কামরুল হাসান খোকন
গতবছর অনলাইনে একটা ভিডিও দেখলাম, যেখানে বহু ব্লগার-লেখকের হত্যাকাণ্ডে জড়িত সন্ত্রাসী জসিমউদ্দীন রহমানী বাংলাদেশের খলিফা হবার ও অতঃপর সুন্নি-সুফিদের জবাই করে গণHত্যা চালাবার বাসনা প্রকাশ করেছে।
৫ আগস্টে কাশিমপুরের হাইসিকিউরিটি জেল ভেঙ্গে অনেক জঙ্গির সাথে বুয়েটের আবরার খুনের ঘটনায় দণ্ডপ্রাপ্ত আসামি মুনতাসির আল জেমি। অন্য আসামীদের মতন জেমির আইনজীবী ছিল জামাতের শিশির মনি। এই ঘটনা কয়েক মাস লুকিয়ে রাখা হয়েছিল। অদ্ভুত বিষয় হল, জেমির গ্রেফতার নিয়ে এখন আর কারো মাথা ব্যাথা নেই !
হাসিনার পতনের পর বাংলাদেশের গাজীপুরের কাশিমপুর কারাগার থেকে পালিয়ে যাওয়া ৫৩ জন ফাঁসির দণ্ডপ্রাপ্তসহ ১৫১ জন আসামির খোঁজ এখনো পাওয়া যায়নি। (বিবিসি: ২৫ ফেব্রুয়ারি ২০২৫)
৫ আগস্টের পর সন্ত্রাসী জসিমউদ্দীন রহমানীকে শুধু মুক্তি দেওয়া হয় নাই, জামাই আদর করে বের করা হয়েছে। ইউনূস সরকারের ভেতর কারা এর মুক্তির জন্য কাজ করছে সেটা আসিফ নজরুল ভাল বলতে পারবেন। যারা এটাকে সেলিব্রেট করছে তাদের অনেকে পরবর্তীতে এনসিপির নেতা হয়েছে।
জেল থেকে বের হওয়ার পর জসিমউদ্দীন রহমানী হেসে হেসে বলছে, তাকে অনেকে জিজ্ঞেস করত এর পর কোন কোন ব্লগার খুন হবে। কারণ সে জানত কে কে লিস্টে আছে। এটা সে অপেনলি বলছে। অনলাইনে সবগুলো ভিডিও পাওয়া যাবে। কাহিনী এখানেই শেষ না।
Jঙ্গি জসিমউদ্দিন রহমানি যখন শাহবাগে জামাত-শিবির ও এনসিপি নামাজ পড়েছিল, তখন অনেকে জিজ্ঞেস করেছিল তাকে কে ইমামতির দায়িত্ব দিয়েছিল। তার কোন যথার্থ উত্তর তারা দিতে পারে নাই। প্রকাশ্যে সুন্নি, সুফিদের জবাই করার ঘোষণা দেওয়া বাল্কায়েদার ইমাম জসিমউদ্দিন রহমানি কেন এনসিপির নামাজের জামায়াতে ইমামতি করেছে, সেই প্রশ্নের উত্তর তাদের অবশ্যই দিতে হবে।
এতো কথা বলার কারণ, ইউনূসের আমল থেকে একটা গ্রুপ মাথা নাড়া দিয়ে উঠছে। জঙ্গিবাদ থেকে ফিরে আসা এক ইমাম এদের বিরুদ্ধে কথা বলা শুরু করলেও, ইউনূসের পুলিশ এদের কিছু বলে নাই। স্মরণে রাখা উচিত, গুলশান হামলায় ঘটনা স্মরণে যে ভাস্কর্য বানানো হয়েছিল সেটি হিযবুত তাহরী ভেঙ্গে দিয়েছিল। ইউনূসের পর বিএনপিও এটা আর নতুন করে বানানোর প্রয়োজন বোধ করে নাই। ভাস্কর্য মুছে ফেলা মানে গুলশান হামলার ইতিহাস মুছে ফেলার এটা প্রথম স্টেপ।
সম্প্রতি পরিস্থিতি লাগামের বাহিরে যাওয়া দেখে বিএনপি সরকার একটু কঠিন লাইনে গেল। ফাতাহ কমব্যাট সিস্টেম (এফসিএস) এর ৬ কর্মীকে গ্রেফতার করা হয়েছে। তাদের মধ্যে একজন এনসিপি নেতা। উগ্রবাদী সংগঠনের কার্যক্রমের সঙ্গে জড়িত সন্দেহে গ্রেপ্তার হওয়া জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) গাজীপুর মহানগর কমিটির যুগ্ম সদস্যসচিব আতাউল্লাহ শাহকে স্থায়ী বহিষ্কার করেছে দলটি। এনসিপি নেতারা এগুলো জানত কিন্তু এভাবে গ্রেফতার হবে তা ভাবে নাই। আতাউল্লাহ শাহ ফেসবুকে কী লেখে তা না দেখেই কী ওরা তারে দলের দায়িত্ব দিয়েছে?
সাংবাদিক জুলকারনাইন সায়ের খান একটা ভিডিও পোস্ট করেছেন।
সেখানে তিনি বলছেন, “বিশেষ একটি গোয়েন্দা সংস্থার সহায়তায় পরিচালিত এই অভিযানে আটককৃত ব্যক্তিদের ব্যবহৃত মোবাইল ডিভাইস প্রাথমিকভাবে যাচাই করে যেসব তথ্য পাওয়া গেছে, তা ভয়াবহ।
সংযুক্ত ভিডিওতে দুই মাস এফসিএস এর প্রধান প্রশিক্ষক শাহ আমানত সাবিরের নেতৃত্বে প্রত্যন্ত এলাকায় ইমপ্রোভাইজড এক্সপ্লোসিভ ডিভাইস (আইইডি) এর পরীক্ষামূলক বিস্ফোরণের অকাট্য প্রমাণ মিলেছে, এই টেস্টের ভিডিও দেশের বাইরেও পাঠানো হয়েছে বলে সাবির নিজেই জানিয়েছে।
এছাড়াও যশোরে শারিয়া’র দোহাই দিয়ে অমুসলিম নাগরিকদের পরিচালিত স্বর্ণের দোকানে ডাকাতির প্রমাণও পাওয়া যায়, সাবির ও তার সহযোগীরে দেশের বিভিন্নস্থানে নাশকতামূলক কর্মকাণ্ড সংঘটিত করার যথেষ্ট তথ্য-উপাত্তও ইতোমধ্যে উদঘাটিত হয়েছে।”
একটু খেয়াল করলে দেখবেন, গত দুই বছরে হিন্দুদের অনেক স্বর্ণের দোকানে ডাকাতি হয়েছে। ২০১৫/১৬ দিকে আশুলিয়ায় ব্যাংক ডাকাতি করেছিল একদল জঙ্গি। জিহাদের জন্য ডাকাতি এদের কাছে হালাল।
সিরিয়া থেকে যখন আইসিস মুছে গেল, তখন অনেকে প্রেডিক্ট করেছিল এই বাতাস এখন দক্ষিণ এশিয়ার দিকে আসবে। এরা কোথাও টিকবে না কিন্তু সব সমাজে স্থায়ী ক্ষত সৃষ্টি করে যাবে। গত ১০ বছর থেকে বাংলাদেশে অনেক কিছু নর্মালাইজ করা হয়েছে। ইউনূসের আমলে নর্মালাইজ করা হয়েছিল আই সিস ও আ লকায়দাকে। মিডিয়ার ও মোজো সাংবাদিকদের কল্যাণে দেশে গালাগালি, পাগলামি, নৃশংসতা সব ছড়িয়ে দেওয়া হয়েছে। এসব জঙ্গি জেল থেকে বের হলে অনলাইনে আরো বেশি ফলোয়ার ও খাদেম পাবে বলেই আমার বিশ্বাস। কারণ দেশে এখন অনেক বেকার ও জি-হাদী যেকোন পথে শহীদ হতে মরিয়া। অনেকে যেমন TTP হয়ে পাকিস্তানে যুদ্ধ করতে গিয়ে মারা পড়ছে।
