গ্রেপ্তারের মাত্র একদিন পরই কারাগার থেকে মিললো চট্টগ্রামের সাতকানিয়া উপজেলার ঢেমশা ইউনিয়ন যুবলীগের যুগ্ম আহ্বায়ক নুরুল আলমের লাশ।
গতকাল রাজনৈতিক মামলায় পুলিশ তাকে গ্রেপ্তার করার পর আদালতের মাধ্যমে কারাগারে পাঠানো হয়েছিল। কিন্তু আজ সকালে সুস্থ-স্বাভাবিক সেই মানুষটির লাশ হয়ে ফেরার খবর পায় তার পরিবার, যা নিয়ে এলাকায় তীব্র চাঞ্চল্য ও ধোঁয়াশার সৃষ্টি হয়েছে।
নিহত নুরুল আলম সাতকানিয়ায় যুবলীগের সক্রিয় রাজনীতির সাথে জড়িত ছিলেন। ছাত্রজীবনেও তিনি ছাত্রলীগের সক্রিয় রাজনীতি করেছেন। রাজনীতির পাশাপাশি চট্টগ্রাম নিউ মার্কেট রেয়াজউদ্দীন বাজারে ব্যবসায়ী হিসেবে তার পরিচিতি ছিল।
পারিবারিক সূত্রে জানা গেছে, বিগত ২০২৪ সালের ৫ই আগস্ট আওয়ামী লীগ সরকারের পতনের পর থেকেই নুরুল আলম বিভিন্ন মহল থেকে নানাভাবে হুমকি-ধমকি পেয়ে আসছিলেন। স্থানীয় বিএনপি-জামায়াত নেতারা তার কাছে বড় অঙ্কের টাকা দাবি করলে তিনি তা দিতে অস্বীকৃতি জানান।
পরিবারের অভিযোগ, এই চাঁদা দিতে অস্বীকৃতি জানানোর পর পরই পুলিশ তাকে জুলাই-আগস্টের সংঘাতের একটি রাজনৈতিক মামলায় জড়ায় এবং গতকাল (২৩শে জুন) গ্রেপ্তার করে।
কারা সূত্রে জানা গেছে, কারান্তরীণ করার পর যুবলীগ নেতা নুরুল আলমকে জেলের ভেতরে ‘আমদানি ওয়ার্ডে’ রাখা হয়েছিল। অভিযোগ উঠেছে, রাতে সেখানে নুরুল আলম বেশ কয়েকবার রক্তবমি করলেও তাকে কোনো প্রয়োজনীয় বা জরুরি চিকিৎসা দেওয়া হয়নি।
পরিবারের ভাষ্য, গ্রেপ্তারের পূর্বে নুরুল আলম সম্পূর্ণ সুস্থ ও স্বাভাবিক ছিলেন। মাত্র একদিনের মাথায় তার এই আকস্মিক মৃত্যু কোনোভাবেই স্বাভাবিক নয়।
স্থানীয় মহলে এখন জোরালো প্রশ্ন উঠেছে—সম্পূর্ণ সুস্থ একটা মানুষ হঠাৎ রক্তবমি করলেন কেন? তবে কি কারাগারের ভেতরে কোনো গোপন টর্চার সেলে তাকে নির্দয়ভাবে পেটানো হয়েছিল, যার অভ্যন্তরীণ আঘাতের কারণে এই রক্তবমি ও মৃত্যু?
কারা অভ্যন্তরে যুবলীগ নেতার এই রহস্যজনক মৃত্যু নিয়ে এখনো কারা কর্তৃপক্ষের আনুষ্ঠানিক কোনো বক্তব্য বা ব্যাখ্যা পাওয়া যায়নি। তবে দেশের প্রচলিত আইন অনুযায়ী, কারাগারে কোনো বন্দির মৃত্যু হলে মৃত্যুর প্রকৃত কারণ নির্ধারণে প্রয়োজনীয় ময়নাতদন্ত, তদন্ত কমিটি গঠন ও আইনি প্রক্রিয়া সম্পন্ন করা বাধ্যতামূলক।
একদিনের ব্যবধানে সুস্থ মানুষের লাশ হয়ে ফেরার এই ঘটনাটি সাতকানিয়া ও রেয়াজউদ্দীন বাজার ব্যবসায়ী মহলে তীব্র ক্ষোভ ও রহস্যের জন্ম দিয়েছে।
পরিবার ও অনুসারীরা এই মৃত্যুর পেছনে গভীর ষড়যন্ত্রের গন্ধ দেখছেন এবং একটি নিরপেক্ষ তদন্তের দাবি তুলছেন।
