মহান স্বাধীনতা ও জাতীয় দিবসে জয় বাংলা স্লোগান দিয়ে শহিদ মিনারে ফুলেল শ্রদ্ধা জানানোর ঘটনায় সুনামগঞ্জে আওয়ামী আইনজীবী পরিষদের দুই নেতাকে গ্রেপ্তারের পর ২৭ জন আইনজীবীর নামোল্লেখসহ ৮৭ জনের বিরুদ্ধে সন্ত্রাসবিরোধী আইনে মামলা দিয়েছে পুলিশ।
গ্রেপ্তারকৃত আইনজীবী সুনামগঞ্জ সরকারি কলেজের সাবেক ভিপি ও আওয়ামী আইনজীবী পরিষদের নেতা অ্যাডভোকেট মনীষ কান্তি দে মিন্টু ও অ্যাডভোকেট মিজানুর রহমান শামীমকে শুক্রবার জুমার নামাজের পর আদালতের মাধ্যমে কারাগারে পাঠানো হয়েছে।
গতকাল বৃহষ্পতিবার সন্ধ্যায় তাদেরকে এই অভিযোগে গ্রেপ্তার করা হয়েছিল। রাতেই তাদের বিরুদ্ধে মামলা দায়ের হয় বলে জানিয়েছে পুলিশ।
মামলার বাদী সুনামগঞ্জ কোর্টের উপপরিদর্শক (এসআই) আনোয়ারুল হক এজাহারে ২৭ জন আইনজীবীর নাম উল্লেখ করেছেন।
স্বাধীনতা দিবসের দিন বৃহষ্পতিবার সকালে আওয়ামী আইনজীবী পরিষদের নেতৃবৃন্দ সুনামগঞ্জ জেলা কালেক্টরেট ক্যাম্পাসের শহিদ মিনারে ‘জয় বাংলা, জয় বঙ্গবন্ধু’ স্লোগান দিয়ে শ্রদ্ধা জানিয়েছিলেন। তাদের কর্মসূচির ছবি ও ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ে।
এ ঘটনায় ২৭ জন আইনজীবীর নাম উল্লেখ করে আরও ৫০-৬০ জন অজ্ঞাতনামাকেও আসামি করা হয়।
মামলায় আসামি অন্য আইনজীবীরা হলেন, জেলা আওয়ামী লীগের সহসভাপতি ও সাবেক পাবলিক প্রসিকিউটর অ্যাডভোকেট খায়রুল কবির রুমেন, জেলা আওয়ামী লীগের যুগ্ম সম্পাদক অ্যাডভোকেট হায়দার চৌধুরী লিটন, জেলা আইনজীবী সমিতির সাবেক সভাপতি ও জেলা আওয়ামী লীগের সাংগঠনিক সম্পাদক অ্যাডভোকেট নজরুল ইসলাম, শান্তিগঞ্জ উপজেলা যুবলীগের সভাপতি অ্যাডভোকেট বোরহান উদ্দিন দোলন, জেলা আইনজীবী সমিতির সাবেক সেক্রেটারি ও বঙ্গবন্ধু আওয়ামী আইনজীবী পরিষদের সদস্য অ্যাডভোকেট শুকুর আলী,
জেলা আওয়ামী লীগের দপ্তর সম্পাদক ও জেলা বারের সদস্য অ্যাডভোকেট বিমান কান্তি রায়, জেলা আইনজীবী সমিতির সাবেক সাধারণ সম্পাদক অ্যাডভোকেট নূরে আলম সিদ্দিকী উজ্জ্বল, বঙ্গবন্ধু আইনজীবী পরিষদের নেতা হাসান মাহমুদ সাদী, জেলা আইনীজীবি সমিতির সদস্য ও জেলা আওয়ামী লীগের আইন বিষয়ক সম্পাদক অ্যাডভোকেট আজাদুল ইসলাম রতন, জেলা আইনজীবী সমিতির সদস্য অ্যাডভোকেট পঙ্কজ তালুকদার, অ্যাডভোকেট বুরহান উদ্দিন, জেলা আইনজীবী সমিতির যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক ও জামালগঞ্জ উপজেলা আওয়ামী লীগ নেতা অ্যাডভোকেট আব্দুল খালেক, অ্যাডভোকেট শফিকুল ইসলামসহ সুনামগঞ্জ জেলা বারের সদস্য ২৭ জন আইনজীবীকে আসামি করা হয়।
সুনামগঞ্জ সদর থানার ওসি রতন শেখ বলেন, সন্ত্রাসবিরোধী আইনের মামলায় দু’জনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। ২৭ জনের নামোল্লেখসহ অজ্ঞতানাম ৫০-৬০ জনের বিরুদ্ধে মামলা হয়েছে। গ্রেপ্তারকৃতদের আদালতের মাধ্যমে কারাগারে পাঠানোর পর অন্য আসামিদের গ্রেপ্তারে কাজ করছে পুলিশ।
