-ফারহান আহমেদ ফারাবী
শুরুতে যখন জুলাই হয়, যখন শিক্ষার্থী মারা যায় তখন আমি তাদের পক্ষে ছিলাম। আমি পুলিশ বা সরকারের পক্ষে ছিলাম না, নির্বিচারে আন্দোলনকারীদের উপর থ্রী নট রাইফেল দিয়ে অপেন ফায়ার করার পক্ষেও আমি ছিলাম না। কিন্তু জুলাই আন্দোলনকে এখন আমি ঘৃণা করি।
আন্দোলনের আগেও ধর্মীয় উগ্রবাদ বাংলাদেশে ছিল, কিন্তু আন্দোলন পরবর্তী সময় থেকে এরা মারাত্মকভাবে বেড়ে গেছে। তখন থেকেই কালেমার পতাকার নামে জঙ্গি সংগঠনের পতাকা বাংলাদেশে নরমালাইজড হয়ে গেছে, সংখ্যালঘু নির্যাতন বহুগুণে বেড়ে গেছে। এরপর থেকে বোবারাও কথা বলতে শিখে গেছে, কালারাও কানে শোনা শুরু করে দিয়েছে।
এখন জুলাইকে ঘৃণা করি বলে আমাকে লীগার বলার আগে সেটা প্রমাণ করবেন। জুলাই একটা স্ক্যাম ব্যতীত আর কিছু ছিল না। জুলাইতে বিভিন্ন শ্রেণীর মানুষ যুক্তই হয়েছিল যেন পরবর্তীতে দখলদারিত্ব চালাতে পারে, এরা সাধারণ শিক্ষার্থীদের সাথে মিশে ছিল।
জুলাই পরবর্তী সময়ে চরমভাবে নারী হেনস্তা বেড়েছে, ধর্মীয় উগ্রতা বেড়েছে, দেশদ্রোহিতা বেড়েছে। আগে কখনো দেখেছেন ধর্মের কথা বলে জঙ্গি সংগঠন প্রমোট করতে? অথচ তখন কালেমার পতাকা নিয়ে সেনাবাহিনী কুচকাওয়াজ পর্যন্ত করেছিল। আর এখন অপেনলি এসব উগ্রবাদী সংগঠনের পতাকা প্রমোট করা হচ্ছে, কেউ কিছু বললেই বলে এটাই নাকি ইসলামের পতাকা।
জুলাই পরবর্তীতে সব বড় বড় বিজনেসম্যানদের আবির্ভাব ঘটেছে বাংলাদেশে। এরা চাউল ডাউলের ব্যবসায়ী না। এরা ভাই ব্যবসায়ী, জুলাই ব্যবসায়ী, হাদি ব্যবসায়ী ইত্যাদি। একটা রিকশাওয়ালা আছে, এক সেলুটে আজ সে রিকশাওয়ালা থেকে নেতা। আবার হাদির কারণে নাকি বাংলাদেশের মানুষ জাতীয় কবি কাজী নজরুল ইসলামকে চিনেছে।
জুলাই পরবর্তীতে পাকিস্তান পন্থীরা সামনে এসেছে। এরা বাংলাদেশকে এখনো পূর্ব পাকিস্তান মনে করে, দুই পাকিস্তান এক হোক এমনটা চায়। আর এসব কথা এরা অপেনলিই বলে। এখন ফেসবুকে বড় বড় পেজ আছে যারা পাকিস্তানের সাফাই গায়, মুক্তিযুদ্ধকে ভারতের ষড়যন্ত্র দাবী করে। ওহ, জুলাই আন্দোলন নাকি আবার মুক্তিযুদ্ধের চেতনার বিরুদ্ধে হয়েছে!
এই জুলাই বাংলাদেশের মানুষের জন্য হয়নি, কিন্তু যারা এই জুলাইয়ের সাথে যুক্ত তাদের সবার মাথায় বাংলাদেশের পতাকা বাঁধা থাকে। এই আন্দোলনের পর জঙ্গিবাদ বেড়েছে, নারী হেনস্তা বেড়েছে, মুক্তিযুদ্ধকে গালাগালি করা হয়েছে। কিন্তু এই সো কোলড বাংলাদেশ পন্থীরা কখনো এসব উগ্রতার বিরুদ্ধে বলে না।
এখন আমাকে লীগার বলার আগে শুনেন–জুলাই পরবর্তীতে যখন সারাদেশে পুলিশ বাহিনী অফ ডিউটিতে ছিল তখন আমিও রোদে পুড়ে ট্রাফিকের কাজ করেছিলাম, জুলাইতে যেসব ভাঙচুর হয়েছিল সেগুলো পরিষ্কার করেছিলাম। এখন যদি জুলাই জুলাই করে মুখে ফেনা তুলতাম তাহলে আমিও টাকার উপর এখন ঘুমাতাম, সেটা না করে আমি জুলাইকে এখন ঘৃণা করি। কারণ আমি পাকিস্তান পন্থীদের, জঙ্গিবাদীদের ঘৃণা করি।
