ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের চারজন শিক্ষককে সাময়িকভাবে বরখাস্ত করার সিদ্ধান্তের তীব্র প্রতিবাদ জানিয়েছে বাংলাদেশ পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয় প্রগতিশীল শিক্ষক সমাজ। আজ সংগঠনের পক্ষ থেকে দেওয়া এক বিবৃতিতে এই সিদ্ধান্তকে রাজনৈতিক মতপার্থক্য ও মতাদর্শগত অসহিষ্ণুতাপ্রসূত বলে উল্লেখ করা হয়েছে এবং এটিকে উচ্চশিক্ষা প্রতিষ্ঠানে স্বাধীন চিন্তা, মতপ্রকাশের অধিকার ও শিক্ষকদের পেশাগত মর্যাদার ওপর আঘাত বলে অভিহিত করা হয়েছে।
বিবৃতিতে বলা হয়, সাময়িকভাবে বরখাস্ত হওয়া শিক্ষকরা হলেন—ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের নীল দলের আহ্বায়ক ও সমাজবিজ্ঞান বিভাগের অধ্যাপক ড. আ ক ম জামাল উদ্দীন; লোক প্রশাসন বিভাগের জ্যেষ্ঠ অধ্যাপক ড. নাজমুল আহসান কলিম উল্লাহ; ব্যাংকিং অ্যান্ড ইন্স্যুরেন্স বিভাগের অধ্যাপক শিবলী রুবাইয়াত-উল-ইসলাম; এবং বাংলাদেশ পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয় প্রগতিশীল শিক্ষক সমাজের প্রচার সম্পাদক ও নীল দলের কো-কনভেনর, উদ্ভিদবিজ্ঞান বিভাগের অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ আজমল হোসেন ভূঁইয়া।
সংগঠনের পক্ষ থেকে বলা হয়, বিশ্ববিদ্যালয় হলো মুক্তবুদ্ধি, যুক্তি ও বহুমতের সহাবস্থানের স্থান। যথাযথ তদন্ত ও স্বচ্ছ প্রক্রিয়া অনুসরণ না করে এবং ১৯৭৩ সালের বিশ্ববিদ্যালয় আইন ও সংশ্লিষ্ট নীতিমালা উপেক্ষা করে শিক্ষকদের বিরুদ্ধে এই শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে, যা বিশ্ববিদ্যালয়ের দীর্ঘদিনের গণতান্ত্রিক ও প্রাতিষ্ঠানিক চর্চার পরিপন্থী। বিবৃতিতে আশঙ্কা প্রকাশ করা হয়, এমন পদক্ষেপ শিক্ষকদের মধ্যে ভীতির পরিবেশ সৃষ্টি করবে এবং উচ্চশিক্ষার সামগ্রিক পরিবেশকে ক্ষতিগ্রস্ত করবে। সংগঠনটি বলছে, এর প্রভাবে শুধু শিক্ষকরাই নন, লক্ষ লক্ষ শিক্ষার্থীও তাদের শিক্ষার অধিকার থেকে বঞ্চিত হচ্ছেন।
বিবৃতিতে আরও উল্লেখ করা হয়, সংবিধানে প্রদত্ত চিন্তা, বিবেক ও বাক্স্বাধীনতা ক্ষুণ্ণ হলে তার প্রভাব রাষ্ট্রের সামগ্রিক কাঠামোর ওপরও পড়বে।
প্রগতিশীল শিক্ষক সমাজ অবিলম্বে এই চার শিক্ষকের বরখাস্তের আদেশ প্রত্যাহারের দাবি জানিয়েছে। একই সঙ্গে তারা দাবি করেছে, ড. মোহাম্মদ ইউনূসের নেতৃত্বাধীন বর্তমান সরকারের আমলে গত দুই বছরে শিক্ষকদের ওপর আরোপিত সব বহিষ্কার, বয়কট, একাডেমিক শাস্তি ও সাময়িক বরখাস্তের আদেশ প্রত্যাহার করে শিক্ষা পরিবারের সকল সদস্যের সঙ্গে ন্যায়সঙ্গত আচরণ নিশ্চিত করা হোক। বিবৃতিতে বলা হয়, বিশ্ববিদ্যালয়ের মর্যাদা, স্বায়ত্তশাসন ও শিক্ষকদের অধিকার রক্ষা করা রাষ্ট্রের সাংবিধানিক দায়িত্ব।
বিবৃতিতে স্বাক্ষর করেছেন বাংলাদেশ পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয় প্রগতিশীল শিক্ষক সমাজের দপ্তর সম্পাদক ও রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের লোক প্রশাসন বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক ড. মাহবুব আলম প্রদীপ।
