আফজাল হোসেন
পৃথিবীতে যারা জন্মগ্রহন করতে পেরেছে, তারা সৌভাগ্যবান। ভেবে দেখা হয় না, সৌভাগ্য কেনো!
আমরা না ও জন্মাতে পারতাম। না জন্মালে কারো কোনো নাম রাখা হতো না, সে নাম ধরে ডাকতো না কেউ। প্রান নিয়ে জন্মায় মানুষ তারপর নাম রাখা হলে অস্তিত্ব তৈরি হয়।
অসংখ্য পরিচয়, সম্পর্কের মানুষ নাম ধরে ডাকে, আমরা উত্তর দেই, দিতে পারি- এটা অস্তিত্ব। গাছ নয়, পাথর নয়, মানুষ হওয়া। এটা সৌভাগ্য যে পৃথিবী অনেককিছুর কিন্তু পৃথিবীর আশা, মানুষই আমাকে সুন্দর রাখবে।
জন্মগ্রহনের পর বেঁচে থাকা সামান্য ঘটনা নয়। কতজন মানুষ তা ভেবে দেখে? কতজন জন্মগ্রহন করা, বেঁচে থাকাকে বিশেষ ঘটনা মনে করে? যদি সবাই বিশেষ ঘটনা মনে করতে পারতো, পৃথিবীকে “ফাও” হাওয়া বাতাস খাওয়ার স্থান বা “যেমন খুশি সাজো” প্রতিযোগিতায় নাম লিখিয়ে জীবন কাটিয়ে দেবার জায়গা মনে করতো না।
কতজন মানুষ বেঁচে থাকার অসাধারণত্ব বুঝে বেঁচে থাকে? কতজন পরম সৌভাগ্য বিবেচনা করে জীবন, বেঁচে থাকার প্রতি শ্রদ্ধাশীল থাকে?
যদি সবার মধ্যে তেমন দায়, কৃতজ্ঞতাবোধ থাকতো, মানুষ ভাবতো না, ওকে অপমান অমর্যাদা করা, কিংবা তাকে বেশি বেশি খাতির করা দরকার। গোপনে স্বার্থপরতার খাতা খুলে মানুষ প্রকাশ্যে মহৎ হওয়ার অপচেষ্টা করতো না।
জন্মগ্রহন করা, বেঁচে থাকা যদি সন্মানের মনে করা হতো, মানুষ কী আর এক মানুষকে ঘৃণা করতে পারতো?
আমরা যে দেখি, পড়ি, শুনি মানুষ মানুষকে হত্যা করছে- এতো নির্মমতা মানুষের মধ্যে থাকতো না। জীবনকে সুন্দর ভাবতে পারলে, বেঁচে থাকাকে পরম সৌভাগ্য, প্রাপ্তি ভাবতে পারলে সকল মানুষের মধ্যে প্রেমই টিকে থাকতো।
মানুষ বলে, এসেছি একা, যাবো একা। বলে শান্তি পায়। এই শান্তির মধ্যে হাল্কা মেজাজের স্বেচ্ছাচারিতা রয়েছে। নিজের মত করে যারা ভাবে, চলে, বলে এবং করে তারা নিজেরাই নিজেদেরকে সন্তুষ্ট করে, বাহবা দেয়।
এমন নিয়ম চালু করে অনেকে ভালো থাকে, ভালো আছে। মানুষ সৃষ্ট সে নিয়ম “নদীর এ কূল ভাঙে ও কূল গড়ে”র মতো। অন্যের জন্য মন্দের দরজা খুলে দিয়ে নিজের নিজের ভালো থাকা হয়।
যখন কেউ পৃথিবী শব্দটা উচ্চারণ করে, তা একার নয়। যখন দেশ উচ্চারণ করে কেউ, তা ও বহুজনের। সমাজ, সংসার, সম্পর্ক, প্রেম- যেটাই উচ্চারণ করা হোক, কিছুই একার নয়। আমরা কেউই নিজের জন্য জন্মগ্রহন করিনি, বেঁচে থাকাও শুধু নিজের জন্য নয়।
যারা তা ভাবে, মানুষের মতোই দেখতে তারা কিন্তু বেঁচে থাকা কী ও কেনো, না জেনে, না বুঝেই তারা বেঁচে থাকছে এবং ভাবছে- এটাই পৃথিবী, এর নামই বেঁচে থাকা।
