সাবস্ক্রাইব
সর্বশেষ খবরের সাথে আপডেট থাকুন।
Author: JoyBangla Editor
।। সেলিম জাহান।। ঈদ উল আজহা উৎসব ও আনন্দের এবং উদযাপনের, কোন সন্দেহ নেই। কিন্তু সেই আনন্দ এবং উদযাপনের সঙ্গে সঙ্গে গড়ে উঠেছে নানাবিধ অর্থনৈতিক কর্মকান্ড, যা জন্ম দিয়েছে ঈদ উল আজহার একটি অর্থনীতির। সে অর্থনীতির সঙ্গে সম্পৃক্ত নানান ব্যক্তিবর্গ এবং নানান কাজকর্ম জড়িয়ে থাকে। কিন্তু সে সব অর্থনৈতিক কর্মকান্ডের পুরোটা সুষম বা সমতাভিত্তিক, এমনটি বলা যাবে না। বরং সেগুলোর স্পষ্ট একটি বৈষম্যের দিকও আছে। উদযাপনের আনন্দে আমরা নানান সময়ে ঈদ উল আজহার বৈষম্যের দিকটা ভুলে যাই। কোরবানীর ঈদের অন্যতম ব্যয় হচ্ছে কোরবানীর পশুক্রয়। এটি ঐ ঈদের একটি অত্যন্ত ব্যয়বহুল দিক। এবং সবচেয়ে দু:খজনক ব্যাপার হচ্ছে যে কোরবানীর অন্তর্নিহিত মর্মার্থ…
যোগাযোগ অবকাঠামো খাতে ‘বিপ্লব’ ঘটানোর প্রতিশ্রুতি এসেছে বাজেট বক্তৃতায়, কিন্তু নেই—কবে, কিভাবে, কারা করবে তার কোনো স্পষ্ট পরিকল্পনা। অর্থ উপদেষ্টা সালেহ উদ্দিন আহমেদ সোমবার সংসদে বাজেট বক্তৃতায় বলেন, “আমাদের সরকার টেকসই, নিরাপদ, ব্যয় সাশ্রয়ী ও পরিবেশবান্ধব সড়ক নেটওয়ার্ক নির্মাণের প্রতিশ্রুতি হিসেবে বিদ্যমান ‘রোড মাস্টার প্ল্যান ২০০৯’ হালনাগাদকরণের উদ্যোগ গ্রহণ করেছে।” রেল খাতেও তিনি তুলে ধরেন বড় পরিকল্পনার কথা। তার ভাষায়, “৩০ বছর মেয়াদি রেলওয়ে মাস্টারপ্ল্যান অনুযায়ী রেলওয়ে ডাবল লাইনের সম্প্রসারণ, গেজ একীভূতকরণ, আধুনিক সিগন্যালিং, সমুদ্রবন্দরের সঙ্গে রেল সংযোগ, উন্নতমানের ইঞ্জিন সংযোজন এবং বৈদ্যুতিক ট্র্যাকশন চালুর উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।” এই সব বক্তব্যে ‘উদ্যোগ’, ‘প্রবর্তন’, ‘প্রতিশ্রুতি’ শব্দ থাকলেও নেই—কোন প্রকল্পে কখন কাজ…
প্রিয় দেশবাসী, আসসালামু আলাইকুম। ঈদ মোবারক। দেশ ও বিশ্বের সকল মানুষকে পবিত্র ঈদ-উল-আজহার শুভেচ্ছা জানাই। ঈদ-উল-আজহা মুসলমানদের অন্যতম প্রধান ধর্মীয় উৎসব। যথাযথ ধর্মীয় মর্যাদা ও ভাবগাম্ভীর্যের মধ্য দিয়ে ঈদ-উল-আজহা উদযাপিত হবে এবং এর ত্যাগের মহিমা আমাদেরকে আরও উদার ও মানবিক হতে শিক্ষা দিবে। ঈদ-উল-আজহার ত্যাগ ও উৎসর্গের মধ্য দিয়ে আমরা আল্লাহর সন্তুষ্টি অর্জন করবো এবং পরস্পরের নৈকট্যে আসবো বলে প্রত্যাশা করি। প্রিয় দেশবাসী, ঈদের দিন আমাদের অত্যন্ত আনন্দের দিন। কিন্তু এ বছর সেই আনন্দ প্রাণ থেকে উদযাপন করতে পারছে না দেশ ও দেশের শান্তিকামী জনতা। কারণ দেশের কোথাও জানমালের নিরাপত্তা নেই, চতুর্দিক দিক থেকে মানবিক বিপর্যয় নেমে এসেছে। মবের পাশবিক…
ঢাকা, ৫ জুন, ২০২৫ : বাংলাদেশে যুক্তরাষ্ট্রের জন্য একটি ‘ফ্রি ট্রেড জোন’ স্থাপনের প্রস্তাব দিয়েছেন মার্কিন নাগরিক, জাতীয় নিরাপত্তা উপদেষ্টা খলিলুর রহমান, যিনি রজার রহমান নামেও পরিচিত। কক্সবাজার বা টেকনাফ অঞ্চলে এই অঞ্চল গড়ে তোলার প্রস্তাব নিয়ে সম্প্রতি বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ে একটি উচ্চপর্যায়ের বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়েছে। সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা যায়, বৈঠকে উপস্থিত ছিলেন বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের উপদেষ্টা, সচিব, উপসচিবসহ বিভিন্ন ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা। বৈঠকের মূল আলোচ্য বিষয় ছিল মার্কিন সরকারের পারস্পরিক ৩৪ শতাংশ পর্যন্ত শুল্ক আরোপের প্রেক্ষিতে কীভাবে দুই দেশের মধ্যে বাণিজ্য বাড়ানো যায়। জাতীয় নিরাপত্তা উপদেষ্টার যুক্তি, যুক্তরাষ্ট্র থেকে পণ্য আনতে ৫০ দিনের বেশি সময় লাগে। ফলে তাৎক্ষণিক বাজার চাহিদা মেটাতে বাংলাদেশে…
।। আলি শরিয়তি উবাচ।। সোনার বাংলায় আজ শ্মশানের আতঙ্ক। ঘর থেকে বেরিয়ে অক্ষত ফিরে আসার আশা নাই। তথাকথিত জুলাই কর্মীদের চক্ষুশূল হলে তো কথাই নেই। জান নিয়ে চলা ভীষণ বিপদের। পদে পদে যেন মৃত্যু ওঁৎ পেতে আছে জনপদে জনপদে। মহানগর থেকে গ্রাম, সর্বত্র এক হিমধরা ভয় গ্রাস করেছে বাংলাদেশকে। এক বছর আগেও যে দেশকে বিশ্ববাসী প্রবৃদ্ধির বিস্ময় হিসেবে সমীহের চোখে দেখত, মাত্র নয় মাসের ধ্বংসযজ্ঞে দখলদার ড. ইউনূস সেই দেশকে আফগানিস্তান, ইরাকের গন্তব্যে নিয়ে যাচ্ছেন। যেই ম্যাজিকের মরীচিকার পেছনে দেশের তরুণ, কোমলমতি শিক্ষার্থীদের তিনি চালিত করেছেন তাদের চোখে আর স্বপ্ন নেই। ধূসর অন্ধকার গ্রাস করছে তাদের ভবিষ্যতকে। থেমে গেছে নারীর…
২০২৫ সালের মে মাসে দেশের ১৫টি জাতীয় দৈনিক পত্রিকায় প্রকাশিত সংবাদের ভিত্তিতে নারী ও কন্যা নির্যাতনের উদ্বেগজনক চিত্র তুলে ধরেছে বাংলাদেশ মহিলা পরিষদের কেন্দ্রীয় লিগ্যাল এইড উপ-পরিষদ। তথ্য বিশ্লেষণে দেখা গেছে, এ সময়কালে মোট ১৮৪ জন নারী ও কন্যা বিভিন্ন ধরনের সহিংসতা ও নির্যাতনের শিকার হয়েছেন। এর মধ্যে ৭৫ জন কন্যাশিশু এবং ১০৯ জন নারী অন্তর্ভুক্ত। ধর্ষণের শিকার হয়েছেন মোট ৪৫ জন, যার মধ্যে ৩১ জন কন্যাশিশু। ৭ জন (এর মধ্যে ৬ জন কন্যা) দলবদ্ধ ধর্ষণের শিকার হয়েছেন। ধর্ষণের পর হত্যা করা হয়েছে ৪ জনকে, যার মধ্যে ৩ জন কন্যা। ধর্ষণের চেষ্টা করা হয়েছে ১৪ জনের ওপর, যার মধ্যে ১১…
মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পকে খুশি করতে বাংলাদেশের ২০২৫-২০২৬ অর্থ বছরের বাজেটে ১১০টি পণ্যের শুল্ক কমিয়েছে বাংলাদেশ সরকার। যুক্তরাষ্ট্র থেকে পণ্য আমদানি আরও সাশ্রয়ী করতে ১১০টি পণ্যের আমদানি শুল্ক সম্পূর্ণ প্রত্যাহার করার কথা বলা হলেও এটা মূলত ট্রাম্প প্রশাসনকে খুশি করতেই ব্যবস্থা রাখা হয়েছে বলে মনে করেন অর্থনীতিবিদরা। বিশ্ব বাণিজ্য সংস্থার (ডব্লিউটিও) নিয়ম অনুযায়ী এই শূন্য শুল্ক বা ছাড় বিশ্বের অন্যান্য দেশের ক্ষেত্রেও প্রযোজ্য হবে। সোমবার বাজেট উপস্থাপনকালে অর্থ উপদেষ্টা ড. সালেহউদ্দিন আহমেদ জানান, যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে বাণিজ্য সংলাপের প্রস্তুতি ও আমদানি ব্যয় হ্রাসের লক্ষ্য নিয়ে শুল্ক ছাড়ের এই উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। প্রস্তাব অনুযায়ী, ১১০টি পণ্যের আমদানি শুল্ক প্রত্যাহার ছাড়াও ৬৫টি পণ্যে…
বাংলাদেশ নামটি আজ শুধু একটি রাষ্ট্রের নাম নয়, এটি আমাদের পরিচয়, আত্মমর্যাদা, এবং অস্তিত্বের প্রতীক। এই নামটি প্রস্তাব করেছিলেন যিনি, যিনি কল্পনায় এঁকেছিলেন স্বাধীন বাংলার মানচিত্র তিনি জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান। তাই বলতে দ্বিধা নেই, বাংলাদেশ মানেই বঙ্গবন্ধু।কিন্তু দুঃখজনক বাস্তবতা হলো, আজও কিছু অপশক্তি, পাকিস্তানি ভাবধারার দোসররা বঙ্গবন্ধুর নাম ইতিহাস থেকে মুছে ফেলার চেষ্টা করছে। তারা বুঝে না, বঙ্গবন্ধু শুধু একজন ব্যক্তি নন, তিনি একটি আদর্শ, একটি চেতনা, একটি জাতির আত্মার নাম।১৯৭১ সালের মহান মুক্তিযুদ্ধ ছিল দীর্ঘ রাজনৈতিক সংগ্রামের চূড়ান্ত রূপ। সেই সংগ্রামের নেতৃত্বে ছিলেন বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব। ‘ছয় দফা’ ছিল স্বাধীনতার রূপরেখা, তার কণ্ঠ ছিল বাংলার মুক্তির…
বাংলাদেশের ইতিহাসে ২০২৫ সালের ৩ জুনের তারিখটি মনে রাখবে এই দেশের মানুষ—একটি রাষ্ট্র তার আত্মার চিহ্ন মুছে ফেলেছিল যেদিন, এক অধ্যাদেশ জারি করে। বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান, সৈয়দ নজরুল ইসলাম, তাজউদ্দীন আহমদ—এই নামগুলো শুধু ব্যক্তি নয়, একেকটা স্বাধীন বাংলাদেশের স্তম্ভ। সেই স্তম্ভে হাত দেওয়ার স্পর্ধা দেখিয়েছে যে গোষ্ঠী, তারা আসলে এই দেশের শত্রু বললে কম বলা হয়। তারা এই দেশের খোলস পরে এমন এক বিকৃত আত্মা বহন করে, যার উৎস ১৯৭১ সালের পরাজিত শক্তি, পাকিস্তানি ভাবাদর্শ আর তাদের বিদেশি দাতারা। এই যে অধ্যাদেশ জারি করে মুক্তিযুদ্ধের নেতা ও প্রবাসী সরকারের নীতিনির্ধারকদের মুক্তিযোদ্ধা পরিচয় মুছে ফেলা হলো—এটা নিছক কোনো প্রশাসনিক সিদ্ধান্ত…
“আমাদের সর্বনাশ হয়ে গেছে।”এই বাক্যটি এখন আর কোনো আবেগনির্ভর প্রতিক্রিয়া নয় এটা বাস্তবতার নগ্ন স্বীকারোক্তি।আমরা যারা এদেশকে ভালোবাসি, যাদের শিকড় এই মাটিতে, তাদের জন্য আজকের বাংলাদেশ এক অচেনা উপাখ্যান।একদিন হঠাৎ টের পেলাম এই দেশটা আর আমাদের নেই।আমাদের চোখের সামনেই বদলে গেছে সবকিছু নীতিনৈতিকতা, প্রশাসন, বিচার, শিক্ষা, গণমাধ্যম, এমনকি মানুষের চিন্তাভাবনাও।কিন্তু আমরা বুঝতেই পারিনি কখন এই দেশ হাতছাড়া হয়ে গেছে।আজ আমাদের চিন্তাটাও আমাদের নয়।আমাদের স্বপ্ন, আমাদের আকাঙ্ক্ষা, আমাদের ভবিষ্যত পরিকল্পনা সবই নিয়ন্ত্রিত হয় এমন এক অদৃশ্য শক্তির দ্বারা যারা আমাদের হয়ে কথা বলে, কিন্তু আমাদের কণ্ঠ নয়।তারা আমাদের হয়ে সিদ্ধান্ত নেয়, কিন্তু আমাদের জীবনের কোনো দায় নেয় না।”আমাদের সর্বনাশ হয়ে গেছে,”কারণ…