ইতিহাসে এমন কিছু মানুষ থাকেন যাদের ভাগ্য কল্পনাকেও হার মানায়। তেমনই একজন নারী ভায়োলেট জেসেফ। তাকে ডাকা হয় “Miss Unsinkable” নামে। কেন? কারণ তিনি কেবল একটি নয়, বরং ইতিহাসের তিনটি বিশাল জাহাজ ডুবুরি বা দুর্ঘটনার কবলে পড়েও অলৌকিকভাবে বেঁচে ফিরেছিলেন!
ভায়োলেট তার পেশাজীবন শুরু করেছিলেন নার্স এবং হোস্টেস হিসেবে। ১৯১১ সালে তিনি তৎকালীন বিশ্বের বৃহত্তম লাক্সারি জাহাজ ‘অলিম্পিক’-এ কর্মরত ছিলেন। ব্রিটিশ যুদ্ধজাহাজ ‘এইচএমএস হক’-এর সাথে অলিম্পিকের প্রচণ্ড সংঘর্ষ হয়। জাহাজটি ব্যাপক ক্ষতিগ্রস্ত হলেও ডুবেনি, আর ভায়োলেট অক্ষত অবস্থায় ফিরে আসেন।
অলিম্পিকের ঘটনার ঠিক এক বছর পর তিনি কাজ শুরু করেন ইতিহাসের সবচেয়ে আলোচিত জাহাজ ‘টাইটানিক’-এ। আমরা সবাই জানি ১৯১২ সালের সেই ভয়াবহ রাতের কথা। টাইটানিক যখন হিমশৈলের সাথে ধাক্কা খেয়ে ডুবতে শুরু করে, ভায়োলেট তখন লাইফবোটে উঠে পড়েন। এমনকি লাইফবোটে থাকাকালীন এক অপরিচিত মা তার শিশুকে ভায়োলেটের কোলে তুলে দেন। পরদিন সকালে ‘কার্পেথিয়া’ জাহাজ তাদের উদ্ধার করে।
দুটি বড় দুর্ঘটনার পর যে কেউ সমুদ্র থেকে দূরে থাকতো, কিন্তু ভায়োলেট ছিলেন অকুতোভয়। প্রথম বিশ্বযুদ্ধের সময় তিনি ‘ব্রিটানিক’ জাহাজে রেড ক্রস নার্স হিসেবে যোগ দেন। ১৯১৬ সালে একটি মাইন বিস্ফোরণে ব্রিটানিক এজিয়ান সাগরে ডুবতে শুরু করে। এবার পরিস্থিতি ছিল আরও ভয়াবহ। জাহাজটি যখন ডুবছিল, তার বিশাল প্রপেলারগুলো (পাখা) পানির উপরে ঘুরছিল এবং লাইফবোটগুলোকে টেনে নিচ্ছিল। ভায়োলেট লাইফবোট থেকে সাগরে ঝাঁপ দেন। মাথায় প্রচণ্ড চোট পেলেও অবিশ্বাস্যভাবে তিনি আবার বেঁচে ফেরেন!
এতসব ঘটনার পর ১৯৫০ সাল পর্যন্ত তিনি সমুদ্রে কাজ করে গেছেন। ৭১ বছর বয়সে তিনি যখন অবসরে যান, তখন তার ঝুলিতে ছিল সাগরের সব রোমাঞ্চকর অভিজ্ঞতা। ১৯৭১ সালে ৮৩ বছর বয়সে তিনি স্বাভাবিক মৃত্যুবরণ করেন।
ভায়োলেটের জীবন আমাদের শেখায়— বিপদ যত বড়ই হোক, সাহস আর ভাগ্য সহায় থাকলে মৃত্যুপুরী থেকেও ফিরে আসা সম্ভব।
> আমি যদি আমার জীবনের দিকে ফিরে তাকাই, তবে দেখব আমি শুধু বেঁচে থাকার চেষ্টা করেছি।
— ভায়োলেট জেসেফ।
