ইয়াসমীন সুলতানা পলিন
শুধু বস্তুনিষ্ঠ লেখার জন্য তারেকের লাঠিয়াল পান্ডারা ছেলেটিকে মব চালিয়ে আধমরা করে পুলিশের হাতে তুলে দিয়েছে। তারেক রহমানের সরকার সম্পূর্ণ ব্যর্থ তা তো আওয়ামীলীগ বলছে না, বলছে বিগত ১২০দিন…ব্যর্থতা কত প্রকার এবং কি কি?
আজ পরীক্ষা দিতে গিয়ে তিতুমীর কলেজ ছাত্রদলের সন্ত্রাসীদের দ্বারা হামলা ও মবের স্বীকার হয়েছে নাজমুস সাকিব। কোন দলীয় পদ নেই, এমনকি ছাত্রলীগের রাজনীতির সঙ্গেও তার প্রত্যক্ষ সম্পৃক্ততা ছিল না শুধু মুক্তিযুদ্ধের চেতনার স্বপক্ষে লেখা ও ৫ই আগষ্টের পরে দেশে সংঘটিত জুলুম-নির্যাতনের ও অন্যায়ের বিরুদ্ধে বলিষ্ঠকন্ঠস্বর ও প্রতিবাদী লেখনিই তার একমাত্র অপরাধ। কোন মামলা ছাড়াই পুলিশের কাছে সোপর্দ করা হয়। একজন মেধাবী শিক্ষার্থী উপর ছাত্রদলের সন্ত্রাসীদের এমন ন্যাক্কারজনক হামলার তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানাই এবং লাশ নয়; নাজমুস সাকিব-এর নিঃর্শত মুক্তি চাই।
নাজমুস সাকিবের সাম্প্রতিক লেখাটি
আধুনিক রাষ্ট্রে জেলখানা হলো অপরাধীর জন্য সবচেয়ে সেফেস্ট প্লেস। কেন জেলখানাকে সবচেয়ে সেফেস্ট প্লেস বলা হয়? কারন জেলখানা হলো একটি ব্যাংকের মতো। মানুষ যেমন নিজের মূল্যবান সম্পদ নিরাপদ রাখার জন্য ব্যাংকে জমা রাখে তেমনি আইন একজন অভিযুক্ত ব্যক্তিকে রাষ্ট্রের জিম্মায় দেয় এই বিশ্বাসে যে তার বিচার হবে আইনের মাধ্যমে।
কিন্তু যদি সেই ব্যাংকই আমানত রক্ষা না করে তাহলে শুধু আমানতকারীর ক্ষতিই হয় না পুরো ব্যাংকিং প্রতিষ্ঠানটির প্রতি আস্থা ভেঙে পড়ে মানুষের। একইভাবে যদি রাষ্ট্রের হেফাজতে থাকা মানুষদের রাষ্ট্র যদি নিরাপত্তা দিতে না পারে রাষ্ট্রের আইনব্যবস্থার প্রতিও মানুষের অনাস্থা চলে আসে। রাষ্ট্র পড়ে যায় লেজিটিমেসি ক্রাইসিসে। বিচারব্যবস্থা ও আইনব্যবস্থা হয়ে উঠে নন ফাংশনাল। অপরাধীর জিম্মা নেওয়া রাষ্ট্র কি গত দুইদিনে আমানত রক্ষা করতে পেরেছে?
ঘটনা -১ : ২ দিন আগে মধুখালি উপজেলা ছাত্রলীগ নেতা প্রান্ত মির্জা কে তার বাসা থেকে ফরিদপুর ডিবি পুলিশ গ্রেফতার করে এবং গতকাল সকালে দেখা যায় ফরিদপুর মেডিকেলে তার মৃতদেহ।
ঘটনা-২ : ২২ তারিখ ঢাকা ১৮ আসনে আওয়ামী লীগের প্রোগ্রাম এ গিয়ে পুলিশের ধাওয়া খেয়ে নিখোঁজ তুরাগ থানা ছাত্রলীগ কর্মী আরিফুলের লাশ আজকে পাওয়া গেছে আশুলিয়ায়
ঘটনা-৩: চট্টগ্রামের সাতকানিয়া যুবলীগ নেতা নুরুল আলম খানকে গতকাল গ্রেফতার দেখানো হয়৷ ঠিক ১০/১২ ঘন্টা পর এই সুস্থ সবল হাসিখুশি মানুষটির পুলিশি অত্যাচারে মৃত্যু হয়েছে।
এই যে তিনজন কে মানুষকে রাষ্ট্রীয়ভাবে খুন করা হলো তারা কেউই অপরাধী ছিলো না। কারোর বিরুদ্ধেই মামলা ছিলো না। রাষ্ট্রের আইনশৃঙ্খলা বাহিনী যে তাদের মোরাল অথোরিটি হারিয়েছে এই ঘটনাগুলো সেটার চাক্ষুষ প্রমাণ।
দেশে একটা নির্বাচিত সরকার এসছে। মানুষ ভেবেছিলো কিছুটা সুষ্ঠু রাজনৈতিক কালচার ফিরে আসবে। কিন্তু তারেক রহমানের সরকার দেশের সুষ্ঠু রাজনৈতিক কালচার কে বৃদ্ধাঙ্গুলি দেখিয়েছে। আওয়ামী লীগের আমলে বিএনপিকে নেতাকর্মীরা জেলে গিয়ে মোটাতাজা হয়ে ফিরতো আর আওয়ামী লীগের নেতাকর্মীরা লাশ হয়ে ফিরছে।
মানবাধিকার সংস্থাগুলোর তথ্যমতে ২০২৫ সালে দেশের কারাগার ও থানা হেফাজতে অন্তত ৯২ জনের মৃত্যু হয়েছে। এটা শুধু অফিশিয়াল নাম্বার। ৫ই অগাস্টের পরে এরকম এক্সট্রা জুডিশিয়াল মার্ডার হয়েছে শতশত। বিহাইন্ড দ্যা সিনে এরকম শতশত মার্ডার হচ্ছে।
মিঃ তারেক রহমান, রাষ্ট্র আপনার ব্যক্তিগত শক্তির প্রদর্শনী নয়।রাষ্ট্র সিভিলিয়ানদের বিশ্বাসের নাম। যেখানে মানুষ নিরাপত্তা খুঁজে, ভয় নয়। মানুষ বিচার চায় আদালতে, রাস্তায় নয়, পুলিশ কাস্টডিতে নয়। পরিকল্পিত এই হত্যাকান্ডগুলো কি আওয়ামী লীগের জন্য কোনো কশনারী সিগন্যাল ছিলো? জানতে ইচ্ছে করছে।
