মনজুরে খোদা তারেক
২০২১ সালে আবারো ক্ষমতায় ফেরার পর থেকেই আফগানিস্তানের তালেবান শাসকরা দেশকে মধ্যযুগের দিকে নিয়ে যেতে থাকে। আন্তর্জাতিক মানবাধিকার সংগঠনগুলো এর প্রতিবাদ করে আসলেও তারা পরোয়া করেনি। জাতিসংঘ ’স্লেভারি কনভেনশন অনুযায়ী দাসত্ব, দাসের মালিকানা সম্পুন্ন নিষিদ্ধ হলেও তারা এ বছরের শুরুতে ”ক্রিমিনাল প্রসিডিউর কোড ফর কোর্টস” নামের এক আইনের মাধ্যমে মধ্যযুগে প্রত্যাবর্তনের আনুষ্ঠানিকতা সারলো।
এই আইনের মাধ্যমে তারা সমাজে বর্ণবৈষম্য ও বিভাজনকে প্রাতিষ্ঠানিক করলো। এতে আফগান সমাজকে ৪ শ্রেণিতে ভাগ করা হয়।
১। ধর্মীয় পণ্ডিত/উলামা
২। আশরাফ (উচ্চবর্ণ/উচ্চবিত্ত)
৩। মধ্যবিত্ত
৪। নিম্নবিত্ত ও নিচু শ্রেণি
এই শ্রেণীর ভিত্তিতে অপরাধের শাস্তি হবে অপরাধের মাত্রা বা স্তর অনুযায়ী নয় ব্যক্তির সামাজিক অবস্থানের ওপর। যদি কোনো উলামা অপরাধ করে, তাকে কেবল “উপদেশ” দেয়া হবে, আর নিম্নবিত্তদের জন্য বন্দি বা শরীরিক নির্যাতন হবে।
এই ঘটনার মাধ্যমে আফগানরা আসলে আনুষ্ঠানিকভাবে প্রস্তর যুগে প্রবেশ করলো। নতুন দণ্ডবিধিতে ”গোলাম” শব্দ ব্যবহারের মাধ্যমে তারা দাসপ্রথাকে বৈধ করেছে। আসবাবপত্রের মতই মানুষের মালিকানা এখন তালেবান রাষ্ট্রের নীতি। এখন যে কোনো আফগান মানুষকে গরু–ছাগলের মতো কেনাবেচা করা যাবে।
তার চেয়েও ভয়াবহ হলো, তারা হিন্দু ব্রাহ্মণ্যবাদের মতোই এক নিষ্ঠুর বর্ণব্যবস্থা চালু করেছে। যেখানে শীর্ষে থাকবে অভিজাত এলিট, তার নিচে সম্ভ্রান্তরা, এরপর সাধারণ মানুষ, আর একেবারে নিচে থাকবে ‘অস্পৃশ্য’ শ্রেণি—যাদের ইচ্ছামতো মারধর, কারাবন্দি কিংবা হত্যা করা যাবে!
আফগানিস্তানে এখন ন্যায়বিচার বলে আর কিছু নেই। সেখানে শাস্তি নির্ভর করবে রক্তের পরিচয় ও সামাজিক অবস্থানের ওপর। একজন সম্ভ্রান্ত ব্যক্তি অপরাধ করেও মুক্তি পাবে, আর একজন দরিদ্র মানুষ বিনা অপরাধে চাবুক বা মৃত্যুদণ্ড!
আর হানাফি না হলে তো তাকে আর মুসলমানই ধরা হবে না। তালেবানরা সেখানে লক্ষ লক্ষ মুসলমানকে ‘মুরতাদ’ ও ‘বিদআত’ ঘোষণা করেছে। তাদের অধিকার ও মর্যাদা কেড়ে নিচ্ছে!
আফগানিস্তান এখন চলছে দাসপ্রথার বর্ণভিত্তিক এক মোল্লাতন্ত্রের স্বৈরতান্ত্রিক মধ্যযুগীয় ফ্যাসিবাদী রাষ্ট্রব্যবস্থা। দেখুন কেমন শরিয়া ভিত্তিক ইসলামি শাসন ও ধর্মের ফ্যাসিবাদী চরিত্রের আরেক রুপ। যারা এই শাসনব্যবস্থাকে সমর্থন করে, স্বীকৃতি দেয়, নিজ দেশে কায়েম করতে চায়, তারা দাসত্ব, বর্ণবৈষম্য, ধর্মীয় নিপীড়ন ও জঙ্গীবাদের সহযোগী। একবিংশ শতাব্দীর তালেবানের এই বর্বর ব্যবস্থাকে ইতিহাস আলাদা করেই লিখে রাখবে।
