আফজাল হোসেন
যেদিকে তাকাই মানুষের প্রতি মানুষের আচরণ দেখে হতাশা বোধ করি। পথে ঘাটে, বাজারে, যানবাহনে, অফিসে, টেলিভিশন খুললে বা সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে- সর্বত্র কলহের চিত্র।
সবখানে দৃশ্যমান মানুষ মানুষকে পছন্দ করছে না। অল্প কারণে রেগে আগুন হয়ে যাচ্ছে। নাকের কাছে নাক নিয়ে গিয়ে চীৎকার করছে। সবাই সবাইকে নিমিষেই খুব মন্দ ভাবে, শত্রু মনে করছে। সবার মধ্যেই বোঝানোর চেষ্টা, আমি তোর চেয়েও বড়, শক্তিমান।
যেখানে সেখানে হুট করে বিষধর সাপের মতো এই যে ফনা তুলে ফোঁসফোঁস করা, এর পিছনে কারণ আছে নিশ্চয়ই। সেসব নিয়ে কোথায় কথা হবে?
কে, কারা কথা বলবে?
শুনবে কারা?
টেলিভিশন চ্যানেলগুলো রোজই ব্যস্ত রাজনৈতিক তর্কের আসরে আজ কাকে কাকে বসাতে পারলে আলোচনা “ফলপ্রসু” হবে।
চ্যানেলগুলোর তৈরি করা বিশেষজ্ঞ মহাশয়েরা মহামূল্যবান কথা দিনের পর দিন বলে চলেছেন, শুনে ও দেখে মানুষের উচ্চতা বাড়ছে, না আরো অধঃপতিত হচ্ছে মানুষ এবং সমাজ, তা ভেবে দেখবার সময় বা দায় কারোরই নেই।
যারা কথা বলতে আসেন, তাঁরা যদি বেঁকে বসতে পারতেন, বলতেন ওকে তাকে খারাপ বলবার মধ্যে আর আমরা থাকবো না। আমরা বলতে চাই সুন্দর একটা আগামী নির্মান বিষয়ে। ইচ্ছা প্রকাশের পর আপনারা বুঝতে পারতেন, টিভি চ্যানেলগুলো আপনাদেরকে কতটা মূল্য দেয়।
আমরা প্রতিযোগিতা প্রিয়। আমরা স্বভাবে অনুসারী। ফুটবল দলের প্রেমে পড়ে পরের দেশের পতাকা বানিয়ে বানিয়ে খুব উঁচুতে তুলে গৌরব প্রকাশ করতে পারি। প্রকৃত গৌরব কিসে কোথাও কখনোই তা নিয়ে কথা বলাবলি নেই। নেই বলে আমরা হতাশও নই। একেই বোধহয় বলে তাইরে নাইরে মার্কা জীবন।
জীবনে নাম শুনিনি এমন একটা দেশের নাম এখন পুরো বিশ্ব জানে। কেপ ভার্দে। ফুটবল খেলতে এসে যোগ্যতা দিয়ে চিনিয়ে গেছে। বুঝিয়ে দিয়ে গেছে দেশের আয়তন বড় কথা নয়।
দেশের নামটা মনে রেখে সবাই এখন গুগলে দেশটা সম্পর্কে বিস্তারিত জানতে চায়। খেলায় জয়ের পর জয় দরকার নেই, এই চিনিয়ে দেবার সাধ্যটা অর্জন করা খুবই জরুরী, এটাই তারা বুঝিয়ে দিয়ে গেছে।
ঝগড়া বিবাদ, গালিগালাজ অথবা তর্কের কোনো আন্তর্জাতিক প্রতিযোগিতা নেই। থাকলেও বিপদ ছিল। একটা দেশ থেকেই কোটি কোটি মানুষ সে প্রতিযোগিতায় নাম লেখাতে চাইতো। তবে প্রতিদিন ঝগড়া বিবাদ করে বিশেষ হয়ে ওঠা মানুষেরা তখন বুঝতে পারতো, তারা নামেই দেশবাসী। দেশ আসলে রাজনীতি করা মানুষদের।
বিশ্ব কলহ কাপ যদি থাকতো দেশের ঝগড়াটে মানুষদের ফেলে রাজনীতিতে যারা গালিগালাজ, ঝগড়া ফ্যাসাদে খ্যাতিমান, তারাই সাধারণ মানুষদের ধাক্কা দিয়ে আগে নাম লিখিয়ে ফেলতো।
সাধারণ মানুষের ধাক্কা খাওয়া নিয়ে মনোকষ্ট নেই। তারাও ধাক্কা দিতে পারে অনেকবার সেটা বুঝিয়েছে। যাদের বোঝা দরকার, মনে রাখা দরকার; তারা বোঝে না, মনেও রাখে না।
