কানাডার সংসদে বাংলাদেশ পরিস্থিতি নিয়ে একটি গুরুত্বপূর্ণ পিটিশন উত্থাপন করা হয়েছে। লিবারেল ককাসের সংসদ সদস্য আনিতা ভ্যান্ডেনবেল্ড (অটোয়া ওয়েস্ট—নিপিয়ান, অন্টারিও) এই পিটিশনটি সংসদে উপস্থাপন করেন।
পিটিশনে বলা হয়, ২০২৪ সালের ৫ই আগস্ট প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সরকারের পতনের পর এবং ৮ই আগস্ট ড. ইউনূসের নেতৃত্বে অন্তর্বর্তী সরকার গঠনের পর বাংলাদেশে গণতান্ত্রিক শাসনব্যবস্থা, আইনের শাসন ও নাগরিক সুরক্ষার মারাত্মক অবনতি ঘটেছে। এতে রাজনৈতিক নিপীড়ন, ধর্মীয় সহিংসতা এবং মতপ্রকাশের স্বাধীনতা দমনের অভিযোগ তুলে ধরা হয়।
পিটিশনে উল্লেখ করা হয়, দেশে সংখ্যালঘু হিন্দু সম্প্রদায়ের ওপর ব্যাপক সহিংসতা চালানো হয়েছে। ৪ হাজারের বেশি অগ্নিসংযোগের ঘটনা ঘটেছে, যেখানে হিন্দু মন্দির ও বাড়িঘরে হামলা চালানো হয়েছে। অনেক ক্ষেত্রে এসব হামলার পেছনে ভুয়া ধর্ম অবমাননার অভিযোগ ব্যবহার করা হয়েছে বলে দাবি করা হয়।
এছাড়া আওয়ামী লীগের কয়েক লাখ নেতাকর্মী, সাংবাদিক, মানবাধিকার কর্মী এবং ধর্মীয় নেতারা রয়েছেন, ইচ্ছামতো গ্রেপ্তার করা হয়েছে। অনেক ক্ষেত্রে যথাযথ বিচারপ্রক্রিয়া ছাড়াই আটক রাখা হচ্ছে বলে পিটিশনে অভিযোগ করা হয়। আটক অবস্থায় মৃত্যু, নির্যাতন এবং চিকিৎসা সেবা না পাওয়ার মতো গুরুতর মানবাধিকার লঙ্ঘনের তথ্যও তুলে ধরা হয়।
পিটিশনে আরও বলা হয়, অন্তর্বর্তী সরকার এখনো বিশ্বাসযোগ্য ও অন্তর্ভুক্তিমূলক নির্বাচনী রোডম্যাপ উপস্থাপন করতে ব্যর্থ হয়েছে। একই সঙ্গে বাংলাদেশের সবচেয়ে পুরোনো রাজনৈতিক দল আওয়ামী লীগকে রাজনৈতিক কার্যক্রমে অংশগ্রহণ থেকে নিষিদ্ধ করা হয়েছে, যা গণতন্ত্রের জন্য গভীর উদ্বেগজনক বলে উল্লেখ করা হয়।
এই প্রেক্ষাপটে পিটিশনে স্বাক্ষরকারী কানাডার নাগরিক ও বাসিন্দারা কানাডা সরকারের প্রতি চারটি প্রধান দাবি জানান। দাবিগুলোর মধ্যে রয়েছে—বাংলাদেশে রাজনৈতিক নিপীড়ন, ধর্মীয় সহিংসতা ও গণহামলা অবিলম্বে বন্ধে জোরালো ভূমিকা রাখা; চলমান মানবাধিকার লঙ্ঘনের জন্য অন্তর্বর্তী সরকারকে জবাবদিহির আওতায় আনা এবং অবৈধ আটক, বিচারবহির্ভূত হত্যা ও প্রাতিষ্ঠানিক নিপীড়নের জন্য দায়ীদের আন্তর্জাতিক আইনি প্রক্রিয়ায় বিচারের উদ্যোগে সমর্থন দেওয়া।
এছাড়া আন্তর্জাতিক পর্যবেক্ষণে নির্ধারিত সময়ের মধ্যে অবাধ, সুষ্ঠু ও অংশগ্রহণমূলক নির্বাচন নিশ্চিত করার পক্ষে অবস্থান নেওয়ার আহ্বান জানানো হয়, যেখানে আওয়ামী লীগসহ সব রাজনৈতিক দলের অংশগ্রহণ নিশ্চিত করতে হবে। একই সঙ্গে জাতিসংঘ, কমনওয়েলথসহ বিভিন্ন আন্তর্জাতিক সংস্থার মাধ্যমে বহুপাক্ষিক কূটনৈতিক উদ্যোগ জোরদার করে বাংলাদেশে শান্তি, গণতান্ত্রিক শাসন ও আইনের শাসন পুনঃপ্রতিষ্ঠার আহ্বান জানানো হয়।
কানাডার সংসদে এই পিটিশন উপস্থাপন বাংলাদেশের চলমান ভঙুর রাজনৈতিক ও মানবাধিকার পরিস্থিতি নিয়ে বিতর্কের প্রেক্ষাপটে আন্তর্জাতিক অঙ্গনে নতুন করে আলোচনার সূত্রপাত করবে বলে মনে করছেন পর্যবেক্ষকরা।
