আফজাল হোসেন
আমরা ভালো নেই। ভালো নেই মানে এই দেশের মানুষ ভালো নেই তা নয়।
দুনিয়া জুড়ে মানুষের দৃষ্টিভঙ্গি বদলে যাচ্ছে। বহু দেশের মানুষদের কান্ড কারবার দেখে মনে হয়, শঙ্কায় আছে স্বয়ং দুনিয়া। দুনিয়ার আশঙ্কা, অনেকদিন ভালো ছিল, মানুষের অসভ্যতায় তার পক্ষে আর বোধহয় ভালো থাকা সম্ভব হবে না।
মানুষ জন্মায় একা। মরেও একা। জন্ম ও মৃত্যুর মাঝখানের সময়টা জীবন। জীবন হচ্ছে ভালো কাজের, দায়িত্বশীলতার।
পৃথিবীতে একজন এলো। এসে মানুষটা শ্বাস নেয়। শ্বাস প্রশ্বাস নিতে পারা মানে বেঁচে থাকা। এই বেঁচে থাকা, শ্বাস প্রশ্বাস নিতে পারার জন্য মানুষকে কি খরচ দিতে হয়?
সরাসরি কেউ খরচা গ্রহন করে না। পরোক্ষে খরচ দেবার, শোধ করার বহু উপায় রয়েছে। পৃথিবী ঠাঁই দিয়েছে, পরিবর্তে তাকে কিছু দিতে হবে।
এই দিতে হবে বিষয়টা মানে না মানুষ, শুধু নিতে চায়। কৃতজ্ঞতা বলে যে শব্দটা আছে, তা এমনি এমনি নয়। তা নিজে ভালো থাকবার এবং অন্যকে ভালো রাখবার জন্য বিশেষ উপাদান। কৃতজ্ঞতা মানুষকে বিনয়ী রাখে।
বিনয়ী হতে পারা অতি বিশেষ যোগ্যতা। বিনয়ী মানুষের নিজের সাথে যুক্তি বিনিময়ের সুযোগ, সামর্থ থাকে। যে কোনো বিষয়ে সিদ্ধান্তে পৌঁছানোর আগে নিজের সাথে যুক্তি তর্ক করতে পারা মানুষ প্রকৃতপক্ষে নিজেকে সম্মান করে।
যে মানুষের আত্মসম্মান বোধ থাকে, সে মানুষ বোঝে এবং জানে সম্মান কেবল নিজে উপভোগ করার বিষয় নয়, তা অন্যকে দিতে জানতে হয়। সম্মান দিতে পারার সাধ্য, যোগ্যতা না থাকা মানুষ হয় প্রবল ধরণের স্বার্থপর। স্বার্থপর মানুষ হয় অবিশ্বস্ত। অবিশ্বস্ত মানুষ সম্পর্ক, সমাজ, দেশ, পৃথিবীর জন্য কখনোই উপকারী নয়।
যেসব মানুষ শুধু নিজেকে, নিজের গোষ্ঠীস্বার্থ নিয়ে ভাবে, বুঝতেই পারে না নিজেদের ভালো, সুবিধার জন্য মানুষজন্মকে খাটো করা, অসম্মান করার পথে নেমেছে তারা।
দুনিয়া, দেশ, সমাজ অমুকের জন্য, অমুকদের জন্য নয়। এমন কটু ভাবনা, বিশ্বাসে দুনিয়া জুড়ে ভেদাভেদ বেড়েই চলেছে।
বিশ্বজুড়ে ভেদাভেদের কারণগুলো দেখলে, ভেদাভেদের উদ্দেশ্য, লক্ষ্য বিশ্লেষণ করলে বোধ শক্তি থাকা মানুষদের মনে হবে, ভালোর নামে আসলে মানুষ মানুষের অনিষ্ট করতে কোমর বেঁধে নেমে পড়েছে।
ভালোর অজুহাতে মানুষ যে অনিষ্ট করে চলেছে, তা ছড়িয়ে পড়ছে পৃথিবীতে, দেশে, সমাজেও। স্বার্থপরতার চর্চা ও অনুশীলন করতে করতে বহু মানুষ হারিয়ে ফেলছে বোধ। বোধ হারানো মানুষকে ঠিক বেঠিক বোঝানো যায় না।
দুই চোখ থাকলেও বোধ হারিয়ে ফেলা মানুষেরা দেখতে পছন্দ করে এক চোখ দিয়ে। এক চোখ দিয়ে দেখতে পছন্দ করা মানুষ উঠতে বসতে নিজেকে ভালো প্রমান করতে চায় কিন্তু বেরিয়ে পড়ে আসল রূপ। বেরিয়ে পড়ে সে স্বার্থপর, অকৃতজ্ঞ, অবিশ্বস্ত।
পৃথিবীতে শ্বাস প্রশ্বাস নিতে পারার জন্য যার কৃতজ্ঞতা বোধ নেই, যে মানুষ ভাবে না, আমি এই পৃথিবীতে জন্মগ্রহণ করতে পারলাম, তা অযথা নয়। আমার দায়, কর্তব্য রয়েছে। সে দায় ও কর্তব্য পালন কোথায়, কিভাবে করছে মানুষ আমরা তা ঘরে বসেই দেখতে পাই।
দেশ, দেশের মানুষ কেমন আছে, কে কি করছে বলছে তাও এখন ঘরে বসেই দেখা, শোনার উপায় আছে। প্রায় সর্বদাই সাধারণকে দেখতে হয়, শুনতে হয়, বিভিন্ন গোষ্ঠীর কুতর্ক, যুক্তিহীন মন্দ কথা।
সবাই নির্লজ্জ ভাবে বলে নিজ নিজ গোষ্ঠীর স্বার্থের কথা। কারো মুখেই দেশ নেই, আছে দল।
দেশটা কিভাবে ভালো থাকতে পারে, এমন আশাবাদী কথা বলতে শোনা যায় না। সবারই আগ্রহ দেশের কি সর্বনাশ হচ্ছে, তা চোখে আঙুল দিয়ে বোঝানো, দেখানো।
দেখানো অতি সহজ কাজ, নিজ কর্তব্য পালন শুধু দেখানোয় হয় না। কেউ কি ভালো কিছু করে আশা জাগানোর চেষ্টা করছে? উত্তর সবার জানা।
হে নয়া জামানার দেশপ্রেমিকেরা,
দশ ভাগে বিভক্ত হয়ে প্রবল ক্রোধ, হিংসা নিয়ে, নিরবধি নষ্টভাষায় দেশ, মানুষের ভালো চাইলে জাতির কপালে জুটবে ঘোড়ার ডিম।
