জাতি হিশেবে এমন কিছু সময় আসে যখন চুপ করে থাকার মানেই বিশ্বাসঘাতকতা। যখন ক্রমাগত বাধ্য থাকাটা আত্মহত্যার সামিল। আজ যে হাত আপনাকে গলা টিপে ধরছে, সেই হাতের কাছে মাথানত করাটা আর কূটনীতি থাকে না। তা হয় স্রেফ আত্মসমর্পণ।
আমার নাম ক্যাপ্তেন ইব্রাহিম ত্রাউর। পেশাদার কূটনীতিকদের মত আমার কথায় তেমন মসৃণতা নেই। আমার গায়ে মাখা নেই বহুজাতিক কোম্পানির সুগন্ধী। আমি ওয়াশিংটনে প্রশিক্ষণ নেইনি, জেনেভাতেও বড় হইনি।
আমি কথা বলছি সেই যুদ্ধক্ষেত্র থেকে, যেখানে আমার মানুষের রক্ত ঝরছে এবং এই মাটি তার সাক্ষি। আমি কথা বলছি এমন এক জাতির পক্ষে, যাদের দীর্ঘকাল ধরে দাদন ব্যবসায়ীদের হাতে বন্দির মত ব্যবহার করা হয়েছে।
আমি জাতিসংঘ, বিশ্বব্যাংক বা আইএমএফ-এর সাথে কথা বলছি কম্পিত হতে নয়, বরং শতাব্দীর পর শতাব্দী ধরে আফ্রিকার যন্ত্রণা এবং এখন আফ্রিকার গভীরে প্রোথিত এক কণ্ঠস্বরে।
দীর্ঘকাল ধরে আইএমএফ নিজেদেরকে অসুস্থ জাতিগুলোর জন্য অর্থনৈতিক ব্যবস্থাপত্র দানকারী এক দয়ালু চিকিৎসক হিশেবে জাহির করে এসেছে।
কিন্তু আমরা যা শিখেছি, যা ভোগ করেছি, তা হলো আপনার ওষুধ প্রায়শ রোগীকে মেরে ফেলে। আপনাদের ঋণ হাসিমুখ নিয়ে আসে কিন্তু সেগুলো চুক্তিতে মোড়ানো বিষাক্ত তীর। আপনারা স্থিতিশীলতার কথা বলেন, কিন্তু উপহার দেন শ্বাসরোধ।
আপনারা সংস্কারের কথা বলেন, কিন্তু যা আপনারা প্রকৃতই বোঝান, তা হলো বিদেশী গবেষণাগারে তৈরি মডেলের প্রতি আনুগত্য। যা আফ্রিকার মাটির জন্য কখনোই তৈরি হয়নি।
কিন্তু আমরা আপনার পরীক্ষাগার নই। আমরা আপনার পরীক্ষা-নিরীক্ষার গিনিপিগ নই। আমরা আপনার অর্থনৈতিক দাবাখেলার ঘুটি নই। বুর্কিনা ফাসো গোটা আফ্রিকা জেগে উঠছে।
আর যখন আমরা জেগে উঠি, তখন শ্বাস নেওয়ার জন্য আর অনুমতি চাই না। আপনারা জানেন, আমি ঋণ বাতিলের জন্য কাকুতি মিনতী করতে আসিনি। আমি ত্রাণ ভিক্ষা করতেও আসিনি।
আমি আপনাদের বলতে এসেছি তাই, যা কোনো আফ্রিকান নেতা উচ্চস্বরে কখনো বলতে সাহস করেননি। আমরা এমন অর্থনৈতিক নীতি মেনে নেই না, যা আমাদের জনগণকে ভিখারিতে পরিনত করে।
যখন আমাদের সোনা পশ্চিমা দেশগুলোর ভল্টে বন্দি থাকে। তখন আমরা আর এমন শর্তাবলীর তালে নাচি না, যা আমাদের সরকারি পরিসেবা আমাদের কৃষকদের শেষ করে দেয়। এবং আমাদের যুবকদের নির্বাসনে যেতে বাধ্য করে।
তাদের ক্ষমতা নির্ভর করে আপনাদের অজ্ঞতার উপর। তাদের আরাম নির্ভর করে আপনাদের নিরাবতার উপর। তাদের সম্পদ নির্ভর করে আপনাদের শোষণের উপর।
তাই যখন আপনারা পড়তে শুরু করেন, তখন তারা আতঙ্কিত হয়। যখন আপনারা সংগঠিত হন, তখন তারা ভয়ে কাঁপে। যখন আপনারা সীমান্ত পেরিয়ে একীভুত হন, তখন তারা ষড়যন্ত্র করে।
কারণ আমরা এমন এক প্রজন্মের আফ্রিকান, যারা খেলাটা বুঝে গেছে। যারা সাহায্য প্যাকেজ ও মৃত্যুফাঁদের বাইরে দেখতে পায়। যারা স্বল্পমেয়াদি বিভ্রমের জন্য নিজেদের ভবিষ্যৎ বিক্রি করতে অস্বীকার করে। এমন এক প্রজন্মকে থামানো অসম্ভব।
লিখেছেন: ক্যাপ্তেন ইব্রাহিম ত্রাউর, অস্থায়ী রাষ্ট্রপতি বুর্কিনা ফাসো।
