বদিউল আলম ওরফে সুশীল বদি বলেছেন, লুটের সহযোগী হিসেবে রাষ্ট্রপতির থাকার কথা জেলে, উনি আছেন বঙ্গভবনে। বদি একটা মবের সূচনা করতে চাইছে। বাংলাদেশের সংবিধান অনুসারে রাষ্ট্রপতি আসলে একটি সৌন্দর্যবর্ধনকারী পদ ছাড়া আর কিছু নয়। সমস্ত ক্ষমতা থাকে প্রধানমন্ত্রীর। সেই প্রধানমন্ত্রীর পদটিই বিশেষ সময়ে ‘তত্ত্বাবধায়ক সরকার প্রধান’ বা ‘প্রধান উপদেষ্টা’ হয়ে থাকে। রাষ্ট্রপতি লীগ সরকারের সময়েও যেমন তার কিছু করা থাকে না, ইনুসের আমলেও তার কিছু করার ক্ষমতা ছিল না। সুশীল বদি সব কিছু বাদ দিয়ে মেয়াদ শেষ করে আসা একজন প্রেসিডেন্টের পিছনে লেগেছে কেন? কারণ বদির বাবার দুর্নীতি আলাপ যেন চাপা পড়ে থাকে। তথাকথিত হ্যাঁ ভোটের প্রচারের জন্য বাংলাদেশ ব্যাংক জুলাই কিশোর গ্যাংদের ১ কোটি টাকা দিয়েছে সেই টাকা কি ইনুসের বাপের টাকা? বদি লুটের সহযোগী হিসেবে একজন অক্ষম প্রেসিডেন্টকে জেলে নিতে চায় কিন্তু ইনুসের দুর্নীতির জন্য ইনুসকে জেলে নিতে চায় না কেন? জুলাই কিশোর গ্যাং ও ঢাকার টোকাই মাস্তানদের মধ্যে ভাগভাটোয়ারা নিয়ে গ্যাঞ্জাম থেকে অনেক তথ্য ফাঁস হয়ে যায়। বাংলাদেশ ব্যাংকের ১ কোটি টাকা দানের ঘটনা তেমন করেই বের হয়েছে। প্রথম আলোর রোজিনা তো এমন নিউজ করেনি। ওরা ভাগ না পেয়ে ফাঁস করে দিয়েছে। এই লুটের জন্য গভর্ণর ও সরকার প্রধান সুদি মহাজন ইনুসকে কেন জেলে নেয়ার দাবী দালাল বদি করেনি আমরা সবাই জানি। নিজের ছয়শো কোটি কর ফাঁকি, গ্রাণীণের নামে এক ডজন ব্যবসা বাগিয়ে নেয়া রাষ্ট্রের প্রধান পদে থেকে জেনারেল এরশাদও এতখানি নিকৃষ্ট হওয়ার কথা ভাবতে পারতেন না। কোন রকম চক্ষু লজ্জার বালাই নেই। নুরুল কবীর ইনুসের সাক্ষাতকার নেয়ার সময়ও এসব নিয়ে তাকে প্রশ্ন করেনি। আসলে নুরুর চুল ধরে জুলাই গ্যাংরা টান না মারলে সেও নির্বাচন চাইতো না। মাহফুজের অফিস, মতির অফিস পুড়িয়ে না দিলে ‘৫০ বছর স্যার থেকে যান’ টিমে পেট্রনাইজ করে যেতো। আনিসুল হক এখনো কী সুন্দর করে লেখে ‘প্রফেসর ইউনূসের নামেও ভুয়া নিউজ করা হয়েছে’! কত প্রেম, ‘প্রফেসর ইউনূস’! যারা শাসনে হামের টিকা না কেনার জন্য এতগুলো শিশু মারা গেলো তবু আনিসুলের কত সম্মান ‘প্রফেসর ইউনূস’! খালি একা হাসিনা খুনি! বাংলার মার্কেজ এখন আর হুহু করে কেঁদে উঠে না! মেরিল প্রথম আলো তারকা পুরস্কার অনুষ্ঠানে বিকট সাজের বেডা বেডিদের সঙ্গে সেলফি তোলায় ব্যস্ত বাংলার আউটসাইডার, কাফকা, সমাজে আনফিট, আলোকিত বাইঞ্চুতের ছোট ভাই, বাংলার শেষ গোর্কি ইনুসের শাসনে শিশু হত্যার এতবড় কেলিংকারিতেও নির্বিকার!
জনাব তারেক রহমান, কলেজ ছাত্রের খেলনা গাড়িতে চড়ে তাকে উত্সাহিত করা দারুণ ব্যাপার। আপনার ভাবভাবে ব্রিটিশ প্রধানমন্ত্রীদের ছাপা দেখা যায়। এটা বেশ। দেখতে ভালো লাগে। কিন্তু তাদের মত সাজলে হবে না। তাদের মত হতে হবে। এই যে আপনি ইনুসের সরকারের সমস্ত দুর্নীতি ও অপকর্মকে ক্লিনচিট দিয়ে যাচ্ছেন, এর ফলে আর ছয় মাস পর জনগণ আপনাকে দেশের সমস্ত খারাপ কিছুর জন্য দায়ী করবে। আপনি যদি দুর্নীতিবাদ উপদেষ্টাদের বিরুদ্ধে তদন্ত করে আইনের আশ্রয় না নেন তাহলে তাদের উপর দায় বর্তায় না। সমস্ত দায় আপনার সরকারের উপর পড়বে। আপনি শেখ হাসিনা সরকারের উপর দায় দিলে হালে পানি পাবে না। জনগণ এখন আর ৯০ দশকে নেই। এটা আপনাকে বুঝতে হবে। শেখ হাসিনা ক্ষমতায় নেই দুই বছর। তিনি তো সঙ্গে করে বিদ্যুত নিয়ে যাননি। বিদ্যুত জমা করে রাখার জিনিসও না। যিনি ১৭ বছর লোডশেডিং একটা জেনারেশনের কাছে ভুলিয়ে দিয়েছিল তাকে তিন বছর পর দায়ী করলে জনগণ ফাঁকিটা ধরে ফেলবে। ২০২৪ সালের এদেশের বাচ্চারা হামের টিকা পেয়েছে এটা পত্রিকা পড়ে পাবলিককে জানতে হবে না। বাচ্চার বাবা-মা তাদের টিকা কার্ডেই সেটা দেখতে পায়। ২০২৬ সালে এসে ২০০১ সালের রাজনীতি চলবে না। জনাব তারেক রহমান, বদির মত দুতাবাসে দুতাবাসে ষড়যন্ত্র করে বেড়ানো লোকজনকে যদি অবিশ্বাস করেন আপনার মঙ্গল হবে। ইনুস ও তার বন্ধুবান্ধব, তার গেলমান, তার ঘেটুপুত্ররাই আপনার সর্বনাশ করতে গোকূলে বাড়ছে। যত তাড়াতাড়ি জুলাইয়ের মত একটা ষড়যন্ত্রকে গা থেকে ঝেরে ফেলে দিতে পারবেন তত দেশের মঙ্গল।
বৈষম্য বিরোধী ছাত্র আন্দোলনকারীরা শিবির হিযবুত তাহরীর যেমন ছিল তেমনি সমাজে নষ্ট লোভী গ্যাংবাজদের সমন্বয়ে তৈরি হয়েছিল। এই গ্যাংবাজরা কিছুতে নিয়মতান্ত্রিক রাজনীতিতে অভ্যস্থ হবে না। ইনুসের দেড় বছরের যে মব ও চাঁদাবাজের মজা এরা পেয়েছে সেখান থেকে এরা আর বের হতে পারবে না। সাবেক বৈসাআ রিফাত রশিদ হ্যাঁ ভোটের জন্য সরকারের টাকা গোপন করা হয়নি বলে দাবী করেছে। মানে বাংলাদেশ ব্যাংক ঠিকই টাকাটা দিয়েছিল। দেশের কেন্দ্রীয় ব্যাংক কিভাবে এটা দেয় একটা সংগঠনকে? শেখ হাসিনার এমপি তাদের সবাইকে ৫০০ কোটি করে দেয়ার অফার দিয়েছিল (টাকা কি গাছ ধরে?) আন্দোলন থামাতে এগুলো ভিত্তিহীন দাবী সামনে অপরাজনীতির ভাষাই তৈরি করবে। নিজেদের এতবড় হেডামওয়ালা প্রমাণ করতে ৫০০ কোটি টাকা অফার করার গল্পকে লাগাম টানেন। এরা নিজেদের সরকার পবির্তনের শক্তি দেখাতে চায়। আদতে তারা নাথিং! যা খেলার খেলেছে বিশেষ বাহিনী। এটাও আপনার জন্য অশনি সংকেত। যাই হোক, প্রমাণ ছাড়া কোন রাজনৈতিক দাবী সমাজে বেড়ে গেলে সেটা ভবিষ্যতে আরো বাড়বে। এরাই যদি এক বছর পর বলে তারেক রহমান আমাদের ১০০০ কোটি টাকা করে দিতে চেয়েছিল অমুক বিষয়ে মুখ বন্ধ রাখতে’ তখন কি বলবেন? কেন ইনুস সময়ে বাংলাদেশ ব্যাংক টাকা দিয়েছিল এটার বিচার হওয়া মানেই এই গ্যাংবাজদের মুখ বন্ধ হওয়া। শেখ হাসিনার এমপিদের নামে যে কোন তথ্য ছড়ানো এখন খুব সহজ এবং তাদের আত্মপক্ষ সমর্থনের কোন সুযোগ নেই্। এতে খুশি হওয়ার কিছু নেই। একবার অপ-কালচার প্রতিষ্ঠা পেয়ে গেলে আগামীকাল সেটা আপনার বিরুদ্ধে কাজে লাগানো হবে।
সুষুপ্ত পাঠক
২৬ এপ্রিল, ২০২৬
