২০২৪-এর ৫ই আগস্ট পরবর্তী বাস্তবতায় বাংলাদেশ আওয়ামী লীগ এবং এর অঙ্গ-সহযোগী ও ভ্রাতৃপ্রতিম সংগঠনের নেতাকর্মীদের ওপর যে গণহত্যা এবং নির্মম নিপীড়ন চলছে, সেই পরিস্থিতিতে নেতাকর্মীদের মনোবল ও সাংগঠনিক শক্তি সুসংহত করার লক্ষ্যে এক বিশেষ ভার্চুয়াল বৈঠকে যুক্ত হয়ে অত্যন্ত কঠোর বার্তা দিয়েছেন দলের সভাপতি শেখ হাসিনা।
প্রতিকূল পরিস্থিতির মুখোমুখি হওয়া মাঠপর্যায়ের নেতাকর্মীদের উদ্দেশ্যে দূরদর্শী ও অনড় অবস্থান ব্যক্ত করে তিনি স্পষ্ট ভাষায় ঘোষণা করেন, “প্রতিটি ফোঁটা রক্তের হিসেব নিতে হবে; প্রতিটি ধ্বংসযজ্ঞের হিসেব নিতে হবে এবং সেইভাবেই নিজেদের তৈরি করতে হবে।”
দেশের বিভিন্ন প্রান্তে দলীয় নেতাকর্মীদের ওপর ঘটে যাওয়া নির্যাতন-হত্যা ও ক্ষয়ক্ষতির খতিয়ান টেনে তিনি দলের তৃণমূলকে ঐক্যবদ্ধ থাকার তাগিদ দেন। একই সঙ্গে কর্মীদের অন্তরে নতুন করে শক্তি সঞ্চার করতে এবং যেকোনো কঠিন পরিস্থিতি সাহসের সাথে মোকাবেলা করার প্রেরণা জুগিয়ে বার্তা দেন আওয়ামী লীগ সভাপতি।
তিনি বলেন, “বুকে সাহস নিয়ে এগিয়ে যেতে হবে, ভয় পেলে চলবে না; মনে রাখবে, জনতার জয় হবেই।”
দলের দীর্ঘ গৌরবময় ইতিহাস এবং চড়াই-উতরাই পার হওয়ার ঐতিহ্য স্মরণ করিয়ে দিয়ে শেখ হাসিনার এই সুনির্দিষ্ট ও অনড় বার্তা মাঠপর্যায়ে নেতাকর্মীদের মাঝে এক নতুন উদ্দীপনার সৃষ্টি করেছে।
রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, দেশের অন্যতম প্রাচীন ও বৃহত্তম দল বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের রাজনৈতিক ভবিষ্যৎ ধরে রাখা এবং প্রতিকূলতার মাঝেও তৃণমূলকে এক সুতোয় বেঁধে রাখার ক্ষেত্রে শেখ হাসিনার এই সাম্প্রতিক ভার্চুয়াল নির্দেশনা অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ ভূমিকা পালন করবে।
তাদের মতে, শেখ হাসিনা স্পষ্ট করে দিতে চেয়েছেন যে, যেকোনো সাময়িক ঝড়-ঝাপটা বা প্রতিবন্ধকতা পেরিয়ে দলটির এই সংগ্রাম মূলত দেশের আপামর সাধারণ মানুষের অধিকার ও গণতান্ত্রিক অধিকার নিশ্চিত করার দীর্ঘমেয়াদী লড়াইয়েরই অংশ। দলের নেতাকর্মীদের রক্ত ও আত্মত্যাগকে বৃথা যেতে না দেওয়ার এই দৃঢ় সংকল্প প্রকারান্তরে দলের ভেতরকার অভ্যন্তরীণ সংযোগকে আরও মজবুত করবে।
