যুক্তরাজ্যের হাউজ অব কমন্স-এ “বাংলাদেশ এক সন্ধিক্ষণে: অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের ১৮ মাস ও নির্বাচন” শীর্ষক একটি সংসদীয় আলোচনা অনুষ্ঠিত হয়েছে। এতে পার্লামেন্ট সদস্য, হাউজ অব লর্ডস-এর সদস্য, নীতিনির্ধারণী বিশেষজ্ঞ এবং আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের প্রতিনিধিরা অংশ নেন।
আলোচনায় বাংলাদেশের বর্তমান রাজনৈতিক প্রেক্ষাপট ও মানবাধিকার পরিস্থিতি নিয়ে বিভিন্ন মতামত উঠে আসে।
সভাপতিত্ব করেন সংসদ সদস্য বব ব্ল্যাকম্যান। বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন লর্ড রামি রেঞ্জার এবং ব্যারোনেস ভার্মা।
অনুষ্ঠানে একটি প্রামাণ্যচিত্র প্রদর্শন করা হয়, যেখানে বাংলাদেশে মানবাধিকার লঙ্ঘনের অভিযোগ ও নির্বাচনী প্রক্রিয়ার স্বচ্ছতা নিয়ে উদ্বেগ তুলে ধরা হয়।
উদ্বোধনী বক্তব্যে বব ব্ল্যাকম্যান বলেন, আদালতের মাধ্যমে আওয়ামী লীগ-এর রাজনৈতিক কার্যক্রম নিষিদ্ধ করা এবং নিবন্ধন স্থগিত রাখা গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়া নয়, এটা মেনে নেওয়া যায় না।
তিনি দাবি করেন, অন্তর্বর্তী সরকারের সময়ে মানবাধিকার পরিস্থিতির অবনতি ঘটেছে এবং সংখ্যালঘু সম্প্রদায়, নারী ও শিশুদের ওপর নির্যাতনের অভিযোগ বাড়ছে।
লর্ড রামি রেঞ্জার বলেন, ভোটারদের পছন্দের প্রার্থীকে প্রভাবের মাধ্যমে বাধাগ্রস্ত করা গণতান্ত্রিক নীতিমালার পরিপন্থী এবং এতে নির্বাচনী ব্যবস্থার প্রতি জনআস্থা ক্ষতিগ্রস্ত হয়।
মূল প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন গ্লোবাল সেন্টার ফর ডেমোক্রেটিক গভর্ন্যান্স-এর সভাপতি অধ্যাপক ডা. মো. হাবিব মিল্লাত।
তিনি তার বক্তব্যে অভিযোগ করেন, ১২৪ জন সংসদ সদস্যসহ হাজারো রাজনৈতিক কর্মী দীর্ঘ সময় ধরে বিচার ছাড়াই আটক রয়েছেন এবং জামিন পাচ্ছেন না। আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী রাজনৈতিক প্রভাবের অধীনে পরিচালিত হচ্ছে। রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিত মামলায় আটক ব্যক্তিদের মুক্তির আহ্বান জানান তিনি।
অনুষ্ঠানটি সঞ্চালনা করেন ক্রিস ব্ল্যাকবার্ন। আলোচনায় আরও বক্তব্য দেন ব্যারিস্টার এস. এম. রেজাউল করিম, কাউন্সিলর পুষ্পিতা দাসগুপ্ত, তৌরুল আহসান, ব্যারিস্টার তানিয়া আমীর, প্রসান্ত পুরকায়স্থ, আব্দুল ওয়াদুদ দারা, দেওয়ান গাউস সুলতান, রাজীব পারভেজ এবং ব্যারিস্টার মো. মনিরুল ইসলাম।
বক্তারা গণতন্ত্র পুনঃপ্রতিষ্ঠা, রাজনৈতিক সংলাপ, আইনের শাসন এবং বাংলাদেশ ইস্যুতে আন্তর্জাতিক সম্পৃক্ততার গুরুত্ব তুলে ধরেন।
উল্লেখ্য, গ্লোবাল সেন্টার ফর ডেমোক্রেটিক গভর্ন্যান্স (জিসিডিজি) একটি কানাডাভিত্তিক নিবন্ধিত অলাভজনক সংস্থা, যা বিশ্বব্যাপী গণতান্ত্রিক শাসন, মানবাধিকার ও সুশাসন প্রতিষ্ঠায় কাজ করে।(বিডি ডাইজেস্ট)
