আযম খান
বিএনপির আমলে দেশে গান-বাজনা, কনসার্ট, এমনকি জেলা শহরগুলোতে ছোটখাট সেসব শিল্প-সংস্কৃতির চর্চা হইতো প্রায় সব বন্ধ।
তবে এটাও বলে রাখা উচিত এই খোলা বন্ধের সমস্যা আওয়ামী লীগের আমলেও হইছে। সংস্কৃতিকে খুলে দেয়ার বদলে এক ধরনের বেড়ি পরানো সে সময়ে হইছে। পহেলা বৈশাখ বিকাল ৫টার মধ্যে শেষ করতে হবে এ ধরনের ফাতরামিও হইছে। কনসার্টের পারমিশন নিয়ে প্রশাসনের ফাতরামি করা, সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানে তৌহিদী জনতার উৎপাত তখনও ছিল।
বিএনপির আমলে আওয়ামী লীগের আমলে যতটুকু সাংস্কৃতিক কার্যক্রম জারি ছিল ওটুকুও নাই। ছোট মুসলমানদের হাত থেকে আমরা এখন আরো বড় মুসলমানদের হাতে পড়েছি।
অবশ্য বিএনপির সমর্থক গোষ্ঠীর একটা বড় অংশ সাবেক মুসলিম লীগের উত্তরসূরিরা। তাদের চোখে যারা এলিট মুসলমান সেরকম হওয়া সব সময়েই তাদের জন্য বড় একটা স্বপ্ন।
তারা পাকিস্তানের, তুরস্কের, আরবের মুসলমানের মতন বড় মুসলমান হতে চায়। বাঙালি সংস্কৃতি তাদের মননে হিন্দুয়ানি, বিধর্মী, বেহেস্তে যাবে না এমন টাইপ লোকজনের কালচার।
তারা যদি জানতো দুনিয়াতে তারা তাদের নিজেদের দেশগুলোর যা হাল করেছে তাতে তাদের সাথে বেহেশতে যাওয়ার চিন্তা করাটাও ভীষন রিস্কি। এর চাইতে নরক হয়তো বেশি শান্তিময় জায়গা হতে পারে।
এই বড় মুসলমান হতে চাওয়া পার্টির সাথে সব সময়েই নিবিড় যোগাযোগ সেনাবাহিনীর। সিভিলিয়ানদের চাইতে পাকিস্তানি, তুর্কি ফ্যাটিশ ব্যারাকগুলোতে অনেক বেশি। বলা চলে, সংবিধান খতনা করার মাধ্যমে সামরিক শাসক জিয়াউর রহমানের হাত দিয়ে এই ফ্যাটিশ বাংলাদেশে রাষ্ট্রীয় প্রনোদনা পাইছে। পরে এরশাদ এবং রাজনৈতিক দলগুলো শুধু সে পথে হেঁটেছে।
বিএনপি-জামাত-সেনাবাহিনী চক্র ঐতিহাসিকভাবে বাঙালি সংস্কৃতিকে বেদাত মনে করে, ছোটলোকের কালচার মনে করে। যে কারনে বিএনপি-জামাতের প্রতিটা আমলে দেশে শিল্প-সংস্কৃতি স্থবির হয়ে আসে। সেনাবাহিনীর মূল স্লোগানই তো এখন “নারায়ে তাকবির”। তারা শিখা অনির্বাণ নিভায়ে দেয়। সেনাপ্রধান বেদাতের ফতোয়া দেন। আর কি লাগে…..
এই তিন ট্রায়ো অনেক আগে থেকেই বাঙালির কালচার, নিজস্বতার বিরুদ্ধে যুদ্ধ ঘোষনা করেছে। তৌহিদী জনতা বা মাদ্রাসার ছাত্র-শিক্ষকেরা তাদের ফুট সোলজার মাত্র।
তারেক রহমান একদিকে থিয়েটারে যাবেন, তার মেয়েকে ফুটবলে দুটো কিক দিয়ে ভিডিও করতে পাঠাবেন, আরেকদিকে শহরের বাইরে সিনেমা হবে না, কনসার্ট হবে না, সাংস্কৃতিক সংগঠনগুলো নিরাপত্তার জন্য অনুষ্ঠান করতে পারবে না।
বাঙালি, বাঙালি সংস্কৃতির বিরুদ্ধে লড়াই ঘোষনা করা হয়েছে বহু আগেই। দেখা যাক এই লড়াইয়ে দিনশেষে পূর্বপুরুষদের সংস্কৃতি, মাটি জিতে নাকি ভিনদেশী কোন ভাইরাস।
চাইনিজ পলিসি আছে একটা “Eradicating Ideological Viruses”. এটা তারা উইঘুর মুসলিমদের জন্য ব্যাবহার করে। তারা এই পলিসিকে ভাইরাস মুক্ত করার re-educationও বলে। সে হিসাবে ভাইরাস বললাম। বকাবকি করতে চাইলে চীন সরকারকে করুন।
