আসাদুজ্জামান আসাদ
ইহুদী, খ্রিষ্টান ও মুসলমান এই তিন ধর্মের মানুষ তিনশো বছর যুদ্ধ করে প্রায় ৪.৩ বিলিয়ন মানুষকে হত্যা করেও নিজেদের ধর্মকে সর্বশ্রেষ্ঠ প্রমাণ করতে পারেনি।ইউরোপ একটা সময় ছিলো আজকের বাংলাদেশের মত ধর্মান্ধ ও মৌলবাদী মানুষ ভরা। ইদানিং যেমন আমাদের দেশের মসজিদের মাইকে ঘোষণা দিয়ে মানুষ হত্যা করা হয় ঠিক তেমনি তের শতকের আগের ইউরোপেও গীর্জার সামনে পুড়িয়ে মারা হতো নিরীহ মানুষদের। তাদের অপরাধ ছিলো তারা খ্রিষ্টান ধর্মের ধর্মীয় উগ্রতাবাদ ও মৌলবাদীদের বিরুদ্ধে কথা বলতেন।খ্রিষ্টান মৌলবাদীরা যাদের হত্যা করতো তারাও ছিলেন খ্রিষ্টান পরিবারের সন্তান।আজকে যেমন আমাদের দেশে একশ্রেণীর মুসলমানদের ধর্মীয় উগ্রতাবাদ ও মৌলবাদের বিরুদ্ধে মানুষ ক্ষেপে উঠেছে এবং অনেকেই ঘৃণায় ধর্ম থেকে মুখ ফিরিয়ে নিচ্ছে ঠিক তেমনি আজ থেকে এক হাজার বছর আগে এটা ছিলো ইউরোপের খ্রিষ্টানদের চিত্র।নিজ ধর্মের ধর্মীয় উগ্রতাবাদ ও মৌলবাদের বিরুদ্ধে ইউরোপের মানুষ মানবতার যে বিপ্লব রচিত করেছিলো তাই ইতিহাসে রেনেসাঁ বিপ্লব নামে পরিচিত।।
ইহুদী , খ্রিষ্টান ও মুসলমান সব ধর্মেই মৌলবাদী ও উগ্রবাদী ছিলো তা হচ্ছে ইতিহাসের প্রমাণিত সত্য।এই উগ্রবাদের বিরুদ্ধে নতুন এক ধর্ম পৃথিবীর মানুষকে নাড়া দিচ্ছে তা হচ্ছে মানবধর্ম।যে মানুষগুলো পৃথিবীতে অকারণ – অহেতুক মানুষ হত্যা পছন্দ করেননা তারা আজ পৃথিবীর সব প্রান্তে মানব ধর্মের জন্য লড়াই করছেন। কারণ এই উগ্রতাবাদকে নিশ্চিহ্ন না করা গেলে এরা অচিরেই সমগ্র মানবজাতির জন্য এক ভয়াভহ দূর্যোগ নিয়ে আসবে।
আজকে আমাদের দেশে যেমন ধর্মের নামে মৌলবাদীরা ভাস্কর্য ভেঙে ফেলছে, অন্য ধর্মের মানুষকে জোর করে ধর্মান্তরিত করছে, মন্দিরে ও গীর্জায় আগুন দিচ্ছে , ধর্মের দোহাই দিয়ে জ্ঞান ও বিজ্ঞানের পথ বন্ধ করে দিয়ে দেশকে দিন দিন অন্ধকারের পথে নিয়ে যাচ্ছে ঠিক তেমনি আজ থেকে এক হাজার বছর পূর্বে এটাই ছিলো সমগ্র ইউরোপের চিত্র।।
খ্রিষ্টান ধর্মান্ধ মৌলবাদীরা তখন ইউরোপের সকল শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে ধর্মীয় শিক্ষা বাধ্যতামূলক করেছে এবং জোর করে খ্রিষ্টানদের ধর্ম পালনে বাধ্য করতো।একটা সময় যে ইউরোপ ছিলো জ্ঞান ও বিজ্ঞানের সবচেয়ে বড় চারণভূমি সেই ইউরোপে ক্ষমতার লোভে পড়ে মৌলবাদীরা চরম সাম্প্রদায়িক রাষ্ট্রে পরিণত করেছিলো।এর কারণ হচ্ছে ধর্মান্ধদের অজ্ঞতা ও ক্ষমতার লোভ।যার ফলে আজকের বাংলাদেশের মত এক দীর্ঘ অন্ধকার যুগ পার করেছিলো সমগ্র ইউরোপ।
খ্রিষ্টানদের ধর্ম বিশ্বাসের সাথে মিল না হওয়ায় তারা ব্রনোকে হত্যা করলো , নারী গণিতজ্ঞ হাইপেশিয়াকে নির্মমভাবে হত্যা করলো।১২০০ থেকে ১৩৫০ সাল পর্যন্ত পুরো ইউরোপজুড়ে ধর্মান্ধ খ্রিষ্টানরা এক আতঙ্ক সৃষ্টি করে রেখেছিলো। ধর্মের বিরুদ্ধে কেউ কিছু বললেই তারা তাকে হত্যা করতো, সাহিত্য কর্ম , শিল্পকর্ম ও বিজ্ঞান এই সবকিছু ইউরোপে একপ্রকার নিষিদ্ধ ছিলো।মিকেলেঞ্জেলো ডেভিডের ভাস্কর্য বানালে উগ্রবাদী খ্রিষ্টানরা তা ভেঙ্গে ফেললো ঠিক যেমন আমাদের দেশে বর্তমানে শেখ মুজিবের ভাস্কর্য্যকে মূর্তি আখ্যা দিয়ে ভেঙে ফেলা হচ্ছে। বর্তমান আধুনিক যুগের খ্রিষ্টানরা এই ধর্মান্ধতা ও উগ্রতাকে আধুনিক ইউরোপে সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ করেছে। মৌলবাদ ও উগ্রবাদ থেকে বের হয়ে তারা শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে ধর্মীয় শিক্ষা সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ করেছে।পেত্রাক , রাফায়েল ও লিওনার্দো এরা বুঝতে পেরেছিলেন বিদ্যালয়ে ধর্মশিক্ষা ছিলো উগ্রবাদ সৃষ্টির সবচেয়ে বড় কারণ।।
তাই বর্তমান যুগে এসে আপনি শিখ , শিন্টো, জৈন , ইহুদী ও খ্রিষ্টান তাদের কাউকেই দেখবেননা ধর্মের জন্য বোমা নিয়ে গিয়ে অন্য দেশের নিরীহ মানুষের উপর বোমা নিক্ষেপ করছে এবং ধর্মের জন্য মানুষ হত্যা করছে।তারা সভ্য হতে শুরু করেছে এবং আলোকিত হতে শূরু করেছে, যার কারণে পৃথিবীর লক্ষ লক্ষ মুসলমান অভিবাসী খ্রিষ্টান দেশে বসবাস করার জন্য পাগল হয়ে যায়।অন্ধকারে কেউই থাকতে চায়না।এই বাংলাদেশেও ধর্মান্ধ ও উগ্রবাদী একশ্রেণীর মুসলমান যে অন্ধকার যুগের সুচনা করেছে তা থেকে বাংলাদেশ আজ নয়তো কালো আলোর পথে আসবেই।।।
