ফয়জুর রহমান ফয়েজ
শিক্ষা মন্ত্রণালয় বিশ্ববিদ্যালয়ের পাঠ্যসূচিতে নতুন কোনও বিষয় সংযোজন না করে উচ্চশিক্ষায় সাহিত্য, দর্শন, ইতিহাসের মতো মৌলিক বিষয়গুলো অনার্স কোর্স থেকে বাদ দিয়ে, শিক্ষার সঙ্গে কর্মসংস্থানের সংযোগ বাড়ানোর লক্ষ্যে পাঠ্যক্রমে এআই, সাইবার সিকিউরিটি, আউটসোর্সিং ও অন্যান্য প্রযুক্তিনির্ভর কয়েকটি বিষয় যুক্ত করছে।
এসব বিষয় আমাদের ছেলেমেয়েদের ভবিষ্যতের জন্য অবশ্যই গুরুত্বপূর্ণ। কিন্তু আমার মনে হচ্ছে, দেশে যে ধরনের মানবিক অবক্ষয় চলছে, তাকে আরও এক ধাপ এগিয়ে নেওয়ার এক সূক্ষ্ম পাঁয়তারা চলছে কি না, সে বিষয়ে আমার কেন জানি সন্দেহ হচ্ছে।
দীর্ঘদিন ইংল্যান্ডে থাকার সুবাদে আমার ক্ষুদ্র অভিজ্ঞতা থেকে দেখেছি, ব্রিটেনসহ বিশ্বের প্রায় সব উন্নত দেশেই বিজ্ঞান ও তথ্যপ্রযুক্তিবিষয়ক শিক্ষার পাশাপাশি সাহিত্য, ইতিহাস, দর্শনশাস্ত্রসহ মৌলিক ও মানবিক বিষয়সমূহকে সমান গুরুত্ব দেওয়া হয়।কখনো খাটো করে দেখা হয়না।
অথচ আমরা এখন কী দেখতে পাচ্ছি? আমাদের দরিদ্র, অমানবিকতা ও অশিক্ষায় জর্জরিত দেশে মানবিক ও মৌলিক বিষয়গুলোর গুরুত্ব কমিয়ে আমাদের ছেলেমেয়েদেরকে কেবল চাকরিনির্ভর শিক্ষাব্যবস্থার দিকে ঠেলে দেওয়া হচ্ছে।
এটি কি ভবিষ্যৎ বাংলাদেশের জন্য মঙ্গলজনক হবে? যে দেশে প্রতিনিয়ত খুন-হত্যা, শিশু নির্যাতনের মতো ভয়াবহ অমানবিক কর্মকাণ্ড ঘটে চলেছে, সেখানে আমাদের ছেলেমেয়েদের উত্তরণের সঠিক পথ না দেখিয়ে আমরা কি আরও চরম নৈতিক অবক্ষয়ের দিকে এগিয়ে যাব?
এই তো কিছুদিন আগে সংবাদ শিরোনামে উঠে এসেছিল—এক হতভাগ্য মায়ের কুলাঙ্গার সন্তানের মতো যুগ্ম সচিব, বুয়েটের শিক্ষক কিংবা বড়ো সরকারি কর্মকর্তার মতো উচ্চশিক্ষিত অথচ অমানবিক ও অপদার্থ সন্তানের জন্ম।
আসলে, মানবিক/নৈতিক শিক্ষার বাইরে শুধু বড়ো চাকরি বা পদপদবিতেই মানুষ বড়ো হয় না, জাতি এগোয় না। সরকারের শিক্ষা মন্ত্রী কিংবা সংশ্লিষ্ট নীতিনির্ধারকেরা কি এই বিষয়টি ভেবে দেখেছেন?
