়নাতদন্তের জন্য ঢাকা মেডিকেল কলেজ (ঢামেক) হাসপাতালের মর্গে পাঠিয়েছে।
উল্লেখ্য, তানভীর হোসাইন শুভ বিশিষ্ট আইনজীবী তবারক হোসেইনের দ্বিতীয় পুত্র। তাদের বাড়ি মৌলভীবাজার জেলার বড়লেখা উপজেলায়। দীর্ঘদিন সিলেট শহরে প্রগতিশীল সাংষ্কৃতিক ধারায় বড় হওয়া তানভীর হোসেইন শুভ বাংলাদেশ ব্যাংকের উর্ধতন কর্মকর্তা। তার বড় ভাই ব্যারিস্টার তানিম হোসেইন এবং অন্য ভাই ডাক্তার। তবারক হোসেইন সিলেটে থাকাকালীন সাংবাদিকতা পেশা, সাংস্কৃতিক সংগঠন খেলাঘর, উদীচী শিল্পীগোষ্ঠীর নেতৃস্থানীয় ব্যক্তিত্ব ছিলেন। পরে আইনপেশায় নিয়োজিত হলে ঢাকা হাইকোর্টের বারে যোগদান করেন। তানভীর হোসাইন শুভও সিলেট থেকে তার বাংলাদেশ ব্যাংকে পেশাগত জীবন শুরু করেন। মাতা বেলা হোসেইনও একজন কৃতীমতি সাংস্কৃতিক নেত্রী।
একটি সাংস্কৃতিক আবহে বড় হওয়া তানভীর হোসাইন আত্মহত্যার পথ বেছে নিলেন কিভাবে-এই প্রশ্ন পরিচিতজনদের মধ্যে বিস্ময় জাগিয়েছে। শুভর অকাল প্রয়াণে সিলেট,ঢাকা ও লন্ডনে পরিচিতমহল ও সাংস্কৃতিক অঙ্গনে শোক বিরাজ করছে।
