লুসিড্রিম
এই দেশে মৃত মানুষের হাড় নিয়ে গবেষণা করতে গেলে আপনারা এটাকে উট বিরোধী বলে প্রচার করবেন। কিন্তু আপনি কি জানেন হাড় নিয়ে গবেষণা করে এই পৃথিবীতে কত পরিবর্তন এসেছে?
‘ ক্যাসোওয়ারি ‘ হচ্ছে মৃত মানুষের হাড় দিয়ে তৈরি একধরণের যুদ্ধাস্ত্র যেটা নিউগিনির সেপিক অঞ্চলের মানুষ ব্যাবহার করতো।মৃত মানুষের হাড় দিয়ে অস্ত্র তৈরি করা যায় এটা শুনে আশ্চর্য হলেন?
২০২৫ কিলোমিটার দৈর্ঘ্যের রাশিয়ার কোলিমা হাইওয়ে তৈরি হয়েছে মৃত মানুষের হাড় দিয়ে। শীতের মৌসুমে প্রচন্ড তুষারপাত থেকে রাস্তা যেন পিছলা না হয়ে যায় তার জন্য তারা বালুর সাথে মানুষের হাড় মিশিয়ে এই রাস্তাটি তৈরি করেছে।এটি ( road of Bones ) বা হাড়ের রাস্তা নামে সারাবিশ্বে পরিচিত।
চিকিৎসা বিজ্ঞানে নোবেল পুরস্কার জয়ী সুইডিশ বিজ্ঞানী এসভান্তে পেবো বিলুপ্ত হোমিনিনের হাড় , জিন ও বিবর্তন এসব পরীক্ষা না করলে কোনদিনও চিকিৎসা বিজ্ঞানে নোবেল পেতেন না। তিনি এসব গবেষণার মাধ্যমে নিয়নডার্থালের মানচিত্র আবিষ্কার করেছেন, হোমিনিন ও ডেনিসোভার অস্তিত্ব আবিষ্কার করেছেন।আজ থেকে ৭০ হাজার বছর পূর্বে দক্ষিণ আফ্রিকা থেকে পৃথিবীতে ছড়িয়ে পড়ার পর কিভাবে হোমিনিন থেকে জিন হোমো সাফিয়েন্সে স্থানান্তরিত হয়েছে এবং সেই হোমো স্যাপিয়েন্স থেকে কিভাবে আজকের এই মানব সভ্যতার উৎপত্তি হয়েছে তা মানুষের এই আদি পুরুষদের হাড় , কঙ্কাল ও মাথা নিয়ে গবেষণা না করলে কখনোই এই মানব জাতির জানা হতোনা।এসভান্তে পাবে মানব জাতির উৎপত্তি সম্পর্কে বলতে গিয়ে বলেন , ‘ আজ থেকে তিন লক্ষ বছর আগে হোমো স্যাপিয়েন্সের শরীর বৃত্তীয় রূপটি দক্ষিণ আফ্রিকায় বিকশিত হয়েছিল। তিনি মানবজাতির জিন মানচিত্র তৈরি করেন এবং নিয়ান্ডার্থাল থেকে পাওয়া ডিএনএ নিয়ে গবেষণা করেন এবং মানুষের উৎপত্তি সম্পর্কে বিস্ময়কর সব তথ্য পৃথিবীর মানুষের কাছে তুলে ধরে সমগ্র পৃথিবীতে মানুষের কাছে প্রশংসিত হন।এসব বুঝতে হলে আপনাকে হোমিনিন , নিয়িন্ডার্থাল , ডেনিসোভান , হোমো ইরেক্টাস , হোমো স্যাপিয়েন্স, মাইটোকন্ড্রিয়া ও ডিএনএ এসব নিয়ে প্রচুর পড়াশোনা করতে হবে।এই দুঃসাধ্য কাজটি যদি তিনি বাংলার মাটিতে করতেন তবে এই দেশের ধর্মান্ধ উটরা তাকে হত্যা করে ফেলতো অথবা এসব আবিস্কারের জন্য তিনি দেশছাড়া হতেন।।
মানুষের শরীরের হাড়গুলো হচ্ছে জীবন্ত টিস্যু। এজন্য মানুষের শরীরের হাড় ভেঙে অথবা ফেঁটে গেলে তা অনেক সময় এমনিতেই ধীরে ধীরে জোড়া লেগে যায় তথা এটাতে কেরামত বাবার কেরামতি ভাবার কোন সুযোগ নেই। আপনার চারপাশে তাকিয়ে দেখবেন কেরামত বাবার অভাব নেই। এরা আপনাকে হাড় দিয়ে তৈরি জ্যান্ত মানুষের গল্প শুনিয়ে দিবে যা আদৌ এই পৃথিবীতে সম্ভব নয়। মানুষের শরীর নিয়ে গবেষণা করলে আপনি দেখতে পাবেন ভ্রুণ অবস্থায় মানুষের শরীরে অসংখ্য কোষ থাকে কিন্তু সেখানে হাড়ের কোন অস্তিত্ব নেই বরং এই হাড়গুলো ধীরে ধীরে মানব শরীরে তৈরি হয় ।একটা শিশু ৩০০ হাড় নিয়ে জন্মগ্রহণ করলেও শৈশব না পেরুতেই তার হাড়ের সংখ্যা কমতে থাকে তথা হাড় ক্ষয় হতে থাকে আর এইভাবে সে ২০৬ টি হাড়ের মানুষ হয়ে যায়। চিকিৎসা বিজ্ঞানের ভাষায় একে রিমডেলিং বলে।যদি এমনি হতো তবে শিশুদের হাড় দিয়েই নতুন মানুষ তৈরি করা যেত।
মানুষের হাড় দিয়ে শৌখিন জিনিসপত্র তৈরি করা যায় যা মানুষের কাজে লাগে। মানুষের হাড় দিয়ে জৈব সার তৈরি করা যায় যা মানুষের কাজে লাগবে। কিন্তু মানুষের হাড় দিয়ে মানুষ তৈরি করা যায় এটা শুধু গালগল্পে মানায়।
ইচ্ছে করলেই আপনি এখন ভবিষ্যতবাণী করে সবাইকে চমকে দিতে পারবেন। এরজন্য আপনাকে আপনার মোবাইল থেকে টেক জায়ান্ট গুগলের ‘ এন্ড্রয়েড় আর্থকোয়াক অ্যালার্ট ‘ অ্যাপসটি এখনি ডাউনলোড করে নিতে হবে। ভূমিকম্প আসার আগেই মানুষকে ভূমিকম্পের ভবিষ্যৎ বাণী করলে দেখবেন মানুষ আপনাকে দেবতা বানিয়ে পূজো শুরু করে দিবে কিন্তু এই দেশের মানুষ গুগলকে একটা ধন্যবাদ দিবেনা।এরা যে উন্নত প্রজাতির আহম্মক এতে কোন সন্দেহই নেই।।
আমি যে যুদ্ধটা করছি তা আমার জন্য করছিনা ।এই যুদ্ধটা আগামী বিশ থেকে ত্রিশ বছরের মধ্য বাংলাদেশে যে তরুণরা বড় হবে তাদের জন্য।একদিন আমার মৃত্যুর পরও আপনারা আমাকে স্মরণ রাখবেন।আমাকে ভূলে গেলেও তাতে আমার কোন কষ্ট নেই। মৃত্যুর সময়ও আমি হাসিমুখে বলে যাব আমি একটা অন্ধ মানুষদের এক বিন্দু আলো দেখাতে চেয়েছিলাম।।
মানুষ মরে গেলে পচে যাবে জেনেও তারা তাদের দেহটা মানুষের জন্য দান করে যাবেনা। অথচ তার দেওয়া দুটো চোখে আরেকজন মানুষ আলো দেখতো , তার দেওয়া কিডনি , লিভার এসব নিয়ে আরো কিছু মানুষ আরো কিছুদিন পৃথিবীতে বেঁচে থাকতে পারতো।
রাজনীতির নামে এই দেশে রাজনৈতিক লুটেরা তৈরি হয় , ধর্মের নামে ভন্ড ধর্মীয় নেতা তৈরি হয় , পোস্টার ভয় তৈরি হয় এবং এরা সবাই মিলে দেশটাকে লুটের ধান্দায় থাকে।এরাই এই দেশটাকে লুট করার জন্য দেশটাকে মেধা শূন্য করে রাখে। ফলে এই দেশে দূর্নীতিবাজ তৈরী হয় কিন্তু দেশপ্রেমিক তৈরি হয়না।
মানব দেহকে নিয়ে গবেষণা করতে গিয়ে বিজ্ঞানীরা আবিষ্কার করেন এই মানবদেহ জলের তৈরী।মানবদেহ কার্বন , নাইট্রোজেন , হাইড্রোজেন ও অক্সিজেনের তৈরি।
নারী ও পুরুষ উভয়ের দেহেই ৬০ ভাগ জল দিয়ে তৈরি।
নারী ও পুরুষ উভয়ের শরীরেই রয়েছে ২০৬ খানা হাড় তথা একটিও কমবেশি নেই।অথচ নারীকে বলা হয়েছে সে দুষিত জলের তৈরি আর পুরুষ মানেই পবিত্র জল!! এই পবিত্র জলের নোংরামি দেখতে দেখতে আর ভালো লাগেনা। এই আহম্মকদের বুঝান নারী ও পুরুষ উভয়েই একি জলের তৈরী। শুধুমাত্র একটি সুক্ষ্ম বিভাজন এই পৃথিবীতে নারী , পুরুষ ও তৃতীয় লিঙ্গের হিজড়াদের জন্ম দিয়েছে। সেই হিজড়াদের নিয়েও দেখি আপনাদের হাসাহাসির শেষ নেই।জন্মে যদি মানুষের হাত থাকতো তবে সবাই পুরুষ হয়েই জন্ম নিতো। আধুনিক বিজ্ঞান এটাকেও সম্ভব করে দেখিয়েছে। পুরুষের শুক্রাণু ও নারীর ডিম্বানু নিয়ে গবেষণা করেই বিজ্ঞান সন্তান জন্মদানের এই আধুনিক পদ্ধতি আবিষ্কার করেছে।
একজন মানুষের বয়স যদি ৭০ বছর হয় তবে তার শরীরের ৪৩ কেজি ওজন হচ্ছে অক্সিজেনের , ৭ কেজি ওজন হচ্ছে হাইড্রোজেনের । এই পঞ্চাশ কেজি বাদে তার শরীরের আর যে বিশ কেজি ওজন আছে তার মধ্যে তার দেহের হাড়ের ওজন হচ্ছে আরো সাত কেজি ।।অথচ একজন মানুষের শরীরের ৬২ শতাংশ হচ্ছে হাইড্রোজেন আর ২৪ শতাংশ হচ্ছে অক্সিজেন ।তাহলে হাইড্রোজেনের ওজন কম আর অক্সিজেনের বেশী কেন ? কারণ হচ্ছে হাইড্রোজেন অক্সিজেনের চেয়ে হালকা।হাইড্রোজেনের চেয়ে অক্সিজেনের ভর বেশি। পৃথিবীর বায়ুমণ্ডলে সবচেয়ে বেশি হচ্ছে নাইট্রোজেন এবং এই নাইট্রোজেনও নিঃশ্বাসের সাথে আমাদের শরীরে ঢুকে। আমাদের মত বিজ্ঞানীরাও যদি আকাশের দিকে হা করে তাকিয়ে থাকতেন তবে মুখে মশা ঢুকে যেত।। মানুষের হাড়ে ও দাঁতে ক্যালসিয়াম ও ম্যাগনেশিয়াম থাকে।
পৃথিবী ও মহাকাশ সব মিলিয়ে প্রাপ্ত ১৬০ টি পরমাণু মৌলের মধ্যে ৬০ টির উপস্থিতি আছে মানব শরীরে। এই ৬০ টি উপাদান দিয়ে মানুষকে তৈরি করা হয়েছে। শুধু মানুষ নয় প্রতিটি জীবের ক্ষেত্রেই তা প্রায় এক।এসব নিয়ে গবেষণা করে কিছু বলতে গেলেই আপনারা এইদেশে তার গলাটিপে ধরবেন এতে কোন সন্দেহই নেই। তাহলে এই দেশে স্টেমসেল নিয়ে গবেষকরা কিভাবে গবেষণা করবে ?
এই দেশে ডিএনএ নিয়ে গবেষণা করলে উটের সমস্যা !!
আরএনএ নিয়ে গবেষণা করলে উট সমস্যা !!
মানব দেহের জিনোম সিকোয়েন্স নিয়ে গবেষণা করলে উট সমস্যা!!
মহাকাশে স্যাটেলাইট পাঠালে উট সমস্যা !!
বাঙালি নারী মহাকাশে যেতে চাইলে উট সমস্যা !!
বাতাসের মধ্যে কোন অলৌকিক শক্তি নেই ওখানে নাইট্রোজেন , অক্সিজেন , হাইড্রোজেন ও অভিকর্ষ বল আছে বললে উট সমস্যা!!
মেঘ জলের তৈরি সুক্ষ্ম কণা বললে উট সমস্যা!!
আকাশে ও মাটিতে কোন পিলার নেই বললে উট সমস্যা!!
পৃথিবী গোল বললে উট সমস্যা!!
সূর্য কোটি কোটি এটা প্রমাণ সহ দেখিয়ে দিলে উট সমস্যা!
চাঁদ একটা নয় তথা শুধু এক বৃহস্পতি গ্রহে চাঁদ আছে ৯২ টি এটা বললেই গ্রহরাজদের মেজাজ গরম হয়ে যায়!!!
মানুষের মগজ জলের মধ্যে ভেসে থাকে এবং সেই মগজ মাথাকেটে মগজ বের করে পরিস্কার করলে সমস্যা !!
এই দেশে এমন হাজারো উট সমস্যা আছে তাই এই দেশে শুধু লোটা বিজ্ঞানী পয়দা হবে জ্ঞানী মানুষের জন্ম হবেনা। এইজন্যই এই দেশে ‘ The ultimate fate of universe ‘ বই লিখা জামাল নজরুল ইসলাম স্যারের মূল্যায়ন হয়না। ডঃ জাফর ইকবাল স্যারের মত মহামূল্যবান রত্ন নিয়ে এই দেশের একদল অর্ধশিক্ষিত আহম্মক হাসাহাসি করে। এরা নাসার বাঙালি নারী বিজ্ঞানী লামিয়া মাওলা ও সফটওয়্যার ইঞ্জিনিয়ার মেহজাবীনের ছবিতে হা হা রিয়েক্ট দিয়ে এসে উটের পিঠে উঠে দেশ স্বাধীন করে। এই বোকার দল জানেনা শুধুমাত্র ছোট্ট একটা চিপ তৈরি করে তাইওয়ানের মত দেশ চীনের মত মহাপরাক্রমশালী দেশের সামনেও বুক চিতিয়ে দাঁড়িয়ে আছে।।
এই বলদের দল বিজ্ঞানী বলতে বুঝে যারা বদনা আবিষ্কার করেছে।এই বলদের দলকে প্রশ্ন করে দেখুন আইনষ্টাইন , নিউটন , হকিং এরা পৃথিবীতে কি আবিষ্কার করেছে এবং কেন আজও তাদের নিয়ে এই পৃথিবীতে এতো মাতামাতি?
এই গর্দভের দল মনে করে যিনি মোবাইল আবিষ্কার করেছেন তিনিই শুধু বিজ্ঞানী । কিন্তু এই এক মোবাইল বানাতে কত যন্ত্রের দরকার হয়েছে এবং তারও শত শত আবিস্কারক রয়েছে তা এই বলদদের কে বুঝাবে ?
এই মোবাইল আবিষ্কার করতে সুত্রের প্রয়োজন হয়েছে এবং যিনি সেই সুত্র আবিষ্কার করেছেন তিনিও একজন বিজ্ঞানী।।
বর্তমান প্রজন্ম রেডিও কি চেনেনা , রেডিও ওয়েব কি তা জানেনা।এরা শুধু জানে মোবাইলে টাচ করলেই মোবাইল চলে কিন্তু এর পেছনের ইতিহাস জানেনা।এই না জেনে বকবক করা জাতি বিবর্তনবাদে বিশ্বাস করেনা, হকিং রেড়িয়েশন মানেনা, ডকিংস ও পড়তে চায় না। এদের কাজ হচ্ছে সারাদিন নারী দেহ নিয়ে গবেষণা আর কেরামত বাবার প্রচারণা।।এরা এসব না জানলেও চলবে। কিন্তু আপনাকে / আমাকে জানতে হবে জ্ঞানের রাজত্বে আমরা কত ক্ষুদ্র আর জ্ঞানের এই রাজত্ব কত বিশাল।।তবেই আপনি জ্ঞানী মানুষদের সম্মান দিতে শিখবেন এবং জ্ঞানের মূল্য দিতে শিখবেন।।
মোবাইল ফোন আবিস্কারের আগে ল্যান্ড ফোন আবিস্কার করতে হয়েছে এবং তারও আগে রেডিও আবিষ্কার হয়েছে।এই সবকিছুকে চালাতে রেডিও তরঙ্গের প্রয়োজন ।এই রেড়িও তরঙ্গ ছাড়া আপনার মোবাইল , টিভি ও রেডিও সব আবর্জনা ছাড়া আর কিছুই নয়। সেই রেড়িও তরঙ্গ বাংলাদেশের যে বিজ্ঞানী আবিষ্কার করেছেন তার নামে এই দেশে কোন বিশ্ববিদ্যালয় নেই। তার নামে বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিষ্ঠা করলেও এই দেশের উটদের সমস্যা!!
এই দেশে বিজ্ঞানী পয়দা হবে কি মরতে ?
স্যার জগদীশ চন্দ্র বসু তিনি একজন হিন্দু । এই দেশের জাতীয় সঙ্গীতের রচয়িতা রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরে এদের যেমন সমস্যা ঠিক তেমনি স্যার জগদীশ চন্দ্র বসু নিয়ে ও এই দেশে উটদের সমস্যা।।তাই এই দেশে শুধু লোটা বিজ্ঞান পয়দা হবে কিন্তু কোন জ্ঞানী মানুষের জন্ম হলেও সে যথার্থ সম্মান পাবেনা।
আমার লেখাটা এখনো শেষ হয়নি স্যার।।।
আরেকটু ধৈর্য্য ধরে পড়ুন।
এতোক্ষণ আমরা পড়লাম বেতার তরঙ্গ ছাড়া এইসব যন্ত্র অচল এবং এই যন্ত্রকে যিনি সচল করেছেন তিনি একজন বাঙালি হয়েও তার দেশে উট সমস্যার কারণে যথাযথ সম্মান পাননি।এই বেতার তরঙ্গ হচ্ছে একটি তড়িৎ চুম্বকীয় বিকিরণ ।এই বৈদ্যুতিক তরঙ্গ খালি চোখে দেখা যায়না।এই বেতার তরঙ্গের কম্পাঙ্ক আলোর থেকেও কম। এটি ৩ কিলোহার্টজ থেকে ৩০০ গিগাহার্টজ পর্যন্ত হয়। ৩০০ গিগাহার্টজ এটা চালার দানার চেয়েও ছোট আর ৩০ হার্টজ এটির তরঙ্গ দৈর্ঘ্য ১০,০০০ কিলোমিটার যা পৃথিবীর ব্যাসার্ধের চেয়েও বড়। এসব বুঝতে হলে আপনাকে পদার্থবিজ্ঞান পড়তে হবে। তরঙ্গ দৈর্ঘ্য , কম্পাঙ্ক এসব কি তা জানতে হবে।তা না জেনেই আপনি কি চমৎকার দেখা গেল কেরামত আলী সব কেরামত করে ফেললো এই জাতীয় চিন্তাভাবনা করতে করতে ঘুমিয়ে যাবেন। ১৮৯৫ সালে বাঙালি বিজ্ঞানী স্যার জগদীশ চন্দ্র বসু বৈদ্যুতিক তার ছাড়া রেডিও তরঙ্গ দৈর্ঘ্যকে ৫ মিলিমিটারে নামিয়ে পুরো বিশ্বকে চমকে দেন।
সেই থেকে আজকের এই আধুনিক পৃথিবীর যাত্রা শুরু হয়। কিন্তু বিজ্ঞান এখানেই শেষ নয়। এই তরঙ্গ দৈর্ঘ্য আবিষ্কার করতে উনার তড়িৎ চুম্বকীয় বিকিরণ সুত্রের সাহায্য নিতে হয়েছে। ১৮০৩ সালে ডাল্টন এই তড়িৎ চুম্বকীয় তরঙের ব্যাখ্যা দিতে গিয়ে পারমাণবিক তত্ব দিয়েছেন, ১৮৯৭ সালে বিজ্ঞানী থমসন সেই পারমাণবিক সুত্রের মধ্যে ইলেকট্রন আবিষ্কার করেছেন , ১৯১১ সালে বিজ্ঞানী রাদারফোর্ড দেখিয়েছেন পরমাণু কেন্দ্রে খুবই ক্ষুদ্র নিউক্লিয়াস পজেটিভ চার্জ থাকে।১৯০০সালে ম্যাক্স প্লাঙ্ক কোয়ান্টাম তত্ব আবিষ্কার করেন।১৯০৫ সালে বিজ্ঞানী আইনস্টাইন তার ‘থিওরি অব রিলেটিভিটি ‘ সুত্র আবিষ্কার করেন।এই সুত্র থেকেই সর্বকালের সবচেয়ে চমকপ্রদ সুত্র E= mc2 সুত্র বের হয়ে আসে যার কারণে আইনষ্টাইন সর্বকালের সেরা বিজ্ঞানীতে পরিণত হন।।
১৮৯৫ সালে রন্টজন এক্সরে আবিষ্কার করেন এবং ১৮৯৯ সালে পিয়ারে ও মেরি কুরি রেড়িয়াম আবিষ্কার করে বুঝতে পারেন পরমাণুগুলো অবিনশ্বর নয় এবং সেগুলো ভেঙে তেজস্ক্রিয় বিকিরণ হয়।১৮৬৫ সালে জেমস ক্লার্ক ম্যাক্সওয়েল ‘ এ ডাইনামিক্যাল থিওরি অফ দ্য ইলেক্ট্রো ম্যাগনেটিক ফিল্ড ‘ প্রকাশের মাধ্যমে পুরো বিশ্বকে তড়িৎ চুম্বকীয় বিকিরণ তত্বের সঙ্গে পরিচয় করিয়ে দিয়ে পৃথিবীতে নতুন এক আলোর সুত্রপাত করেছেন। এই আলো থেকে এই পৃথিবীতে কতকিছু আবিস্কৃত হয়েছে তার একটি ক্ষুদ্র নমুনা দেখানোর চেষ্টা করেছি।এইবার কি বুঝাতে পেরেছেন বিজ্ঞানী আইনস্টাইন কেন মোবাইল আবিষ্কার না করেও মোবাইলের আবিস্কারক মার্টিন কুপার থেকেও বেশি জনপ্রিয়?
বিজ্ঞানীদেরও ভাগ আছে আর বিজ্ঞানেরও অসংখ্য শাখা আছে। এসব বিষয়ে যেসব গর্দভ জানেনা ওরাই প্রশ্ন করে ড. জাফর ইকবাল স্যার কি আবিষ্কার করেছেন?
জাফর ইকবাল স্যার হলেন পৃথিবী বিখ্যাত কল্প বিজ্ঞান লেখক জুল ভার্নের মত বিজ্ঞান বিষয়ক কল্প কাহিনীর লেখক। যাদের নিয়ে পুরো বিশ্বের বিজ্ঞানীরা ভাবে , শ্রদ্ধা ও সম্মান করে। তিনি ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে পদার্থবিজ্ঞানে স্নাতক করার পর ওয়াশিংটন বিশ্ববিদ্যালয় থেকে পিএইচডি ও কালটেক থেকে তার ডক্টরেট- উত্তর গবেষণা শেষ করেন।তার বিষয় ছিলো, ‘প্যারিটি ভায়োলেশন ইন হাইড্রোজেন অ্যাটম ‘। তিনি এমন একটি বিষয় নিয়ে পড়েছেন যা দিয়ে এই মহাবিশ্ব , পৃথিবী , মানুষ তৈরী হয়েছে। ক্যালিফোর্নিয়া ইনস্টিটিউট অব টেকনোলজি ও বেল কমিউনিকেশন রিসার্চে ১৮ বছর কাজ করার পর দেশপ্রেমের টানে মাতৃভূমি বাংলাদেশে ফিরে আসেন।এই দেশে গণিতকে যিনি শিল্পের পর্যায়ে নিয়ে গেছেন তিনি ড. জাফর ইকবাল স্যার। তিনি কম্পিউটার বিজ্ঞান ও প্রকৌশল বিভাগের একজন অধ্যাপক ছিলেন। এছাড়া তার আরেকটি বড় পরিচয় হচ্ছে তিনি একজন পদার্থবিদ। তিনি পৃথিবী বিখ্যাত বেল কমিউনিকেশন রিসার্চে একজন গবেষক হিসেবে কাজ করেন।তিনি বিজ্ঞানকে এই দেশের মানুষের কাছে জনপ্রিয় করতে গিয়ে ধর্মান্ধদের এক নম্বর শত্রুতে পরিণত হন।পুরো বিশ্বের বিজ্ঞান মনস্ক মানুষের কাছে জুল ভার্ন যেমন এক জনপ্রিয় নাম ঠিক তেমনি বাংলাদেশের বিজ্ঞান প্রিয় প্রতিটি মানুষের কাছে জাফর ইকবাল স্যার ভালোবাসার অপর নাম।।
জাফর ইকবাল স্যার নিজেকে কখনোই বিজ্ঞানী বলে পরিচয় দেননি।এই দেশের একদল উট প্রজন্ম ও তাদের উট অনুসারীরা যে জাফর ইকবাল স্যারকে নিয়ে উপহাস করে এদের জন্ম হয়েছে উটের বিষ্ঠা খেয়ে আর এরা মরবে ছাগলের কাঁঠালপাতা খেয়ে খেয়ে।জাফর ইকবাল স্যার বিশ্ববিখ্যাত Cal Tech এর ফিজিক্সের ছাত্র।কালটেক পুরো পৃথিবীর সেরা বিশ্ববিদ্যালয়ের মধ্যে আট নম্বরে আছে। কতটা মেধাবী হলে এতদূর পর্যন্ত যাওয়া যায় তা এই দেশের গর্দভদের জানা আছে কি ? তিনি পৃথিবীর ইতিহাসে Best physics Teacher Ever খ্যাত স্যার Dr Feynman এর ডাইরেক্ট ছাত্র। এতোদূর পর্যন্ত কল্পনা করার শক্তি তোমাদের আরো শত বছরেও হবেনা।জাফর ইকবাল স্যারের যত রত্ন শত বছরে একজন জন্মায়।।
Multiplexing transfer mode switching for network communication.
Self -regulating multiweve length optical amplifier module for scalable light wave communication systems
Inter- ring cross- connect for survivable multi – wevelength optical communication network
জাফর ইকবাল স্যারের এই ধরণের তিনটি ইউএস গবেষণা পেটেন্ট যুক্তরাষ্ট্রে গৃহীত হয়েছে। বিশ্ববিখ্যাত বেল কমিউনিকেশন এর ওয়েবসাইটে গেলে আপনারা এই সম্পর্কিত আরো অসংখ্য তথ্য পাবেন। অথচ এই গুণী মানুষটিকে আমাদের দেশের একদল উট কুপিয়ে হত্যা করতে চেয়েছিল । বড় অভাগা এই দেশ বাংলাদেশ।

মুক্তিযুদ্ধ নিয়ে জাফর ইকবাল স্যারের লিখা ‘ আমার বন্ধু রাশেদ ‘ যখন সিনেমাহলে মুক্তি পায় তার সবচেয়ে জনপ্রিয় স্লোগান ছিলো – আর জয় বাংলা বলবি ?
রাশেদ – জয় বাংলা।
রাশেদের পায়ে গুলি করার পরও রাশেদ চিৎকার করে বলেছে জয় বাংলা। রাশেদের এই জয় বাংলা মৌলবাদীদের পটুতে আগুন ধরিয়ে দিয়েছিলো।জাফর ইকবাল স্যার প্রখ্যাত কথাসাহিত্যিক হুমায়ূন আহমেদের ভাই এটাতে মৌলবাদীদের শরীর জ্বালাপোড়া করে এবং স্যারের বাবা একজন বীর মুক্তিযোদ্ধা এতে পুরো মৌলবাদী পাড়ায় আগুন লেগে গেছে।
বাংলাদেশ ও মুক্তিযুদ্ধ এসবেও উটদের সমস্যা !!
নারীরা কর্ম করলে উটদের সমস্যা !!
এই দেশের মানুষ জ্ঞানী হলে উটদের সমস্যা !!
দেশ উন্নতি করলেও এই উটদের সমস্যা!!
এই দেশেরা উটেরা কাউকে মৃত মানুষের হাড্ডি নিয়েও গবেষণা করতে দিবেনা আবার চিল্লায়া বলবে দেশে কোন বিজ্ঞানী নাই!!
এই দেশের জাতীয় সঙ্গীতে উটদের সমস্যা!!
এই দেশের ১ লা বৈশাখে উটদের সমস্যা!!
এই দেশের নাম বাংলাদেশ এটাতেও ধর্মান্ধ উটদের সমস্যা !!
এই দেশে উটেরা জগদীশ চন্দ্র বসু ও জাফর ইকবাল স্যারদের সম্মান দিবেনা আবার বলবে বাংলাদেশ কেন জাপান হয়না !!
এই উটরা কোনদিন জাতির ক্ষতি ছাড়া কোন উপকারেই আসেনি এবং আসবেও না।।এই দেশে মরুভূমির উটেরা যে নোংরামী শুরু করেছে তাতে এই দেশে কোনদিনও আইনস্টাইন , নিউটন , হকিং, ডকিন্স , কার্ল সেগানের মত পৃথিবী বিখ্যাত বিজ্ঞানীদের জন্ম হবেনা। যদি ভুলক্রমে হয়ে যায় তবে তারা তাকেও হত্যা করে ফেলবে । ওরা শুধু এই দেশে ডজন ডজন মরুভূমির উট পয়দা করে যাবে, এই দেশে মানুষ পয়দা হবেনা।।
স্লোগান একটাই – মরুভূমির উট মুক্ত বাংলাদেশ চাই।
লুসিড ড্রিম See less
এই দেশে মৃত মানুষের হাড় নিয়ে গবেষণা করতে গেলে আপনারা এটাকে উট বিরোধী বলে প্রচার করবেন। কিন্তু আপনি কি জানেন হাড় নিয়ে গবেষণা করে এই পৃথিবীতে কত পরিবর্তন এসেছে?
‘ ক্যাসোওয়ারি ‘ হচ্ছে মৃত মানুষের হাড় দিয়ে তৈরি একধরণের যুদ্ধাস্ত্র যেটা নিউগিনির সেপিক অঞ্চলের মানুষ ব্যাবহার করতো।মৃত মানুষের হাড় দিয়ে অস্ত্র তৈরি করা যায় এটা শুনে আশ্চর্য হলেন?
২০২৫ কিলোমিটার দৈর্ঘ্যের রাশিয়ার কোলিমা হাইওয়ে তৈরি হয়েছে মৃত মানুষের হাড় দিয়ে। শীতের মৌসুমে প্রচন্ড তুষারপাত থেকে রাস্তা যেন পিছলা না হয়ে যায় তার জন্য তারা বালুর সাথে মানুষের হাড় মিশিয়ে এই রাস্তাটি তৈরি করেছে।এটি ( road of Bones ) বা হাড়ের রাস্তা নামে সারাবিশ্বে পরিচিত।
চিকিৎসা বিজ্ঞানে নোবেল পুরস্কার জয়ী সুইডিশ বিজ্ঞানী এসভান্তে পেবো বিলুপ্ত হোমিনিনের হাড় , জিন ও বিবর্তন এসব পরীক্ষা না করলে কোনদিনও চিকিৎসা বিজ্ঞানে নোবেল পেতেন না। তিনি এসব গবেষণার মাধ্যমে নিয়নডার্থালের মানচিত্র আবিষ্কার করেছেন, হোমিনিন ও ডেনিসোভার অস্তিত্ব আবিষ্কার করেছেন।আজ থেকে ৭০ হাজার বছর পূর্বে দক্ষিণ আফ্রিকা থেকে পৃথিবীতে ছড়িয়ে পড়ার পর কিভাবে হোমিনিন থেকে জিন হোমো সাফিয়েন্সে স্থানান্তরিত হয়েছে এবং সেই হোমো স্যাপিয়েন্স থেকে কিভাবে আজকের এই মানব সভ্যতার উৎপত্তি হয়েছে তা মানুষের এই আদি পুরুষদের হাড় , কঙ্কাল ও মাথা নিয়ে গবেষণা না করলে কখনোই এই মানব জাতির জানা হতোনা।এসভান্তে পাবে মানব জাতির উৎপত্তি সম্পর্কে বলতে গিয়ে বলেন , ‘ আজ থেকে তিন লক্ষ বছর আগে হোমো স্যাপিয়েন্সের শরীর বৃত্তীয় রূপটি দক্ষিণ আফ্রিকায় বিকশিত হয়েছিল। তিনি মানবজাতির জিন মানচিত্র তৈরি করেন এবং নিয়ান্ডার্থাল থেকে পাওয়া ডিএনএ নিয়ে গবেষণা করেন এবং মানুষের উৎপত্তি সম্পর্কে বিস্ময়কর সব তথ্য পৃথিবীর মানুষের কাছে তুলে ধরে সমগ্র পৃথিবীতে মানুষের কাছে প্রশংসিত হন।এসব বুঝতে হলে আপনাকে হোমিনিন , নিয়িন্ডার্থাল , ডেনিসোভান , হোমো ইরেক্টাস , হোমো স্যাপিয়েন্স, মাইটোকন্ড্রিয়া ও ডিএনএ এসব নিয়ে প্রচুর পড়াশোনা করতে হবে।এই দুঃসাধ্য কাজটি যদি তিনি বাংলার মাটিতে করতেন তবে এই দেশের ধর্মান্ধ উটরা তাকে হত্যা করে ফেলতো অথবা এসব আবিস্কারের জন্য তিনি দেশছাড়া হতেন।।
মানুষের শরীরের হাড়গুলো হচ্ছে জীবন্ত টিস্যু। এজন্য মানুষের শরীরের হাড় ভেঙে অথবা ফেঁটে গেলে তা অনেক সময় এমনিতেই ধীরে ধীরে জোড়া লেগে যায় তথা এটাতে কেরামত বাবার কেরামতি ভাবার কোন সুযোগ নেই। আপনার চারপাশে তাকিয়ে দেখবেন কেরামত বাবার অভাব নেই। এরা আপনাকে হাড় দিয়ে তৈরি জ্যান্ত মানুষের গল্প শুনিয়ে দিবে যা আদৌ এই পৃথিবীতে সম্ভব নয়। মানুষের শরীর নিয়ে গবেষণা করলে আপনি দেখতে পাবেন ভ্রুণ অবস্থায় মানুষের শরীরে অসংখ্য কোষ থাকে কিন্তু সেখানে হাড়ের কোন অস্তিত্ব নেই বরং এই হাড়গুলো ধীরে ধীরে মানব শরীরে তৈরি হয় ।একটা শিশু ৩০০ হাড় নিয়ে জন্মগ্রহণ করলেও শৈশব না পেরুতেই তার হাড়ের সংখ্যা কমতে থাকে তথা হাড় ক্ষয় হতে থাকে আর এইভাবে সে ২০৬ টি হাড়ের মানুষ হয়ে যায়। চিকিৎসা বিজ্ঞানের ভাষায় একে রিমডেলিং বলে।যদি এমনি হতো তবে শিশুদের হাড় দিয়েই নতুন মানুষ তৈরি করা যেত।
মানুষের হাড় দিয়ে শৌখিন জিনিসপত্র তৈরি করা যায় যা মানুষের কাজে লাগে। মানুষের হাড় দিয়ে জৈব সার তৈরি করা যায় যা মানুষের কাজে লাগবে। কিন্তু মানুষের হাড় দিয়ে মানুষ তৈরি করা যায় এটা শুধু গালগল্পে মানায়।
ইচ্ছে করলেই আপনি এখন ভবিষ্যতবাণী করে সবাইকে চমকে দিতে পারবেন। এরজন্য আপনাকে আপনার মোবাইল থেকে টেক জায়ান্ট গুগলের ‘ এন্ড্রয়েড় আর্থকোয়াক অ্যালার্ট ‘ অ্যাপসটি এখনি ডাউনলোড করে নিতে হবে। ভূমিকম্প আসার আগেই মানুষকে ভূমিকম্পের ভবিষ্যৎ বাণী করলে দেখবেন মানুষ আপনাকে দেবতা বানিয়ে পূজো শুরু করে দিবে কিন্তু এই দেশের মানুষ গুগলকে একটা ধন্যবাদ দিবেনা।এরা যে উন্নত প্রজাতির আহম্মক এতে কোন সন্দেহই নেই।।
আমি যে যুদ্ধটা করছি তা আমার জন্য করছিনা ।এই যুদ্ধটা আগামী বিশ থেকে ত্রিশ বছরের মধ্য বাংলাদেশে যে তরুণরা বড় হবে তাদের জন্য।একদিন আমার মৃত্যুর পরও আপনারা আমাকে স্মরণ রাখবেন।আমাকে ভূলে গেলেও তাতে আমার কোন কষ্ট নেই। মৃত্যুর সময়ও আমি হাসিমুখে বলে যাব আমি একটা অন্ধ মানুষদের এক বিন্দু আলো দেখাতে চেয়েছিলাম।।
মানুষ মরে গেলে পচে যাবে জেনেও তারা তাদের দেহটা মানুষের জন্য দান করে যাবেনা। অথচ তার দেওয়া দুটো চোখে আরেকজন মানুষ আলো দেখতো , তার দেওয়া কিডনি , লিভার এসব নিয়ে আরো কিছু মানুষ আরো কিছুদিন পৃথিবীতে বেঁচে থাকতে পারতো।
রাজনীতির নামে এই দেশে রাজনৈতিক লুটেরা তৈরি হয় , ধর্মের নামে ভন্ড ধর্মীয় নেতা তৈরি হয় , পোস্টার ভয় তৈরি হয় এবং এরা সবাই মিলে দেশটাকে লুটের ধান্দায় থাকে।এরাই এই দেশটাকে লুট করার জন্য দেশটাকে মেধা শূন্য করে রাখে। ফলে এই দেশে দূর্নীতিবাজ তৈরী হয় কিন্তু দেশপ্রেমিক তৈরি হয়না।
মানব দেহকে নিয়ে গবেষণা করতে গিয়ে বিজ্ঞানীরা আবিষ্কার করেন এই মানবদেহ জলের তৈরী।মানবদেহ কার্বন , নাইট্রোজেন , হাইড্রোজেন ও অক্সিজেনের তৈরি।
নারী ও পুরুষ উভয়ের দেহেই ৬০ ভাগ জল দিয়ে তৈরি।
নারী ও পুরুষ উভয়ের শরীরেই রয়েছে ২০৬ খানা হাড় তথা একটিও কমবেশি নেই।অথচ নারীকে বলা হয়েছে সে দুষিত জলের তৈরি আর পুরুষ মানেই পবিত্র জল!! এই পবিত্র জলের নোংরামি দেখতে দেখতে আর ভালো লাগেনা। এই আহম্মকদের বুঝান নারী ও পুরুষ উভয়েই একি জলের তৈরী। শুধুমাত্র একটি সুক্ষ্ম বিভাজন এই পৃথিবীতে নারী , পুরুষ ও তৃতীয় লিঙ্গের হিজড়াদের জন্ম দিয়েছে। সেই হিজড়াদের নিয়েও দেখি আপনাদের হাসাহাসির শেষ নেই।জন্মে যদি মানুষের হাত থাকতো তবে সবাই পুরুষ হয়েই জন্ম নিতো। আধুনিক বিজ্ঞান এটাকেও সম্ভব করে দেখিয়েছে। পুরুষের শুক্রাণু ও নারীর ডিম্বানু নিয়ে গবেষণা করেই বিজ্ঞান সন্তান জন্মদানের এই আধুনিক পদ্ধতি আবিষ্কার করেছে।
একজন মানুষের বয়স যদি ৭০ বছর হয় তবে তার শরীরের ৪৩ কেজি ওজন হচ্ছে অক্সিজেনের , ৭ কেজি ওজন হচ্ছে হাইড্রোজেনের । এই পঞ্চাশ কেজি বাদে তার শরীরের আর যে বিশ কেজি ওজন আছে তার মধ্যে তার দেহের হাড়ের ওজন হচ্ছে আরো সাত কেজি ।।অথচ একজন মানুষের শরীরের ৬২ শতাংশ হচ্ছে হাইড্রোজেন আর ২৪ শতাংশ হচ্ছে অক্সিজেন ।তাহলে হাইড্রোজেনের ওজন কম আর অক্সিজেনের বেশী কেন ? কারণ হচ্ছে হাইড্রোজেন অক্সিজেনের চেয়ে হালকা।হাইড্রোজেনের চেয়ে অক্সিজেনের ভর বেশি। পৃথিবীর বায়ুমণ্ডলে সবচেয়ে বেশি হচ্ছে নাইট্রোজেন এবং এই নাইট্রোজেনও নিঃশ্বাসের সাথে আমাদের শরীরে ঢুকে। আমাদের মত বিজ্ঞানীরাও যদি আকাশের দিকে হা করে তাকিয়ে থাকতেন তবে মুখে মশা ঢুকে যেত।। মানুষের হাড়ে ও দাঁতে ক্যালসিয়াম ও ম্যাগনেশিয়াম থাকে।
পৃথিবী ও মহাকাশ সব মিলিয়ে প্রাপ্ত ১৬০ টি পরমাণু মৌলের মধ্যে ৬০ টির উপস্থিতি আছে মানব শরীরে। এই ৬০ টি উপাদান দিয়ে মানুষকে তৈরি করা হয়েছে। শুধু মানুষ নয় প্রতিটি জীবের ক্ষেত্রেই তা প্রায় এক।এসব নিয়ে গবেষণা করে কিছু বলতে গেলেই আপনারা এইদেশে তার গলাটিপে ধরবেন এতে কোন সন্দেহই নেই। তাহলে এই দেশে স্টেমসেল নিয়ে গবেষকরা কিভাবে গবেষণা করবে ?
এই দেশে ডিএনএ নিয়ে গবেষণা করলে উটের সমস্যা !!
আরএনএ নিয়ে গবেষণা করলে উট সমস্যা !!
মানব দেহের জিনোম সিকোয়েন্স নিয়ে গবেষণা করলে উট সমস্যা!!
মহাকাশে স্যাটেলাইট পাঠালে উট সমস্যা !!
বাঙালি নারী মহাকাশে যেতে চাইলে উট সমস্যা !!
বাতাসের মধ্যে কোন অলৌকিক শক্তি নেই ওখানে নাইট্রোজেন , অক্সিজেন , হাইড্রোজেন ও অভিকর্ষ বল আছে বললে উট সমস্যা!!
মেঘ জলের তৈরি সুক্ষ্ম কণা বললে উট সমস্যা!!
আকাশে ও মাটিতে কোন পিলার নেই বললে উট সমস্যা!!
পৃথিবী গোল বললে উট সমস্যা!!
সূর্য কোটি কোটি এটা প্রমাণ সহ দেখিয়ে দিলে উট সমস্যা!
চাঁদ একটা নয় তথা শুধু এক বৃহস্পতি গ্রহে চাঁদ আছে ৯২ টি এটা বললেই গ্রহরাজদের মেজাজ গরম হয়ে যায়!!!
মানুষের মগজ জলের মধ্যে ভেসে থাকে এবং সেই মগজ মাথাকেটে মগজ বের করে পরিস্কার করলে সমস্যা !!
এই দেশে এমন হাজারো উট সমস্যা আছে তাই এই দেশে শুধু লোটা বিজ্ঞানী পয়দা হবে জ্ঞানী মানুষের জন্ম হবেনা। এইজন্যই এই দেশে ‘ The ultimate fate of universe ‘ বই লিখা জামাল নজরুল ইসলাম স্যারের মূল্যায়ন হয়না। ডঃ জাফর ইকবাল স্যারের মত মহামূল্যবান রত্ন নিয়ে এই দেশের একদল অর্ধশিক্ষিত আহম্মক হাসাহাসি করে। এরা নাসার বাঙালি নারী বিজ্ঞানী লামিয়া মাওলা ও সফটওয়্যার ইঞ্জিনিয়ার মেহজাবীনের ছবিতে হা হা রিয়েক্ট দিয়ে এসে উটের পিঠে উঠে দেশ স্বাধীন করে। এই বোকার দল জানেনা শুধুমাত্র ছোট্ট একটা চিপ তৈরি করে তাইওয়ানের মত দেশ চীনের মত মহাপরাক্রমশালী দেশের সামনেও বুক চিতিয়ে দাঁড়িয়ে আছে।।
এই বলদের দল বিজ্ঞানী বলতে বুঝে যারা বদনা আবিষ্কার করেছে।এই বলদের দলকে প্রশ্ন করে দেখুন আইনষ্টাইন , নিউটন , হকিং এরা পৃথিবীতে কি আবিষ্কার করেছে এবং কেন আজও তাদের নিয়ে এই পৃথিবীতে এতো মাতামাতি?
এই গর্দভের দল মনে করে যিনি মোবাইল আবিষ্কার করেছেন তিনিই শুধু বিজ্ঞানী । কিন্তু এই এক মোবাইল বানাতে কত যন্ত্রের দরকার হয়েছে এবং তারও শত শত আবিস্কারক রয়েছে তা এই বলদদের কে বুঝাবে ?
এই মোবাইল আবিষ্কার করতে সুত্রের প্রয়োজন হয়েছে এবং যিনি সেই সুত্র আবিষ্কার করেছেন তিনিও একজন বিজ্ঞানী।।
বর্তমান প্রজন্ম রেডিও কি চেনেনা , রেডিও ওয়েব কি তা জানেনা।এরা শুধু জানে মোবাইলে টাচ করলেই মোবাইল চলে কিন্তু এর পেছনের ইতিহাস জানেনা।এই না জেনে বকবক করা জাতি বিবর্তনবাদে বিশ্বাস করেনা, হকিং রেড়িয়েশন মানেনা, ডকিংস ও পড়তে চায় না। এদের কাজ হচ্ছে সারাদিন নারী দেহ নিয়ে গবেষণা আর কেরামত বাবার প্রচারণা।।এরা এসব না জানলেও চলবে। কিন্তু আপনাকে / আমাকে জানতে হবে জ্ঞানের রাজত্বে আমরা কত ক্ষুদ্র আর জ্ঞানের এই রাজত্ব কত বিশাল।।তবেই আপনি জ্ঞানী মানুষদের সম্মান দিতে শিখবেন এবং জ্ঞানের মূল্য দিতে শিখবেন।।
মোবাইল ফোন আবিস্কারের আগে ল্যান্ড ফোন আবিস্কার করতে হয়েছে এবং তারও আগে রেডিও আবিষ্কার হয়েছে।এই সবকিছুকে চালাতে রেডিও তরঙ্গের প্রয়োজন ।এই রেড়িও তরঙ্গ ছাড়া আপনার মোবাইল , টিভি ও রেডিও সব আবর্জনা ছাড়া আর কিছুই নয়। সেই রেড়িও তরঙ্গ বাংলাদেশের যে বিজ্ঞানী আবিষ্কার করেছেন তার নামে এই দেশে কোন বিশ্ববিদ্যালয় নেই। তার নামে বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিষ্ঠা করলেও এই দেশের উটদের সমস্যা!!
এই দেশে বিজ্ঞানী পয়দা হবে কি মরতে ?
স্যার জগদীশ চন্দ্র বসু তিনি একজন হিন্দু । এই দেশের জাতীয় সঙ্গীতের রচয়িতা রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরে এদের যেমন সমস্যা ঠিক তেমনি স্যার জগদীশ চন্দ্র বসু নিয়ে ও এই দেশে উটদের সমস্যা।।তাই এই দেশে শুধু লোটা বিজ্ঞান পয়দা হবে কিন্তু কোন জ্ঞানী মানুষের জন্ম হলেও সে যথার্থ সম্মান পাবেনা।
আমার লেখাটা এখনো শেষ হয়নি স্যার।।।
আরেকটু ধৈর্য্য ধরে পড়ুন।
এতোক্ষণ আমরা পড়লাম বেতার তরঙ্গ ছাড়া এইসব যন্ত্র অচল এবং এই যন্ত্রকে যিনি সচল করেছেন তিনি একজন বাঙালি হয়েও তার দেশে উট সমস্যার কারণে যথাযথ সম্মান পাননি।এই বেতার তরঙ্গ হচ্ছে একটি তড়িৎ চুম্বকীয় বিকিরণ ।এই বৈদ্যুতিক তরঙ্গ খালি চোখে দেখা যায়না।এই বেতার তরঙ্গের কম্পাঙ্ক আলোর থেকেও কম। এটি ৩ কিলোহার্টজ থেকে ৩০০ গিগাহার্টজ পর্যন্ত হয়। ৩০০ গিগাহার্টজ এটা চালার দানার চেয়েও ছোট আর ৩০ হার্টজ এটির তরঙ্গ দৈর্ঘ্য ১০,০০০ কিলোমিটার যা পৃথিবীর ব্যাসার্ধের চেয়েও বড়। এসব বুঝতে হলে আপনাকে পদার্থবিজ্ঞান পড়তে হবে। তরঙ্গ দৈর্ঘ্য , কম্পাঙ্ক এসব কি তা জানতে হবে।তা না জেনেই আপনি কি চমৎকার দেখা গেল কেরামত আলী সব কেরামত করে ফেললো এই জাতীয় চিন্তাভাবনা করতে করতে ঘুমিয়ে যাবেন। ১৮৯৫ সালে বাঙালি বিজ্ঞানী স্যার জগদীশ চন্দ্র বসু বৈদ্যুতিক তার ছাড়া রেডিও তরঙ্গ দৈর্ঘ্যকে ৫ মিলিমিটারে নামিয়ে পুরো বিশ্বকে চমকে দেন।
সেই থেকে আজকের এই আধুনিক পৃথিবীর যাত্রা শুরু হয়। কিন্তু বিজ্ঞান এখানেই শেষ নয়। এই তরঙ্গ দৈর্ঘ্য আবিষ্কার করতে উনার তড়িৎ চুম্বকীয় বিকিরণ সুত্রের সাহায্য নিতে হয়েছে। ১৮০৩ সালে ডাল্টন এই তড়িৎ চুম্বকীয় তরঙের ব্যাখ্যা দিতে গিয়ে পারমাণবিক তত্ব দিয়েছেন, ১৮৯৭ সালে বিজ্ঞানী থমসন সেই পারমাণবিক সুত্রের মধ্যে ইলেকট্রন আবিষ্কার করেছেন , ১৯১১ সালে বিজ্ঞানী রাদারফোর্ড দেখিয়েছেন পরমাণু কেন্দ্রে খুবই ক্ষুদ্র নিউক্লিয়াস পজেটিভ চার্জ থাকে।১৯০০সালে ম্যাক্স প্লাঙ্ক কোয়ান্টাম তত্ব আবিষ্কার করেন।১৯০৫ সালে বিজ্ঞানী আইনস্টাইন তার ‘থিওরি অব রিলেটিভিটি ‘ সুত্র আবিষ্কার করেন।এই সুত্র থেকেই সর্বকালের সবচেয়ে চমকপ্রদ সুত্র E= mc2 সুত্র বের হয়ে আসে যার কারণে আইনষ্টাইন সর্বকালের সেরা বিজ্ঞানীতে পরিণত হন।।
১৮৯৫ সালে রন্টজন এক্সরে আবিষ্কার করেন এবং ১৮৯৯ সালে পিয়ারে ও মেরি কুরি রেড়িয়াম আবিষ্কার করে বুঝতে পারেন পরমাণুগুলো অবিনশ্বর নয় এবং সেগুলো ভেঙে তেজস্ক্রিয় বিকিরণ হয়।১৮৬৫ সালে জেমস ক্লার্ক ম্যাক্সওয়েল ‘ এ ডাইনামিক্যাল থিওরি অফ দ্য ইলেক্ট্রো ম্যাগনেটিক ফিল্ড ‘ প্রকাশের মাধ্যমে পুরো বিশ্বকে তড়িৎ চুম্বকীয় বিকিরণ তত্বের সঙ্গে পরিচয় করিয়ে দিয়ে পৃথিবীতে নতুন এক আলোর সুত্রপাত করেছেন। এই আলো থেকে এই পৃথিবীতে কতকিছু আবিস্কৃত হয়েছে তার একটি ক্ষুদ্র নমুনা দেখানোর চেষ্টা করেছি।এইবার কি বুঝাতে পেরেছেন বিজ্ঞানী আইনস্টাইন কেন মোবাইল আবিষ্কার না করেও মোবাইলের আবিস্কারক মার্টিন কুপার থেকেও বেশি জনপ্রিয়?
বিজ্ঞানীদেরও ভাগ আছে আর বিজ্ঞানেরও অসংখ্য শাখা আছে। এসব বিষয়ে যেসব গর্দভ জানেনা ওরাই প্রশ্ন করে ড. জাফর ইকবাল স্যার কি আবিষ্কার করেছেন?
জাফর ইকবাল স্যার হলেন পৃথিবী বিখ্যাত কল্প বিজ্ঞান লেখক জুল ভার্নের মত বিজ্ঞান বিষয়ক কল্প কাহিনীর লেখক। যাদের নিয়ে পুরো বিশ্বের বিজ্ঞানীরা ভাবে , শ্রদ্ধা ও সম্মান করে। তিনি ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে পদার্থবিজ্ঞানে স্নাতক করার পর ওয়াশিংটন বিশ্ববিদ্যালয় থেকে পিএইচডি ও কালটেক থেকে তার ডক্টরেট- উত্তর গবেষণা শেষ করেন।তার বিষয় ছিলো, ‘প্যারিটি ভায়োলেশন ইন হাইড্রোজেন অ্যাটম ‘। তিনি এমন একটি বিষয় নিয়ে পড়েছেন যা দিয়ে এই মহাবিশ্ব , পৃথিবী , মানুষ তৈরী হয়েছে। ক্যালিফোর্নিয়া ইনস্টিটিউট অব টেকনোলজি ও বেল কমিউনিকেশন রিসার্চে ১৮ বছর কাজ করার পর দেশপ্রেমের টানে মাতৃভূমি বাংলাদেশে ফিরে আসেন।এই দেশে গণিতকে যিনি শিল্পের পর্যায়ে নিয়ে গেছেন তিনি ড. জাফর ইকবাল স্যার। তিনি কম্পিউটার বিজ্ঞান ও প্রকৌশল বিভাগের একজন অধ্যাপক ছিলেন। এছাড়া তার আরেকটি বড় পরিচয় হচ্ছে তিনি একজন পদার্থবিদ। তিনি পৃথিবী বিখ্যাত বেল কমিউনিকেশন রিসার্চে একজন গবেষক হিসেবে কাজ করেন।তিনি বিজ্ঞানকে এই দেশের মানুষের কাছে জনপ্রিয় করতে গিয়ে ধর্মান্ধদের এক নম্বর শত্রুতে পরিণত হন।পুরো বিশ্বের বিজ্ঞান মনস্ক মানুষের কাছে জুল ভার্ন যেমন এক জনপ্রিয় নাম ঠিক তেমনি বাংলাদেশের বিজ্ঞান প্রিয় প্রতিটি মানুষের কাছে জাফর ইকবাল স্যার ভালোবাসার অপর নাম।।
জাফর ইকবাল স্যার নিজেকে কখনোই বিজ্ঞানী বলে পরিচয় দেননি।এই দেশের একদল উট প্রজন্ম ও তাদের উট অনুসারীরা যে জাফর ইকবাল স্যারকে নিয়ে উপহাস করে এদের জন্ম হয়েছে উটের বিষ্ঠা খেয়ে আর এরা মরবে ছাগলের কাঁঠালপাতা খেয়ে খেয়ে।জাফর ইকবাল স্যার বিশ্ববিখ্যাত Cal Tech এর ফিজিক্সের ছাত্র।কালটেক পুরো পৃথিবীর সেরা বিশ্ববিদ্যালয়ের মধ্যে আট নম্বরে আছে। কতটা মেধাবী হলে এতদূর পর্যন্ত যাওয়া যায় তা এই দেশের গর্দভদের জানা আছে কি ? তিনি পৃথিবীর ইতিহাসে Best physics Teacher Ever খ্যাত স্যার Dr Feynman এর ডাইরেক্ট ছাত্র। এতোদূর পর্যন্ত কল্পনা করার শক্তি তোমাদের আরো শত বছরেও হবেনা।জাফর ইকবাল স্যারের যত রত্ন শত বছরে একজন জন্মায়।।
Multiplexing transfer mode switching for network communication.
Self -regulating multiweve length optical amplifier module for scalable light wave communication systems
Inter- ring cross- connect for survivable multi – wevelength optical communication network
জাফর ইকবাল স্যারের এই ধরণের তিনটি ইউএস গবেষণা পেটেন্ট যুক্তরাষ্ট্রে গৃহীত হয়েছে। বিশ্ববিখ্যাত বেল কমিউনিকেশন এর ওয়েবসাইটে গেলে আপনারা এই সম্পর্কিত আরো অসংখ্য তথ্য পাবেন। অথচ এই গুণী মানুষটিকে আমাদের দেশের একদল উট কুপিয়ে হত্যা করতে চেয়েছিল । বড় অভাগা এই দেশ বাংলাদেশ।
মুক্তিযুদ্ধ নিয়ে জাফর ইকবাল স্যারের লিখা ‘ আমার বন্ধু রাশেদ ‘ যখন সিনেমাহলে মুক্তি পায় তার সবচেয়ে জনপ্রিয় স্লোগান ছিলো – আর জয় বাংলা বলবি ?
রাশেদ – জয় বাংলা।
রাশেদের পায়ে গুলি করার পরও রাশেদ চিৎকার করে বলেছে জয় বাংলা। রাশেদের এই জয় বাংলা মৌলবাদীদের পটুতে আগুন ধরিয়ে দিয়েছিলো।জাফর ইকবাল স্যার প্রখ্যাত কথাসাহিত্যিক হুমায়ূন আহমেদের ভাই এটাতে মৌলবাদীদের শরীর জ্বালাপোড়া করে এবং স্যারের বাবা একজন বীর মুক্তিযোদ্ধা এতে পুরো মৌলবাদী পাড়ায় আগুন লেগে গেছে।
বাংলাদেশ ও মুক্তিযুদ্ধ এসবেও উটদের সমস্যা !!
নারীরা কর্ম করলে উটদের সমস্যা !!
এই দেশের মানুষ জ্ঞানী হলে উটদের সমস্যা !!
দেশ উন্নতি করলেও এই উটদের সমস্যা!!
এই দেশেরা উটেরা কাউকে মৃত মানুষের হাড্ডি নিয়েও গবেষণা করতে দিবেনা আবার চিল্লায়া বলবে দেশে কোন বিজ্ঞানী নাই!!
এই দেশের জাতীয় সঙ্গীতে উটদের সমস্যা!!
এই দেশের ১ লা বৈশাখে উটদের সমস্যা!!
এই দেশের নাম বাংলাদেশ এটাতেও ধর্মান্ধ উটদের সমস্যা !!
এই দেশে উটেরা জগদীশ চন্দ্র বসু ও জাফর ইকবাল স্যারদের সম্মান দিবেনা আবার বলবে বাংলাদেশ কেন জাপান হয়না !!
এই উটরা কোনদিন জাতির ক্ষতি ছাড়া কোন উপকারেই আসেনি এবং আসবেও না।।এই দেশে মরুভূমির উটেরা যে নোংরামী শুরু করেছে তাতে এই দেশে কোনদিনও আইনস্টাইন , নিউটন , হকিং, ডকিন্স , কার্ল সেগানের মত পৃথিবী বিখ্যাত বিজ্ঞানীদের জন্ম হবেনা। যদি ভুলক্রমে হয়ে যায় তবে তারা তাকেও হত্যা করে ফেলবে । ওরা শুধু এই দেশে ডজন ডজন মরুভূমির উট পয়দা করে যাবে, এই দেশে মানুষ পয়দা হবেনা।।
স্লোগান একটাই – মরুভূমির উট মুক্ত বাংলাদেশ চাই।
