Close Menu

    সাবস্ক্রাইব

    সর্বশেষ খবরের সাথে আপডেট থাকুন।

    জনপ্রিয় সংবাদ

    শিল্পী পেহেলি ভৈরবীসহ সিলেটে ৯ জনের প্রাণ ঝরলো সড়কে

    August 8, 2026

    জাফরউল্লাহর ঔষধনীতি

    August 8, 2026

    আন্তর্জাতিক মিডিয়ার দৃষ্টিতে শেখ হাসিনার সংবাদ সম্মেলন

    August 8, 2026
    Facebook Instagram WhatsApp TikTok
    Facebook Instagram YouTube TikTok
    JoyBangla – Your Gateway to Bangladesh
    Subscribe
    • হোম পেইজ
    • বিষয়
      • দেশ (Bangladesh)
      • আন্তজাতিক (International)
      • জাতীয় (National)
      • রাজনীতি (Politics)
      • অথনীতি (Economy)
      • খেলা (Sports)
      • বিনোদন (Entertainment)
      • লাইফ স্টাইল (Lifestyle)
      • শিক্ষাঙ্গন (Education)
      • টেক (Technology)
      • ধম (Religion)
      • পরবাস (Diaspora)
      • সাক্ষাৎকার (Interview)
      • শিল্প- সাহিত্য (Art & Culture)
      • সম্পাদকীয় (Editorial)
    • আমাদের সম্পর্কে
    • যোগাযোগ করুন
    JoyBangla – Your Gateway to Bangladesh
    Home » জাফরউল্লাহর ঔষধনীতি
    Economics

    জাফরউল্লাহর ঔষধনীতি

    JoyBangla EditorBy JoyBangla EditorAugust 8, 2026No Comments19 Mins Read
    Facebook WhatsApp Copy Link
    Share
    Facebook WhatsApp Copy Link

    ১৯৮২ সালের ১ জুন সকালে বাংলাদেশ টাইমসের প্রথম পাতায় খবর বের হলো, সতেরোশ বিয়াল্লিশটা অপ্রয়োজনীয় ওষুধ নিষিদ্ধ হচ্ছে।

    একই সকালে মার্কিন রাষ্ট্রদূত জেন কুন কোনো অ্যাপয়েন্টমেন্ট ছাড়াই এরশাদের দপ্তরে গিয়ে হাজির হলেন।

    দেশে তখন নিবন্ধিত ওষুধ চার হাজার তিনশ চল্লিশটা। আট সদস্যের একটা কমিটি মাত্র চোদ্দ দিনে, সেই তালিকা ঘেঁটে জানিয়েছিল, এর সতেরোশ বিয়াল্লিশটা হয় ক্ষতিকর, নয় অকেজো।

    সভাপতি অধ্যাপক নুরুল ইসলাম, পিজির পরিচালক।

    সঙ্গে ফার্মাকোলজিস্ট এম এ মান্নান, চক্ষুবিজ্ঞানী মোবারক আলী, শিশুরোগ বিশেষজ্ঞ এম কিউ কে তালুকদার, চিকিৎসা শিক্ষার পরিচালক হুমায়ুন হাই, সার্জন আজিজুর রহমান, ঔষধ প্রশাসনের পরিচালক নুরুল আনোয়ার।

    আর সাভারের গণস্বাস্থ্য কেন্দ্রের এক সার্জন, জাফরুল্লাহ চৌধুরী।

    আটজনের তিনজন মুক্তিযোদ্ধা। ওষুধ কোম্পানির একজন প্রতিনিধিও সেখানে নাই, দেশি বা বিদেশি। বিএমএর শীর্ষ নেতারাও না, কারণ তাদের কারও কারও সঙ্গে বহুজাতিক কোম্পানির আনুষ্ঠানিক সম্পর্ক ছিল।

    ওষুধ কোম্পানির প্রতিনিধিদের এই বাদ পড়াই পরবর্তী চুয়াল্লিশ বছরের যুদ্ধের কারণ।

    জাফরুল্লাহ চৌধুরী কমিটির সভাপতি ছিলেন না। মৃত্যুর পর বহু লেখায় তাকে প্রধান বানানো হয়েছে, সেটা ভুল, তিনি ছিলেন আটজনের একজন।

    তবু এই ওষুধনীতিটা ইতিহাসে তার নামে, কারণ ধাক্কাটা তার ছিল, এবং মাশুলটাও।

    ➖

    শুরু করি তাকে ঘিরেই।

    ষাটের দশকে জাফরুল্লাহ চৌধুরী বিদেশে সার্জারি পড়ছিলেন। ১৯৭০ সালে এফআরসিএসের প্রাথমিক ধাপ পাস করলেন। চূড়ান্ত পরীক্ষাটা আর দেওয়া হয় নাই, কারণ ১৯৭১ চলে আসলো।

    মেলাঘরে সীমান্তের ওপারে তিনি আর ডা. এম এ মবিন দাঁড় করালেন বাংলাদেশ ফিল্ড হাসপাতাল। চারশ আশিটা শয্যা, পাঁচজন বাঙালি ডাক্তার, আর প্রশিক্ষণহীন একদল নারী স্বেচ্ছাসেবক।

    যুদ্ধের পর সেই হাসপাতালই সাভারে এসে হলো গণস্বাস্থ্য কেন্দ্র। নাম রেখেছিলেন শেখ মুজিব, জমিও তিনি দিয়েছিলেন।

    ১৯৮১ সালের জুনে জাফরুল্লাহ বানালেন গণস্বাস্থ্য ফার্মাসিউটিক্যালস, কম দামে জেনেরিক ওষুধের কারখানা। কারখানার উদ্বোধন হয় ১৯৮২ সালের জানুয়ারিতে। ওষুধনীতির কমিটি বসেছে তার তিন মাস পরে, আর বহুজাতিকরা এই ফাঁককে আজীবন স্বার্থের সংঘাত বলে প্রচার করে গেছে।

    নীতিটাও আকাশ থেকে পড়ে নাই।

    জিয়ার আমলের স্বাস্থ্যমন্ত্রী এম এম হক, অবসরপ্রাপ্ত কর্নেল এবং গণস্বাস্থ্যের একজন ট্রাস্টি, ১৯৭৯ সালেই কড়া ওষুধ-আইনের খসড়া করে ফেলেছিলেন। ওষুধ শিল্প সমিতি খবর পেয়ে তাকে সরানোর ব্যবস্থা করে।

    বিদায়ের আগে তিনি গণস্বাস্থ্য ফার্মাসিউটিক্যালসের অনুমোদনে সই করে যান।

    তিন বছর পর, ১৯৮২ সালের ২৪ মার্চ, এরশাদ ক্ষমতা নিলেন, তার এক মাসের মাথায় কমিটি হলো। কমিটি গঠন থেকে আইন পর্যন্ত সাত সপ্তাহের কম সময়। সামরিক আমলে অধ্যাদেশে সংসদ লাগে না, আর লবিং করার সময়ও কেউ পায় না।

    সভাপতির চেয়ারে নুরুল ইসলামকে বসানোও হিসাব করা কৌশল। তিনি আওয়ামী লীগ ঘেঁষা, মানে প্রধান বিরোধী দলের কাছের লোক। নীতিটা যেন কোনো একটা পক্ষের না হয়।

    কমিটির হাতে ডব্লিউএইচওর অত্যাবশ্যকীয় ওষুধের হালনাগাদ তালিকাটাও প্রথমে ছিল না। পিজির লাইব্রেরিতে ছিল পুরনো সংস্করণ। নতুনটা ঢাকায় পৌঁছেছে ১০ মে, রিপোর্ট জমা পড়েছে ১১ মে।

    ➖

    এই নীতিতে যা ছিল, তার মর্ম কয়েক লাইনে ধরা যায়।

    অ্যান্টিবায়োটিকের সঙ্গে আরেকটা অ্যান্টিবায়োটিক বা স্টেরয়েড মেশানো চলবে না। শিশুদের জন্য ক্ষতিকর অ্যান্টিবায়োটিক তরল আকারে বানানো চলবে না।

    ব্যথানাশকের মিশ্রণ চলবে না, তাতে উপকার বাড়ে না, কিডনির ঝুঁকি বাড়ে। কোডিন কোনো মিশ্রণে না, তাতে নেশা ধরে। ভিটামিন বিক্রি হবে একক উপাদানে, ভিটামিনের সঙ্গে খনিজ মেশানো চলবে না।

    কাশির সিরাপ, গলার লজেন্স, গ্রাইপ ওয়াটার, অ্যালকালি মিক্সচার, টনিক, এনজাইম মিক্সচার, শক্তিবর্ধক, পুরো বর্গটাই বাদ। উৎপাদনও না, আমদানিও না। কমিটির ভাষায়, এসবের ব্যবসা দাঁড়িয়ে আছে ভোক্তার অজ্ঞতার উপর।

    সামান্য উপাদান বদলে একই কাজের নতুন ওষুধ নামানো চলবে না। ব্রিটিশ ফার্মাকোপিয়ার সর্বশেষ সংস্করণে নাই তো নিবন্ধনও নাই।

    এই এগারোটা মানদণ্ড বিশুদ্ধ চিকিৎসাবিজ্ঞানের। বাকি পাঁচটা রাজনীতির, এবং মূলশক্তি ওই পাঁচটাতেই।

    দেশে যে ওষুধ তৈরি হয়, সেটা বা তার কাছাকাছি বিকল্প আমদানি করা যাবে না। দেশে তৈরি কাঁচামালের বেলাতেও তাই।

    বহুজাতিক কোম্পানি সাধারণ পণ্য বানাতে পারবে না, ব্যথানাশক, ভিটামিন, অ্যান্টাসিডের বাজার শুধু দেশি কোম্পানির, আর ওই বাজারটা তখনকার মোট বাজারের প্রায় ষোলো ভাগ।

    সবশেষে, যে কোম্পানির দেশে নিজের কারখানা নাই, সে অন্যের কারখানায় ওষুধ বানিয়ে নিজের ব্র্যান্ডে বেচতে পারবে না।

    ওষুধের পণ্য-পেটেন্ট নিষিদ্ধ হলো। অত্যাবশ্যকীয় তালিকা হলো দেড়শ ওষুধের, বিশেষজ্ঞদের জন্য আরও একশ। তালিকা ভাগ হলো স্তরে, গ্রামের স্বাস্থ্যকর্মীর হাতে বারোটা, থানা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স পর্যন্ত পঁয়তাল্লিশটা, জেলার উপরে পুরো দেড়শ।

    ওই পঁয়তাল্লিশটা বিক্রি হবে শুধু জেনেরিক নামে।

    দাম নিয়ে অধ্যাদেশের এগারো নম্বর ধারায় লেখা হলো, সরকার গেজেট দিয়ে যেকোনো ওষুধের সর্বোচ্চ দাম বেঁধে দিতে পারিবে। ‘পারিবে’। বাধ্য না।

    সঙ্গে একগুচ্ছ প্রতিশ্রুতি। ১৯৮৩ সালের মধ্যে জাতীয় ফরমুলারি। ১৯৮৫ সালের মধ্যে জাতীয় ওষুধ মান-গবেষণাগার। খুচরা দোকানে নিবন্ধিত ফার্মাসিস্ট। ওষুধের মামলার জন্য আলাদা আদালত।

    ➖

    কমিটির বিরুদ্ধে সবচেয়ে বড় অভিযোগটা ছিল, এটা আসলে বিদেশি কোম্পানি তাড়ানোর নীতি।

    নিষিদ্ধ সতেরোশ বিয়াল্লিশটা পণ্যের মধ্যে বিদেশি কোম্পানির দেশে বানানো একশ ছিয়াত্তরটা, তাদেরই আমদানি করা ছয়শ সতেরোটা। বাকি নয়শ ঊনপঞ্চাশটা, অর্থাৎ অর্ধেকেরও বেশি, একশ ছাপ্পান্নটা দেশি কোম্পানির।

    আঘাতটা সবচেয়ে বেশি পড়েছে দেশি কারখানার গায়েই।

    তবে দোষের ধরন এক ছিল না। যুক্তিহীন অ্যান্টিবায়োটিক মিশ্রণ বাজারে ছাড়ায় এগিয়ে ছিল বিদেশি বহুজাতিকরাই, তাদের মধ্যে সবার উপরে পশ্চিম জার্মান আর সুইস কোম্পানি।

    গ্ল্যাক্সো বাংলাদেশ ওই বছর দেশে বেচত ছাপ্পান্নটা পণ্য। তার বাইশটাই ভিটামিন আর টনিক। ওই বাইশটার মধ্যে ব্রিটেনে বিক্রি হতো মাত্র তিনটা।

    একই কোম্পানি, দুই বাজার, দুই রকম হিসাব। ব্রিটেনের মানুষের জন্য ওষুধ, বাংলাদেশের মানুষের জন্য টনিক।

    নিষিদ্ধরা ভাগ হলো তিন তফসিলে। প্রথম তফসিল সঙ্গে সঙ্গে বন্ধ, তিন মাসের মধ্যে দোকান থেকে তুলে ধ্বংস। দ্বিতীয়টা ছয় মাসের মধ্যে নতুন ফর্মুলায় বানাতে হবে। তৃতীয়টার মজুদ নয় মাসে বেচে শেষ।

    প্রথম দুই তফসিলের কাঁচামাল আমদানি বন্ধ হলো ওই দিন থেকেই, যাতে পুরনো ফর্মুলা ফিরে আসার রাস্তাটাও না থাকে।

    কমিটি শুধু ফর্মুলায় থামল না, দামেও হাত দিলো। কেন, তার সাক্ষী তখনকার আমদানির খাতা। স্কুইব বাংলাদেশ টেট্রাসাইক্লিনের কাঁচামাল আনত দেশি কোম্পানিগুলোর তিন গুণ দামে। ফাইজার কিনত নিজেদেরই হংকং শাখা থেকে।

    কাগজে সেটা কেনাকাটা। বাস্তবে বাঁ হাত থেকে ডান হাতে সরানো, মাঝখানের দামের ফারাকটা দেশের বাইরে রেখে আসা।

    কথাটা কোনো বামপন্থী পুস্তিকার না। ১৯৭৯ সালে বিশ্বব্যাংকের সমীক্ষা দলই লিখে গিয়েছিল, বাংলাদেশে বাণিজ্যিকভাবে উৎপাদিত কিছু ওষুধের তুলনামূলক অত্যধিক দাম চোখে পড়ার মতো।

    ➖

    রিপোর্ট মন্ত্রিপরিষদে পাস হলো ২৯ মে। খবর ছাপা হলো ১ জুন। মার্কিন রাষ্ট্রদূত এরশাদের কাছে গেলেন সেই সকালেই।

    ২ জুন জেন কুন ওয়াশিংটনে গোপন তারবার্তা পাঠালেন, অনুলিপি গেল কলম্বো, কলকাতা, ইসলামাবাদ, করাচি, কাঠমান্ডু, নয়াদিল্লি আর রেঙ্গুনে।

    তারবার্তায় লেখা, বহুজাতিক কোম্পানিগুলো নীতির পূর্ণ পাঠের অগ্রিম কপি জোগাড় করে ফেলেছে, যা এখনো জনগণের জন্য প্রকাশই হয় নাই। এক মার্কিন কোম্পানির প্রাথমিক হিসাবে, নীতিটা কার্যকর হলে তার রাজস্বের পঁচিশ শতাংশ যাবে।

    পরের এক তারবার্তায় বর্ণনাটা আরও খোলামেলা, ঢাকার বিদেশি বিনিয়োগকারী, বড় বাংলাদেশি ব্যবসায়ী আর পশ্চিমা কূটনীতিকদের মেজাজ গুরুতর হতাশা থেকে ক্রোধ পর্যন্ত।

    কুনের তারবার্তার যে অনুচ্ছেদে এরশাদের সঙ্গে বৈঠকের বিবরণ, প্রকাশের সময় সেটা কালো কালিতে ঢেকে দেওয়া হয়েছে। চুয়াল্লিশ বছর পরেও ওই অনুচ্ছেদ গোপন।

    ৬ জুন এরশাদের প্রধান স্টাফ অফিসার মেজর জেনারেল মোজাম্মেল হকের সভাপতিত্বে প্রকাশ্য শুনানি বসল। কোম্পানির প্রতিনিধিরা বললেন, স্বাধীন পর্যালোচনার আগে নীতি কার্যকর করা ঠিক হবে না, এই নীতি বিদেশি বিনিয়োগ তাড়াবে।

    দেশ ছাড়ার হুমকিটা সরাসরি দিলেন না, ইঙ্গিতে দিলেন।

    শুনানি শেষে মোজাম্মেল হক উপরে যে রিপোর্ট দিলেন, তার সারকথা, কোম্পানিগুলোর প্রচার দাঁড়িয়ে আছে পুরো মিথ্যার উপর, নীতিটাকে বরং আইনের কাঠামো দেওয়া দরকার।

    ১১ জুন সন্ধ্যায় মন্ত্রিসভার বৈঠকে অর্থমন্ত্রী এ এম এ মুহিত আর শিল্পমন্ত্রী শাইফুল আজম আপত্তি তুললেন, নীতি অকালপক্ব, বিনিয়োগ ভয় পাবে। স্বাস্থ্যমন্ত্রী শামসুল হক জোর দিলেন, এরশাদ যুক্তরাষ্ট্র সফরে যাওয়ার আগেই যেন সই হয়।

    এরশাদ কিছুক্ষণ চুপ করে থাকলেন। তারপর সই করলেন। পরদিন ঔষধ নিয়ন্ত্রণ অধ্যাদেশ ১৯৮২ গেজেটে।

    ➖

    ১৬ জুন মার্কিন ওষুধ প্রস্তুতকারক সমিতির সভাপতি লুইস এঙ্গম্যান এরশাদকে তিন পৃষ্ঠার চিঠি লিখলেন।

    চিঠির যুক্তি, শ্রীলঙ্কা আর পাকিস্তান এই পথে গিয়ে ফিরে এসেছে, বাংলাদেশ এত অগ্রগতির পর ওই দেশগুলোর ভুল ওষুধনীতির পথে গেলে সেটা হবে বিশেষভাবে দুর্ভাগ্যজনক।

    সমাধান হিসেবে তিনি একটা পর্যালোচনা প্যানেলের প্রস্তাব দিলেন, যার সদস্য বাছাই করবে বিএমএ, ফার্মাসিউটিক্যাল সোসাইটি আর ওষুধ শিল্প সমিতি।

    মাসখানেক পর সরকার যে পর্যালোচনা কমিটি করল, সেটা কাদের সঙ্গে বসেছিল মিলিয়ে দেখলে এঙ্গম্যানের চিঠির প্রস্তাবের সঙ্গে আশ্চর্য মিল পাওয়া যায়।

    ১৮ জুন ওয়াশিংটনে এরশাদ দেখা করলেন প্রেসিডেন্ট রিগ্যানের সঙ্গে, তারপর ভাইস প্রেসিডেন্ট বুশের সঙ্গে, এবং নীতি পুনর্বিবেচনায় রাজি হয়ে ফিরলেন। মার্কিন বিজ্ঞানীদের একটা দল ঢাকায় আসবে, এই প্রস্তাবেও সম্মতি দিয়ে এলেন।

    ২৪ জুন স্টেট ডিপার্টমেন্টে ওষুধ সমিতির সঙ্গে বৈঠক বসল। ওয়াইথ, স্মিথক্লাইন, ফাইজার, স্কুইবের কর্তারা হাজির।

    সিদ্ধান্ত হলো, ঢাকার দূতাবাস বাংলাদেশ সরকারকে একটা স্মারকলিপি আর একটা চিঠি পৌঁছে দেবে। আর বৈঠকের নোটে ওই সিদ্ধান্তের পাশে লেখা রইল ছোট্ট একটা বাক্য, দুইটাই লিখে দেবে সমিতি।

    মার্কিন রাষ্ট্রের কূটনৈতিক নোট লিখে দিচ্ছে ওষুধ কোম্পানির সমিতি। বাক্যটা অনুমান থেকে বলা না, ছাপার অক্ষরে টিকে থাকা দলিল থেকে বলা।

    জুলাইয়ে রাষ্ট্রদূত জানালেন, চার সদস্যের এক স্বাধীন বৈজ্ঞানিক কমিটি ২০ তারিখ ঢাকায় আসছে। স্বাস্থ্যমন্ত্রী শামসুল হক বিশেষজ্ঞদের জীবনবৃত্তান্ত দেখতে চাইলেন। রাষ্ট্রদূত এতটাই অপমানিত বোধ করলেন যে টেবিলে সাজানো চা না স্পর্শ করেই বের হয়ে গেলেন।

    তৃতীয় বিশ্বের এক মন্ত্রী মার্কিন বিশেষজ্ঞের কাগজ দেখতে চায়, স্পর্ধাটা এইখানে।

    কাগজ চাওয়ার কারণ অবশ্য ছিল। স্বাধীন কমিটির চারজন আসলে স্কুইব, ওয়াইথ আর স্মিথক্লাইনের লোক। ঢাকায় এসে তারা কোম্পানিগুলোর সঙ্গে বসলেন, শিল্প সমিতির সঙ্গে বসলেন, বিএমএর সঙ্গে বসলেন।

    যে বিশেষজ্ঞ কমিটি নীতিটা লিখেছে, শুধু তাদের সঙ্গেই বসতে অস্বীকার করলেন। তারপর যে রিপোর্ট লিখলেন, সেটা আজ পর্যন্ত কেউ দেখে নাই।

    এরশাদ পরে স্বাস্থ্যমন্ত্রীকে বলেছিলেন, স্বাধীন কমিটি বলতে তিনি বুঝেছিলেন এফডিএর কর্মকর্তা আর বিজ্ঞান একাডেমির গবেষক, নিশ্চিতভাবেই ওষুধ কোম্পানির লোক না।

    শুধু ওয়াশিংটন না। ব্রিটিশ, ডাচ আর পশ্চিম জার্মান রাষ্ট্রদূতরাও একে একে এরশাদের কাছে গেলেন। জার্মান রাষ্ট্রদূত সবচেয়ে ক্ষুব্ধ, জানিয়ে গেলেন হোয়েখস্ট বাংলাদেশে সম্প্রসারণের কথা ভাবছিল, কিন্তু এখন আর ভাবছে না।

    ১৯ আগস্ট ওয়াশিংটন পোস্টের প্রথম পাতায় শিরোনাম বের হলো, বাংলাদেশে ওষুধ কোম্পানিগুলোকে সাহায্য করছে যুক্তরাষ্ট্র। মার্কিন সরকারের মুখপাত্রের জবাবই সবচেয়ে সরল স্বীকারোক্তি, বিদেশে মার্কিন স্বার্থ দেখা স্টেট ডিপার্টমেন্টের আইনি দায়িত্ব।

    এরশাদ পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়কে বললেন, খবরটার কপি সবাইকে বিলি করতে।

    স্টেট ডিপার্টমেন্ট আনুষ্ঠানিকভাবে চাপের অভিযোগ অস্বীকার করল। বলল, দূতাবাস শুধু দুই পক্ষের সংলাপের সুযোগ করে দিয়েছে আর আশা প্রকাশ করেছে যে বাস্তবায়ন একটু পেছানো হবে।

    মার্কিন ভোক্তা-অধিকারকর্মী ডা. সিডনি ওল্ফ জবাবে যা লিখেছিলেন, সেটা আজও উদ্ধৃতিযোগ্য।

    কোনো বিদেশি সরকার আমাদের এফডিএর কোনো সিদ্ধান্ত পেছাতে বললে মার্কিন জনগণ কী করত ভাবুন। যে দেশ আমাদের সাহায্যের উপর চলে, সেই দেশে স্টেট ডিপার্টমেন্টের প্রকাশ করা আশা যে হুমকি হয়েই পৌঁছায়, এটা না বোঝার ভান করা সরলতা।

    ➖

    দেশের ভেতরের লড়াইটা ছিল আরও নোংরা।

    ২৩ জুন, এরশাদ যুক্তরাষ্ট্র থেকে ফেরার দিনে, সব জাতীয় দৈনিকে ওষুধ শিল্প সমিতির বিজ্ঞাপন ছাপা হলো, শিরোনাম সামরিক কর্তৃপক্ষের প্রতি আবেদন।

    ১৪ আগস্ট বাংলা দৈনিকগুলোতে আসলো দেড় পাতার আরেকটা বিজ্ঞাপন। এবার আর আবেদন না, অভিযোগ।

    অক্সফাম আর ওয়ার অন ওয়ান্টের মতো খ্রিস্টান দাতা সংস্থা আর তাদের দেশীয় সহযোগীরা মুসলিম বাংলাদেশ ধ্বংসের আন্তর্জাতিক ষড়যন্ত্রে নেমেছে। দেশীয় সহযোগীর নাম লেখা হলো না, ইঙ্গিত গেলো সাভারের দিকে।

    পত্রিকাও ভাগ হলো। নিউ নেশন লিখল, নীতি কার্যকর হলে বহু কারখানা বন্ধ, হাজারো বেকার, উৎপাদন আশি শতাংশ পর্যন্ত কমবে। দ্য পালস লিখল, বিশেষজ্ঞ কমিটির চিকিৎসা দেখে পুরনো কথাটাই মনে পড়ে, অপারেশন সফল, রোগী মৃত।

    বিএমএ স্বাস্থ্যমন্ত্রীর বারবার অনুরোধেও বিশেষজ্ঞ কমিটির মুখোমুখি বসল না।

    তারা লিখিত বক্তব্য দিল, কম্বিনেশন অ্যান্টিবায়োটিক নিরাপদ, শিশুদের টেট্রাসাইক্লিন সিরাপ দরকার, পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া বিরল। ডাক্তারদের জাতীয় সংগঠনের সেই পুরো বক্তব্যে একটাও জেনেরিক নাম ছিল না। সবই ব্র্যান্ডের নাম, মানে কোম্পানির ভাষা।

    পর্যালোচনা কমিটির সামনে সাক্ষ্য দিতে আসলেন সাবেক বিএমএ সভাপতি অধ্যাপক ফিরোজা বেগম। তিনি ফাইজারের পরিচালক, আরও তিনটা ওষুধ কোম্পানির শেয়ারহোল্ডার।

    শিল্প সমিতির সবচেয়ে ধারালো ঘা ছিল ব্যক্তিগত, এবং মিথ্যাও না। প্রচারে তারা বলল, এই ক্ষতিকর ওষুধগুলো এতদিন অনুমোদন করেছে যে রেসিপি কমিটি, তার সভাপতি অধ্যাপক নুরুল ইসলাম।

    তিনিই এখন বিশেষজ্ঞ কমিটির সভাপতি। যে লোক অনুমোদন দিলো, সে-ই নিষিদ্ধ করছে।

    ৩০ জুলাই তেইশজন অধ্যাপক আর চল্লিশজন জ্যেষ্ঠ চিকিৎসক বিএমএ সভাপতির কাছে লিখিত দাবি তুললেন, নুরুল ইসলাম আর জাফরুল্লাহ চৌধুরীর বিরুদ্ধে সাংগঠনিক ব্যবস্থা চাই, না হলে আমরা সদস্যপদ ছাড়ব।

    রাস্তার ক্ষোভও সত্যি ছিল। মায়েরা রাগলেন গ্রাইপ ওয়াটারের শোকে। শহরের বিত্তবানেরা রাগলেন প্রিয় টনিক আর হজমি সিরাপ হারানোর কারণে। ওষুধশিল্পের লোকেরা মনে করিয়ে দিলো, উডওয়ার্ডের গ্রাইপ ওয়াটার তো ব্রিটেনের ঘরে ঘরে চলে।

    সমর্থনও জুটল। ৪ আগস্ট ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের দুইশ উনত্রিশজন শিক্ষক নীতির পক্ষে বিবৃতি দিলেন, তালিকায় আহমদ শরীফ, কবীর চৌধুরী, এমাজউদ্দীন আহমদ।

    বিদেশে পাশে দাঁড়াল অক্সফাম, ওয়ার অন ওয়ান্ট, ক্রিশ্চিয়ান এইড, হেলথ অ্যাকশন ইন্টারন্যাশনাল।

    আর যে সংস্থার পাশে দাঁড়ানোর কথা সবার আগে, সেই বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা দাঁড়াল না। নীতির ভিত্তিই ছিল তাদের অত্যাবশ্যকীয় ওষুধের ধারণা।

    স্বাস্থ্যমন্ত্রীর ভাষ্য, মহাপরিচালক হালফদান মালার তাকে ব্যক্তিগতভাবে অভিনন্দন জানিয়েছিলেন, প্রকাশ্য বিবৃতি দিতে রাজি হন নাই।

    সেপ্টেম্বরে হালফদান মালার ঢাকায় আসলেন, আঞ্চলিক সম্মেলনে ভাষণও দিলেন, নীতির পক্ষে একটা বাক্যও বললেন না।

    এত চাপের মধ্যে এরশাদ একটা জায়গায় অনড় থাকলেন। শিল্পমন্ত্রী ২০ জুলাই আবার পুনর্বিবেচনার কথা তুললে তার জবাব, ওষুধ কোম্পানিগুলো এই দেশের মানুষের রক্ত চুষছে, যথেষ্ট মুনাফা করেছে, কিছু লোকসান সইতে পারবে।

    ৭ সেপ্টেম্বর তিনি নিজের বৈঠককক্ষে দুই কমিটিকে মুখোমুখি বসালেন, নীতি যারা লিখেছে সেই বিশেষজ্ঞরা এক পাশে, সেনা-চিকিৎসকদের পর্যালোচনা কমিটি আরেক পাশে। পাঁচ ঘণ্টা চলল প্রায় আদালতের মতো শুনানি।

    শেষে এরশাদ রায় দিলেন নীতির পক্ষে।

    ছাড় অবশ্য দিতে হলো। দ্বিতীয় তফসিলের সময়সীমা ছয় মাস থেকে এক বছর, তৃতীয়টার নয় মাস থেকে আঠারো মাস, শেষমেশ ১৯৮৪ সালের জুন।

    চল্লিশটার মতো পণ্য ছাড় পেল, সতেরোশর মধ্যে চল্লিশ। ১৯৮২ সালের সেপ্টেম্বরে আর ১৯৮৩ সালের ডিসেম্বরে ছোট ছোট আরও দুই দফা সংশোধন।

    আর সবচেয়ে বড় ছাড়টা হলো নিঃশব্দে। পঁয়তাল্লিশটা ওষুধ শুধু জেনেরিক নামে বেচার যে বিধান, সেটা চুপচাপ তুলে ফেলা হলো। ওই বিধান আর কোনোদিন ফেরে নাই।

    ➖

    এবার হিসাবের দুইটা পাতা, পাশাপাশি।

    প্রথমটা সাফল্যের পাতা, এবং এটা বানানো গল্প না।

    ১৯৮১ সালে দেশের ওষুধ উৎপাদনের তিন-চতুর্থাংশ আটটা বিদেশি কোম্পানির হাতে। ১৯৯৮ সালে দেশি কোম্পানির হিস্যা সাতষট্টি শতাংশ। ২০০৫ সালে বিরাশি। আজ দেশের চাহিদার প্রায় আটানব্বই শতাংশ দেশে তৈরি।

    নীতির পরের পাঁচ বছরে দেশি শিল্প বেড়েছে বছরে চোদ্দ শতাংশ হারে। একশ দশ কোটি টাকার শিল্প আজকে বিয়াল্লিশ হাজার কোটির।

    রপ্তানি শুরু প্রায় শূন্য থেকে, ২০০৪ সালে বিরাশি লাখ ডলার, গত অর্থবছরে একুশ কোটি ডলারের বেশি।

    ২০০৭ সালে স্কয়ার পেল ব্রিটিশ নিয়ন্ত্রকের স্বীকৃতি। ২০১৫ সালের জুনে বেক্সিমকোর টঙ্গী কারখানা মার্কিন এফডিএর পরিদর্শনে পাস করল একটাও আপত্তি ছাড়া। সরকারি হাসপাতালের ওষুধ কেনার দর আজকে আন্তর্জাতিক মানের সমান, কোথাও তার নিচে।

    যে দেশ চল্লিশ বছর আগে টনিকের বাজার ছিল, সে আজ ওষুধ রপ্তানি করে।

    দ্বিতীয় হিসাবটা লেখা ঢাকা শিশু হাসপাতালে।

    ১৯৯০ সালের শেষদিকে সেখানকার ডাক্তাররা খেয়াল করলেন, কিডনি বিকল হয়ে আসা শিশুর সংখ্যা অস্বাভাবিক বাড়ছে। ১৯৯০ থেকে ১৯৯২, ওই এক হাসপাতালে ভর্তি হলো চারশ উনত্রিশটা শিশু।

    তিনশ উনচল্লিশটার অসুখের কোনো কারণ ডাক্তাররা মেলাতে পারছিলেন না। ব্যাখ্যাহীনদের সত্তর শতাংশ মারা গেল।

    কারণটা পাওয়া গেল প্যারাসিটামল সিরাপের বোতলে। পরীক্ষা করা উনসত্তরটা বোতলের উনিশটায়, আটাশটা ব্র্যান্ডের সাতটায়, দ্রাবক হিসেবে মিলল ডাইইথিলিন গ্লাইকল।

    যেখানে থাকার কথা প্রোপিলিন গ্লাইকল, নিরীহ, দামি। ডাইইথিলিন গ্লাইকল শিল্পের কাঁচামাল, মানুষের শরীরে বিষ, কিডনি অচল করে দেয়।

    প্রোপিলিন গ্লাইকলের দাম তখন লিটারে এগারোশ টাকা। ডাইইথিলিন গ্লাইকলের দুইশ।

    নয়শ টাকা বাঁচাতে গিয়ে শিশুদেরকে বিষ খাওয়ানো হয়েছে জ্বরের ওষুধের বোতলে।

    গবেষকরা নির্দিষ্ট দূষিত ব্র্যান্ডের সঙ্গে সরাসরি মেলাতে পেরেছেন অন্তত একান্নটা মৃত্যু, আর লিখে গেছেন, আসল সংখ্যা নিঃসন্দেহে এর অনেক বেশি।

    ডেইলি স্টার পরে জাতীয় হিসাব বিশ্লেষণ করে লিখেছে, ১৯৮২ থেকে ১৯৯২ পর্যন্ত এই বিষে মারা গেছে আনুমানিক দুই হাজার সাতশ শিশু। সংখ্যাটা সাংবাদিকের অনুমান, গবেষণার গণনা না, কিন্তু মাত্রাটা বোঝা যায়।

    ১৯৯২ সালের ডিসেম্বরে সরকার প্যারাসিটামল সিরাপ বিক্রিই বন্ধ করে দিলো। পরের বারো মাসে ব্যাখ্যাহীন কিডনি বিকলের ভর্তি কমল চুরাশি শতাংশ। এর চেয়ে পরিষ্কার প্রমাণ আর হয় না।

    এইখানেই অবশ্য ১৯৮২ সালের কাগজটার সবচেয়ে বড় গর্ত। যে অধ্যাদেশ সতেরোশ ওষুধ নিষিদ্ধ করেছিল, তাতে ওষুধে ভেজাল দেওয়ার কোনো অপরাধই লেখা ছিল না।

    ভেজালের বিচার চালাতে হয়েছে ঘুরপথে, অন্য অপরাধের ধারায়। আর সারা দেশের দুইশ আটটা কারখানা দেখার জন্য পরিদর্শক ছিলেন তেতাল্লিশজন।

    যে আইন ওষুধকে জাতীয় নৈতিক প্রশ্ন বানিয়েছিল, সেই আইনে ওষুধ দিয়ে শিশু মারার শাস্তিটা লেখা হয় নাই।

    ➖

    ১৯৯২ সালের ডিসেম্বরে চার কোম্পানির বিরুদ্ধে পাঁচটা মামলা হলো। পঞ্চম একটা কোম্পানি, সিটি কেমিক্যাল, ভেজাল সিরাপ বানাচ্ছে ধরা পড়েও কোনোদিন অভিযুক্তই হলো না।

    ১৯৯৪ সালে হাইকোর্ট মামলাগুলো স্থগিত করল। মামলা ঘুমিয়ে থাকল সতেরো বছর। জাগল ২০১১ সালে, আদালতের নিজের তাগিদে না, সাংবাদিকদের লেখালেখির চাপে।

    ততদিনে ঔষধ প্রশাসন জানালো, ১৯৯২ সালে জব্দ করা নমুনার কোনো রেকর্ডই দপ্তরে আর নাই। দায়িত্বে যারা ছিলেন, কেউ মৃত, কেউ অবসরে। এক সরকারি কৌঁসুলির ভাষায়, জব্দতালিকার ভুল উপস্থাপনাটা আপাতদৃষ্টিতে ইচ্ছাকৃত।

    তবু কিছু রায় হলো। অ্যাডফ্লেমের তিন কর্মকর্তার দশ বছর, ২০১৪ সালে, ওই আইনে যা সর্বোচ্চ। বিসিআইয়ের ছয়জনের বিশ বছর করে, ২০১৫ সালে, এই এক কোম্পানির প্যারাসেম সিরাপেই মারা গিয়েছিল অন্তত ছিয়াত্তরটা শিশু।

    রায়ের দিন ছয় আসামির একজন আদালতে ছিলেন, বাকিরা পলাতক। পলিকেমের পরিচালকের এক বছর, মামলার ছাব্বিশ বছর পরে। রেক্স খালাস, কারণ প্রসিকিউশনই মামলা সাজায় নাই।

    যে গবেষক পুরো মহামারিটা নথিবদ্ধ করেছিলেন, ব্রিটিশ মেডিকেল জার্নালে ছাপা সেই গবেষণার প্রধান লেখক অধ্যাপক মোহাম্মদ হানিফকে কোনো মামলায় সাক্ষী হিসেবে ডাকা হয় নাই।

    এবং গল্পটা ১৯৯২ সালে শেষও হয় নাই। ২০০৯ সালের জুলাইয়ে ব্রাহ্মণবাড়িয়ার রিড ফার্মার সিরাপ খেয়ে মারা গেল অন্তত চব্বিশ শিশু।

    কোম্পানিটার সিরাপ বানানোর অনুমতিই ছিল না। ২০১৬ সালে ওই মামলার পাঁচ আসামির সবাই খালাস। আদালত রায়ে ঔষধ প্রশাসনের গাফিলতি, অদক্ষতা আর অযোগ্যতার কথা আলাদা করে লিখে দিলো।

    প্রতিশ্রুত প্রতিষ্ঠানগুলোর খবরও মিলিয়ে নেওয়া যাক।

    ১৯৮৫ সালের মধ্যে যে জাতীয় মান-গবেষণাগার হওয়ার কথা, আন্তর্জাতিক স্বীকৃতি সে পেয়েছে ২০২০ সালের এপ্রিলে, পঁয়ত্রিশ বছর দেরিতে।

    জাতীয় ফরমুলারি ছাপা হয়েছে, কিন্তু ২০১৫ সালে বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার পর্যালোচনা দল কোনো স্বাস্থ্যকেন্দ্রে সেটার একটা কপিও চোখে দেখে নাই। দোকানে দোকানে ফার্মাসিস্ট বসে নাই, বসেছে আনুমানিক ত্রিশ হাজার অবৈধ আর আশি হাজার অনিবন্ধিত ওষুধের দোকান।

    ড্রাগ কোর্ট আছে, ২০২৩ সালে সারা বছরে বসেছে আটবার, ভেজালের দায়ে কারাদণ্ড দেওয়া হয়নি একজনকেও।

    ২০০৯ সালে ত্রিশটা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স আর বিশটা শহুরে ক্লিনিকে গবেষকরা জরিপ চালিয়েছিলেন। বিশটা মূল অত্যাবশ্যকীয় ওষুধের পুরো মজুদ ছিল, এমন কেন্দ্র পাওয়া গেল শূন্যটা।

    জ্বর আর সর্দিতে অ্যান্টিবায়োটিক লেখা হচ্ছে নিউমোনিয়ার চেয়ে বেশি হারে। গবেষকদের রায়, নীতিটা দীর্ঘমেয়াদে ওষুধের প্রাপ্যতা, যুক্তিসঙ্গত ব্যবহার আর সাধারণ মানুষের সামর্থ্য, কোনোটাই নিশ্চিত করতে পারে নাই।

    হার্ভার্ডের গবেষক মাইকেল রাইখ ১৯৯৪ সালেই পুরো গল্পের সবচেয়ে সৎ পাঠটা লিখে রেখেছিলেন।

    বাংলাদেশ প্রমাণ করেছে, গরিব দেশের সরকারও বহুজাতিকের বিরুদ্ধে জিততে পারে। কিন্তু দেশি স্বার্থগোষ্ঠীর বিরুদ্ধে লড়া সম্পূর্ণ আলাদা জিনিস, ওই লড়াইয়ে সরকার নিজেই পড়ে যায়।

    পরের তিরিশ বছর ওই দ্বিতীয় বাক্যের ধারাবাহিক প্রমাণ।

    ➖

    নীতিটা কেউ কোনোদিন বাতিল করে নাই। দরকারই পড়ে নাই। যেটুকু করতে হয়েছে, নিঃশব্দে করা গেছে।

    ১৯৯৩ সালের ১৮ সেপ্টেম্বর সরকার গেজেট করে সাতশ উনচল্লিশটা ওষুধের সর্বোচ্চ দাম বেঁধে দিলো।

    পাঁচ মাস পর, ১৯৯৪ সালের ২৬ ফেব্রুয়ারি, স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের একটা পরিপত্র সেই সংখ্যা নামিয়ে আনল একশ সতেরোতে। বাকি ছয়শ বাইশটা ওষুধের দাম চলে গেল কোম্পানির হাতে।

    সংসদে ওঠে নাই, বিতর্ক হয় নাই, বড় খবরও হয় নাই। মন্ত্রণালয়ের একটা পরিপত্র, একটা সইয়ে ছয়শের বেশি ওষুধের দাম ছেড়ে দেওয়া এবং ওই পরিপত্র একত্রিশ বছর কেউ আদালতে তোলে নাই।

    ২০০৫ সালে আসলো নতুন জাতীয় ওষুধনীতি, যার খসড়া কমিটি সাজানো হয়েছিল মূলত ওষুধ শিল্পপতিদের দিয়ে।

    ফলাফল কমিটির গড়নেই লেখা ছিল। টোল ম্যানুফ্যাকচারিংয়ের নিষেধ উঠল, বিদেশি লাইসেন্সে উৎপাদন ফিরল। সাধারণ পণ্য দেশি কোম্পানির জন্য সংরক্ষণের বিধান গেল। কম্বিনেশন ওষুধ নিয়ে রইল নীরবতা, আর নীরবতা মানেই অনুমতি।

    অধ্যাপক সায়েদুর রহমান পরে এই নীতির এক লাইনের ময়নাতদন্ত করে দিয়েছেন। ২০০৫ সালের ওষুধনীতিতে স্বাস্থ্য শব্দটাই নাই, মন্ত্রণালয়ের নামের ভেতরটুকু ছাড়া।

    ২০১৬ সালের ডিসেম্বরে মন্ত্রিসভা আরেকটা নীতি অনুমোদন করল।

    অত্যাবশ্যকীয় তালিকা বেড়ে দুইশ পঁচাশি, শুনতে ভালো। কিন্তু দাম বাঁধা রইল সেই একশ সতেরোটাতেই, বাকি একশ আটষট্টিটার দাম ঠিক হয় কোম্পানির প্রস্তাবে সরকারের সিলমোহরে। নীতিতে লেখা ছিল, তালিকা হালনাগাদ হবে প্রতি দুই বছরে।

    পরের দশ বছরে একবারও হয় নাই।

    ২০২৩ সালের সেপ্টেম্বরে সংসদ পাস করল ওষুধ ও কসমেটিকস আইন। তার একাশি ধারায় রহিত হয়ে গেল ১৯৮২ সালের অধ্যাদেশ। নতুন আইনে ভালো জিনিসও আছে। অপরাধের ধরন ছয় থেকে বেড়ে ত্রিশ। ভেজাল ওষুধ বানালে যাবজ্জীবন।

    কিন্তু বেঁধে দেওয়া দামের বেশি নিলে শাস্তি সর্বোচ্চ দুই বছর বা দুই লাখ টাকা। ভেজালে যাবজ্জীবন, বেশি দামে দুই বছর। আইনের অগ্রাধিকার এই অনুপাতে লেখা, এবং অনুপাতটা শিল্পের পছন্দেরই প্রতিফলন।

    দাম বাঁধার ক্ষমতা গেল আইনের ত্রিশ ধারায়। সরকার সর্বোচ্চ খুচরা মূল্য নির্ধারণ করিতে পারিবে।

    ১৯৮২ সালের এগারো ধারা থেকে ২০২৩ সালের ত্রিশ ধারা, একচল্লিশ বছরে শব্দটা বদলায় নাই। পারিবে।

    জাফরুল্লাহ চৌধুরী মারা যান ২০২৩ সালের ১১ এপ্রিল। তার অধ্যাদেশ রহিত হয় তার পাঁচ মাস পরে। ক্ষয়ের শেষ অধ্যায়টা তাকে অন্তত দেখতে হয় নাই।

    ➖

    কারা এই ক্ষয় চেয়েছে, তার উত্তরের জন্য ষড়যন্ত্রতত্ত্ব লাগে না। পদবিগুলো পরপর সাজালেই চলে।

    দেশে ওষুধ প্রস্তুতকারক দুইশ আটান্নটা। তার মধ্যে বিশটা কোম্পানি উৎপাদনের চুরানব্বই শতাংশ করে, বাকি দুইশ আটত্রিশটা মিলে ছয়। শীর্ষ তিন, স্কয়ার, ইনসেপ্টা, বেক্সিমকো, দেশজ বিক্রির এক-তৃতীয়াংশের বেশি।

    ওষুধ শিল্প সমিতি ১৯৭২ সালে শুরু করেছিল তেত্রিশজন সদস্য নিয়ে। একটা আন্তর্জাতিক খাত-সমীক্ষা সমিতিটার বর্ণনা দিয়েছে এক বাক্যে, এর সভাপতি সংসদে প্রতিনিধিত্ব করেন এবং প্রধানমন্ত্রীকে পরামর্শ দেন।

    বাক্যটা রূপক না। নাজমুল হাসান পাপন একই সময়ে ছিলেন শিল্প সমিতির সভাপতি, বেক্সিমকো ফার্মার ব্যবস্থাপনা পরিচালক আর সরকারদলীয় সংসদ সদস্য।

    ২০২৪ সালের জানুয়ারিতে মন্ত্রিসভায় ঢোকার জন্য তিনি কোম্পানির পদ ছাড়লেন। সালমান এফ রহমান, বেক্সিমকোর সহ-প্রতিষ্ঠাতা, ১৯৯৪ থেকে ১৯৯৬ ছিলেন ব্যবসায়ীদের শীর্ষ সংগঠনের সভাপতি, যে বছর দাম-বাঁধা তালিকাটা কাটা হয়, সেই বছরই।

    ২০১৯ সালে তিনি তৎকালীন প্রধানমন্ত্রীর শিল্প ও বিনিয়োগ উপদেষ্টা, মন্ত্রীর মর্যাদায়।

    যে শিল্পকে ১৯৮২ সালের নীতি দেয়াল তুলে বড় করেছিল, সেই শিল্পই বড় হয়ে নীতিটার বিরুদ্ধে সবচেয়ে সংগঠিত পক্ষ।

    আর, এই বিষয়ে কোন রাজনৈতিক দলের কী হিসাব, সেটা মিলে না বলেই আসল হিসাবটা ধরা পড়ে।

    ১৯৯৪ সালের কাটছাঁট বিএনপির আমলে। ২০০৫ সালের নীতি বিএনপির। ২০১৬ সালের নীতি আর ২০২৩ সালের আইন আওয়ামী লীগের। সরকার বদলেছে পাঁচবার, এই শিল্পের অবস্থান একবারও না।

    গত বছরের আগস্টে বিএনপির মহাসচিব দলের অর্জনের তালিকায় ১৯৯৪ সালের ওষুধ-মূল্যনীতির কথা গর্ব করেই তুলেছেন।

    বাংলাদেশে স্বাস্থ্যের মোট খরচের প্রায় আশি শতাংশ আসে রোগীর নিজের পকেট থেকে। ২০০০ সালে ছিল বাষট্টি শতাংশ, মানে চব্বিশ বছরে রাষ্ট্র সেখান থেকে সরেছে, রোগী এগিয়েছে।

    দক্ষিণ এশিয়ায় এটা সর্বোচ্চ, নেপালে উনষাট, শ্রীলঙ্কায় চুয়ান্ন, পাকিস্তানে তিপ্পান্ন, ভারতে চুয়াল্লিশ।

    আর যে পরিবার স্বাস্থ্যে খরচ করে, তার সেই খরচের প্রায় সাতানব্বই শতাংশ যায় শুধু ওষুধ কিনতে। ডাক্তার না, হাসপাতাল না, পরীক্ষা না। ওষুধ।

    দরিদ্রতম পরিবারগুলো সংসারের মোট খরচের প্রায় দশ ভাগের এক ভাগ ঢালে ওষুধে, ধনীদের বেলায় ভাগটা ছয় শতাংশের কাছাকাছি। প্রতি চার পরিবারের একটা শুধু ওষুধ কিনতে গিয়েই বিপর্যয়কর ব্যয়ের সীমা পার হয়।

    সরকারি স্বাস্থ্যকেন্দ্র থেকে ফ্রি ওষুধ পাওয়ার কথা যাদের, সাম্প্রতিক এক জরিপ বলছে কেন্দ্রগুলোর মাত্র বাইশ শতাংশে অত্যাবশ্যকীয় ওষুধের মজুদ আছে, বড় হাসপাতালে আরও কম। মজুদ নাই মানে দোকান, আর দোকান মানে কোম্পানির দাম।

    ➖

    শেষ অধ্যায়টা গত বারো মাসের, এবং এর চিত্রনাট্য প্রায় প্রহসনের।

    ২০২৫ সালের ২৫ আগস্ট হাইকোর্ট ১৯৯৪ সালের সেই পরিপত্র অবৈধ ঘোষণা করল। রিটটা ঝুলছিল ২০১৮ সাল থেকে।

    যুক্তিটা সরল, ওষুধের দাম জীবনের অধিকারের প্রশ্ন, আর একটা পরিপত্র দিয়ে আইনের দেওয়া ক্ষমতা সংকুচিত করা চলে না। সাতশ উনচল্লিশটা ওষুধের উপর সরকারের ক্ষমতা ফিরল।

    অন্তর্বর্তী সরকার কাজে নামল। জুলাইয়ে আঠারো সদস্যের টাস্কফোর্স হলো, এবং এবার ইচ্ছা করেই ওষুধ শিল্পের কাউকে রাখা হলো না। শিল্প সমিতির সভাপতি আবদুল মুক্তাদিরের প্রতিক্রিয়া, এটা শুধু ফলহীন না, সম্ভাব্য ক্ষতিকর।

    ২০২৬ সালের ৮ জানুয়ারি উপদেষ্টা পরিষদ নতুন তালিকা অনুমোদন করল। দাম-বাঁধা ওষুধ একশ সতেরো থেকে দুইশ পঁচানব্বই, সঙ্গে আরও প্রায় এগারোশ ওষুধে নিয়ন্ত্রিত সীমা, মানিয়ে নিতে চার বছর সময়।

    বত্রিশ বছর পর প্রথম হালনাগাদ। কদিন পর আরেকটা শর্ত, নতুন ওষুধের অনুমোদন পেতে হলে কোম্পানির বিক্রির অন্তত চার ভাগের এক ভাগ আসতে হবে অত্যাবশ্যকীয় ওষুধ থেকে।

    বিপরীতে ওষুধ-শিল্প নামল যুদ্ধে। সমিতির সাধারণ সম্পাদকের জবাব, বাংলাদেশের কোনো কোম্পানিই শুধু অত্যাবশ্যকীয় ওষুধ বানায় না।

    জুলাইয়ে ইনসেপ্টা, বেক্সিমকো আর রেনাটার শীর্ষ কর্তারা প্রকাশ্যে বিরোধিতায় নামলেন। মুক্তাদিরের যুক্তি, দশ টাকা খরচের ওষুধের অনুমোদিত দাম আট টাকা হলে কেউ বিনিয়োগ করবে না।

    জুলাইয়ের শেষে একশর বেশি কোম্পানির নতুন ওষুধের নিবন্ধন আটকে, ড্রাগ কন্ট্রোল কমিটি ততদিনে প্রায় দুই বছর বৈঠকেই বসে নাই।

    ফেব্রুয়ারিতে নির্বাচিত সরকার দায়িত্ব নিলো।

    ৩ আগস্ট, এই লেখার চার দিন আগে, মন্ত্রিসভা নতুন তালিকা আর নতুন মূল্যপদ্ধতি দুইটাই বাতিল করে দিলো।

    যুক্তিটা শোনার মতো। সিদ্ধান্তগুলো নেওয়া হয়েছিল জাতীয় ওষুধ উপদেষ্টা পরিষদের পরামর্শ ছাড়া, যা ২০২৩ সালের আইনে বাধ্যতামূলক। কথাটা সত্য।

    শুধু এটুকু বাদ পড়ে যে ওই পরিষদ তখন দুনিয়াতেই ছিল না। আইনে লেখা পরিষদটা গঠিত হয়েছে ২০২৬ সালের ২৯ জুন, আইন পাসের প্রায় তিন বছর পর।

    যে কমিটির জন্ম তিন বছর আটকে রাখা হলো, সেই না-জন্মানো কমিটির অনুপস্থিতিই হলো সংস্কার বাতিলের আইনি কারণ।

    ফলাফল দাঁড়ালো, আজ বাংলাদেশে ওষুধের দাম নিয়ন্ত্রণের কার্যকর দলিল দুইটা। ১৯৯৩ সালের একটা গেজেট, আর ১৯৯৪ সালের একটা পরিপত্র। মামলা হাইকোর্টে ঝুলছে।

    ➖

    ১৯৮২ সালের নীতির কাগজপত্রগুলো টাইপ করেছিলেন গণস্বাস্থ্য কেন্দ্রের এক মার্কিন স্বেচ্ছাসেবক, সিস্টার জুডি সল। পেশায় রেডিওগ্রাফার, টাইপিস্ট না।

    টানা চোদ্দ রাত জেগে তিনি টাইপ করেছিলেন সেই তালিকা, যেটা একটা দেশের ওষুধের বাজার উল্টে দিয়েছিল, যেটা আটকাতে নেমেছিল তিনটা রাষ্ট্রদূত, একটা সুপারপাওয়ার, আর পৃথিবীর সবচেয়ে বড় শিল্পগুলোর একটা।

    চোদ্দ রাতের সেই তালিকা পুরো শক্তিতে টিকেছিল এগারো বছর।

    আর যে তালিকাটা আজ এই দেশের ওষুধের দাম ঠিক করছে, সেটা টাইপ হয়েছিল বত্রিশ বছর আগে। ১৯৯৪ সালে। তারপর ওষুধ বদলেছে, রোগ বদলেছে, টাকার দাম বদলেছে, সরকার বদলেছে পাঁচবার।

    তালিকা বদলায় নাই।

    Share. Facebook WhatsApp Copy Link
    Previous Articleআন্তর্জাতিক মিডিয়ার দৃষ্টিতে শেখ হাসিনার সংবাদ সম্মেলন
    Next Article শিল্পী পেহেলি ভৈরবীসহ সিলেটে ৯ জনের প্রাণ ঝরলো সড়কে
    JoyBangla Editor

    Related Posts

    জুলাই খাতে আরেক মহাদুর্নীতি: ৩৬ জুলাই আবাসন প্রকল্পে নির্মাণ-কেনাকাটায় ব্যয় ৪৫ গুণ বেশি!

    August 6, 2026

    নতুন অর্থবছরের শুরুতেই কমল রপ্তানি আয়, পোশাক খাতেও নেতিবাচক প্রবৃদ্ধি

    August 4, 2026

    আগস্ট ২০২৪ পরবর্তী একের পর এক কারখানা বন্ধ, কর্মহীন লাখো শ্রমিকের হয়নি বিকল্প কর্মসংস্থান

    August 4, 2026

    বন্ধ হলো এস আলমের ১১টি কারখানা: রাজনৈতিক প্রতিহিংসার বলি ১০ হাজার শ্রমিক পরিবার

    August 3, 2026
    Leave A Reply Cancel Reply

    সম্পাদকের পছন্দ

    আন্তর্জাতিক মিডিয়ার দৃষ্টিতে শেখ হাসিনার সংবাদ সম্মেলন

    August 8, 2026

    আমীর মোহাম্মদের বাউল গানের আসরে বিপুল শ্রোতা, লন্ডনে বিরল উপস্থাপনা

    August 7, 2026

    দিল্লির সংবাদ সম্মেলনে প্রদত্ত শেখ হাসিনার বক্তব্যের  সারসংক্ষেপ

    August 7, 2026

    দিল্লিতে আওয়ামী লীগের সংবাদ সম্মেলনে নওফেল: “বিভেদ নয়, ঐক্যের পথে বাংলাদেশ”

    August 6, 2026
    • Facebook
    • Twitter
    • Instagram
    • TikTok
    মিস করবেন না
    Sylhet

    শিল্পী পেহেলি ভৈরবীসহ সিলেটে ৯ জনের প্রাণ ঝরলো সড়কে

    By JoyBangla EditorAugust 8, 20260

    সিলেটের বিশ্বনাথ উপজেলার হযরত ছাবাল শাহর (রহ.) মাজারে বাবার সঙ্গে এসে গান গেয়েছিলেন শিল্পী পেহেলি…

    জাফরউল্লাহর ঔষধনীতি

    August 8, 2026

    আন্তর্জাতিক মিডিয়ার দৃষ্টিতে শেখ হাসিনার সংবাদ সম্মেলন

    August 8, 2026

    বাংলা ব্যান্ড সঙ্গীতের ইতিহাসে ‘ঐরাবত’এর গল্প

    August 8, 2026

    সাবস্ক্রাইব

    সর্বশেষ খবরের সাথে আপডেট থাকুন।

    About Us
    About Us

    মুক্তিযুদ্ধের চেতনা ধারণ ও লালন করে দেশ ও বিদেশের খবর পাঠকের কাছে দুত পৌছে দিতে জয় বাংলা অঙ্গিকার বদ্ধ। তাৎক্ষণিক সংবাদ শিরোনাম ও বস্তুনিষ্ঠ সংবাদ পেতে জয় বাংলা অনলাইন এর সঙ্গে থাকুন পতিদিন।

    Email Us: info@joybangla.co.uk

    Our Picks

    আন্তর্জাতিক মিডিয়ার দৃষ্টিতে শেখ হাসিনার সংবাদ সম্মেলন

    August 8, 2026

    আমীর মোহাম্মদের বাউল গানের আসরে বিপুল শ্রোতা, লন্ডনে বিরল উপস্থাপনা

    August 7, 2026

    দিল্লির সংবাদ সম্মেলনে প্রদত্ত শেখ হাসিনার বক্তব্যের  সারসংক্ষেপ

    August 7, 2026

    Type above and press Enter to search. Press Esc to cancel.