আলী আহমদ এডভোকেট
ষড়যন্ত্র আর প্রতারণার জুলাই। জুলাইকে আপনারাই CDI করে দিয়েছেন। মেহের আফরোজ শাওন সেটা বলেছেন মাত্র।
২০২৪ সালে সাংস্কৃতিক ব্যক্তিত্ব মেহের আফরোজ শাওন যখন আবু সাঈদকে নিয়ে পোস্ট দিয়েছিলেন, তখন আপনাদের কাছে তিনি ছিলেন পীর-এ-কামেল সমপর্যায়ের। আর এখন আপনাদের তাণ্ডব, দুর্নীতি, লুটপাট ও ভণ্ডামি নিয়ে কথা বলাতে তিনি হয়ে গেছেন নটি। ইসলামের দৃষ্টিতে এই রকম দ্বিচারিতাকে বলে মোনাফেকি, আর মোনাফেকের শাস্তি হচ্ছে জাহান্নামের সর্বনিম্ন স্তর।
হ্যাঁ, জুলাই-আগস্টে কোটা আন্দোলনের পক্ষে সাধারণ জনগণের অনেকেই ছিল। কারণ, আপনাদের দূরভিসন্ধি তারা ধরতে পারেনি। আর আন্দোলনের মোটিভ বোঝা এবং এটিকে সঠিকভাবে হ্যান্ডেল করতে সরকারের ব্যর্থতা ছিল। সরকারের দায়িত্বপ্রাপ্ত কিছু বাহিনী ডিপ স্টেটের অংশ হয়ে সরকারকে বিভ্রান্ত করেছে, আন্দোলনকে উস্কে দিয়েছে, পরে দেশকে বিপদগ্রস্ত করেছিল। শেখ হাসিনা তাদের বিশ্বাস করেছিলেন—এটাই শেখ হাসিনার মূল ব্যর্থতা।
শাওন জুলাইকে CDI করেননি, আপনারাই করেছেন। যখন,
বঙ্গবন্ধু ও সাত বীরশ্রেষ্ঠসহ দেশের মুক্তিযুদ্ধের সকল স্মৃতিচিহ্ন মাটির সঙ্গে মিশিয়ে দিয়েছেন।
যেদিন পাকিস্তানি অ্যাম্বাসেডর সকল কূটনৈতিক প্রোটোকল ভেঙে আপনাদের আনন্দ-উৎসবে শরিক হয়েছে। দেশে আইএস ও আল-কায়েদার পতাকা নিয়ে মিছিল হয়েছে।
যেদিন শাওয়া হাদীরা চিৎকার করে “ইনকিলাব জিন্দাবাদ” স্লোগান দিয়ে বলেছে, “জুলাই সংঘটিত হয়েছে মুক্তিযুদ্ধের চেতনার বিরুদ্ধে।”
যখন রাজনীতিতে অশ্লীলভাবে মেয়েদের শাওয়া-মাওয়া ছিঁড়ে ফেলা কিংবা “একদিন, দুইদিন, তিনদিন, চার—তারেক রহমানের টুপকি মার” স্লোগান হয়েছে।
যেদিন আলী রিয়াজরা ৭২-এর সংবিধান ডাস্টবিনে ফেলে দেওয়ার কথা বলে মুক্তিযুদ্ধবিরোধী জুলাই সনদ তৈরি করেছে এবং জুলাইকে মূল স্বাধীনতা ঘোষণা করেছে।
যেদিন দেশে মুক্তিযোদ্ধা ও শিক্ষকদের ওপর মব সৃষ্টি করে তাদের গলায় জুতার মালা পরানো হয়েছে।
যেদিন সারা দেশে মব, সন্ত্রাস, চাঁদাবাজি ও লুটপাটের রামরাজত্ব কায়েম করে দেশের মানুষকে জিম্মি করা হয়েছে।
যেদিন বন্যার্তদের নামে চাঁদা তুলে ১১ কোটি টাকা আত্মসাৎ করা হয়েছে, সমন্বয়কেরা পাজেরোতে চলা শুরু করেছে।
যেদিন ইউনুস একদল বিদেশিকে এনে সরকারে বসিয়ে দেশের স্বার্থ বিকিয়ে দেওয়ার চুক্তি চুপিচুপি করেছে।
স্বাধীন মতপ্রকাশের দায়ে প্রকৃত সাংবাদিকদের জেলে দেওয়া হয়েছে, মব করা হয়েছে, মামলা দেওয়া হয়েছে, হুমকি-ধমকি দেওয়া হয়েছে।
যেদিন মাদ্রাসাগুলোতে গণহারে বলাৎকার শুরু হয়েছে। একটি সংবাদে দেখেছিলাম, টাঙ্গাইলের একটি মাদ্রাসার ৪২ জন ছাত্রীই হুজুরদের দ্বারা ধর্ষিত।
যেদিন সবগুলো মিডিয়া হাউসে মব করে দলবাজ সাংবাদিকদের বসানো হয়েছে, প্রকৃত সাংবাদিকদের চাকরিচ্যুত করা হয়েছে, হত্যাসহ নানাবিধ মামলা দেওয়া হয়েছে।
যেদিন জুলাইয়ের নামে আসিফ নজরুলরা দেশব্যাপী নিরীহ লক্ষ লক্ষ লোকজনের বিরুদ্ধে মামলা দিয়েছে, সারা দেশে হত্যা মামলা দিয়েছে।
যখন গোপালগঞ্জ, তুরাগসহ সারা দেশে আওয়ামী লীগের নেতাকর্মীদের ওপর গণহত্যা হয়েছে। দেশের সকল মাজার ধ্বংস করা হয়েছে। শুধু জীবন্ত মানুষ নয়, কবর থেকে লাশ তুলে পুড়িয়ে ফেলা হয়েছে।
যেদিন শিল্পকলাসহ দেশের সকল সাংস্কৃতিক কর্মকাণ্ড মব দিয়ে বন্ধ করে পাকিস্তানি কাওয়ালি উৎসব চালু করা হয়েছে। যখন রাস্তাঘাটে মা-বোনদের অপদস্ত করা হয়েছে।
এই রকম অসংখ্য উদাহরণ দেওয়া যাবে।
সুতরাং জুলাইকে আপনারাই CDI করে দিয়েছেন। মেহের আফরোজ শাওন সেটা বলেছেন মাত্র।
একসময় আপনাদের কথায় দেশের অনেক মানুষ সরকারের বিরুদ্ধে রাজপথে নেমেছিল। এখন কুত্তাও নামবে না। প্রশাসনের সহযোগিতা ছাড়া রাজপথে নেমে দেখেন—শুধু জুলাই নয়, জনগণ আপনাদেরকেই CDI করে দেবে।
হেডাম থাকলে আর একবার নেমে দেখান।
কয় হালি মানুষ পান আপনাদের সাথে একবার পরীক্ষা করে দেখেন
